প্রেসবিজ্ঞপ্তি

রাজধানী ঢাকার হোলি আর্টিজেন হামলার একমাত্র প্রতিবাদকারী ছিলেন ফারাজ আইয়াজ হোসেন। হামলাকারী জঙ্গিরা সেদিন ফারাজকে চলে যেতে বলেছিলেন, কিন্তু তিনি বন্ধুদের মৃত্যুর মূখে রেখে একা চলে যেতে রাজি হননি।জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করে গেছেন-শান্তি ও সৌভ্রাতৃত্বই আমাদের আদর্শ। তাঁর এই আত্মদান বৃথা যায়নি। দেশের মানুষ ফারাজের আত্মত্যাগ কোনো দিন ভুলবে না।

হোলি আর্টিজানে হামলার তিন বছর এবং ফারাজ আইয়াজ হোসেনের স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল সোববার বিকালে কক্সবাজার শহরের আলীরজাহানস্থ ‘ট্রান্সকম ডিস্টিবিউশন কোম্পানী লি:’ এর কার্যালয়ে অনুষ্টিত হয়েছে। সেখানে বক্তারা সাহসি তরুণ ফারাজ আইয়াজ হোসেনের স্মৃতিকথা তুলে ধরেন।

ট্রান্সকমের কক্সবাজার আঞ্চলিক শাখা ব্যবস্থাপক ফারুক হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্টিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন, প্রথম আলো কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান আব্দুল কুদ্দুস রানা, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যাল লি. কক্সবাজারের আঞ্চলিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক একেএম ফজলুল্লাহ, আন্তর্জাতিক রেস্টুরেন্ট ‘কেএফসি’র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এমডি সাজ্জাদ, ‘পিৎজা হাট’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজু আহমেদ প্রমুখ।

মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন, আলীরজাহাল জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আজিজুল হক।দোয়া মাহফিলে স্থানী বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে হোলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলায় স্তব্দ হয়ে গিয়েছিল দেশের মানুষ। ইসলামিক ষ্টেট বা আইএস সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা সেদিন কুপিয়ে ও গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ২২ জনকে। এরমধ্যে বহু বিদেশি ওই হামলার শিকার হওয়ায় তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।এর মধ্যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন একমাত্র তরুণ ফারাজ আইয়াজ হোসেন।বন্ধুদের জন্যই সেদিন তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

সাহসী তরুণ ‘ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশন’ কাজ করছে আর্তমানবতার সেবায়। ২০১৬ সালে তারা প্রবর্তন করে ‘ফারাজ হোসেন সাহসিকতা পুরস্কার’। আগামী ২০ বছর চলবে এ পুরস্কার। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সনদের পাশাপাশি পাচ্ছেন ১০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়াও ফারাজ স্মরণে দেশব্যাপী চলছে নানা সামাজিক কাযক্রম ও উদ্যোগ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •