মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে আগামীর পথচলার অনুপ্রেরণা হিসাবে নিয়ে নব প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার ডিসি কলেজ এগিয়ে যাবে। একজন ভাল শিক্ষার্থীর জন্য শুধুমাত্র জিপিএ-৫ পাওয়া তার লক্ষ্য ও উপাদান হতে পারেনা। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে হলে নিঃসন্দেহে আরো কিছু মৌলিক অনুসঙ্গ থাকতে হয়। যেমন-দেশকে ভালবাসতে হবে, গুনীজনকে কদর করতে হবে, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে লালান করতে হবে ইত্যাদি। কক্সবাজার ডিসি কলেজ সেই পরিপূর্ণ মানুষ তৈরীর কারখানা হিসাবে কাজ করবে ইনশাল্লাহ। সেজন্য ডিসি কলেজে সিলেবাসভুক্ত পড়ালেখার পাশাপাশি ডিবেট ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, সাইন্স ক্লাব, আইসিটি ক্লাব, প্রার্থনা কক্ষ সহ আরো অনেক প্রয়োজনীয় সুবিধাদি থাকবে।
সোমবার ১ জুলাই কক্সবাজার ডিসি কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন-ফেসবুক যাতে আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়াকে ধ্বংস করতে না পারে সে দিকে অভিবাবকদের সবসময় নজর রাখতে হবে। সীমিত আকারে ফেসবুক, নেট ব্যবহার করতে হব। প্রয়োজনে পড়ালেখার সময় সন্ধ্যার পর সন্তানদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন অভিবাবকেরা নিয়ে ফেলতে হবে। তিনি অভিবাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন-আপনাদের সন্তানদের কলেজে লেখা পড়ার বিষয়ে কোন চিন্তা করতে হবেনা। অন্য যে কোন সমস্যায়ও আমরা তাদের পাশে থাকবে। তবে আপনার সন্তান বাড়ি থেকে বের হয়ে কলেজে আসছে কিনা, নাকি কলেজে আসার অজুহাতে অন্য কোথাও গিয়ে আড্ডা করছে, বাড়িতে পড়ালেখা করছে কিনা, কলেজে ভাল ফলাফল করছে কিনা-এসব কিছু গুরুত্ব সহকারে আপনাদের তদারকি করতে হবে। তাই অভিবাবকদের অবশ্যই সন্তানের দিকে নজর রাখতে হবে এবং কলেজের সাথেও যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। এইচএসসি পড়া অবস্থায় সন্তানদের বিয়ে শাদীর আয়োজন নাকরার অনুরোধ জানিয়ে ডিসি মোঃ কামাল হোসেন বলেন- এই কলেজের কোন শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে হলে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। তিনি বলেন-কক্সবাজার ডিসি কলেজে ইতিমধ্যে ৫৬ জন ছাত্র-ছাত্রী অনলাইনে ভর্তি হয়েছে। আরো ১৬ জন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মোট ৭০ জনের বেশী ছাত্র-ছাত্রী কক্সবাজার ডিসি কলেজে ভর্তি করানো হবেনা। ৭ জন শিক্ষক ১০ জন করে ছাত্রের গ্রুপ করে তাদের তদারকির দায়িত্ব নেবে। তিনি বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ এডমিশন ফি, বই, ড্রেস সহ প্রায় সবকিছু ফ্রি দিচ্ছে। দুনিয়াটা হচ্ছে-দেওয়া আর নেওয়ার ব্যাপার। তাই আমরা সম্ভব অনেক কিছু ফ্রি দিচ্ছি, আরো দেব, যেমন-আগামী ৬ মাসের মধ্যে পরিবহন সুবিধা দেব। কিন্তু বিনিময়ে ছাত্র-ছাত্রীরও সেভাবে পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হয়ে ভাল ফলাফল করে এই কলেজ দেশের শ্রেষ্ঠ কলেজে পরিনত করতে হবে। তিনি বলেন-শুধুমাত্র আগামী দু’বছর একটু কষ্ট করে মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করতে হবে। এরপর তোমরা কোথায় যাবে, তোমাদের গতি প্রকৃতি কি হবে, সেটা তোমাদের ফলাফলই তোমাদের বলে দেবে। তিনি অভিবাবকদের উদ্দ্যেশে বলেন, আপনাদের সন্তানদের আমাদের উপর আস্থা রেখে নব প্রতিষ্ঠিত কক্সবাজার ডিসি কলেজে ভর্তি করিয়েছেন। আমরা আপনাদের বিশ্বাসের সে মর্যাদা রাখবো ইনশাল্লাহ।
কক্সবাজার ডিসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাঃ শাজাহান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা করেন-কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম, অধ্যাপক সোমেশ্বর চক্রবর্তী, সিনিয়র সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার সিভিল সোটাইটির সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী, পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ, কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, সিআইপি সালাহ উদ্দিন আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও এডিএম মোহাঃ শাজাহান আলি একঝাঁক মেধাবী শিক্ষার্থীদের আত্মপ্রত্যয় ও তরুন শিক্ষকদের মনোবল নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই কলেজের মূল ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক সরন্ঞ্জাম ও মানসম্মত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই এই কক্সবাজার ডিসি কলেজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক সমাজগঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে ইনশাল্লাহ। বক্তৃতা শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •