চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ও স্বল্প প্রচারিত  ‘দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ’ পত্রিকায় গত ২৬ জুন ‘সৌদি আরবে ইয়াবা নিয়ে আটক দুই যুবকের পেছনে রয়েছে আরো রাঘব বোয়াল’ শীর্ষক প্রকাশিত খবরের একাংশে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমি তৈয়বউল্লাহ ও আমার ভাই মুন্নাকে জড়ানোর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। খবরটি পড়লেই বুঝা যাবে যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক আমাদের দুই ভাইকে ইয়াবাকান্ডে জড়িত করার জন্য নানা কাল্পনিক ঘটনার অবতারণা করেছেন। সংবাদে তিনি দাবি করেছেন, গত ২৪ এপ্রিল সূদুর সৌদি আরবে ইয়াবা নিয়ে পিএমখালী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াপাড়ার মৌলভী বদিউলমের পুত্র আনিছুর রহমান বাপ্পী ও ঝিলংজা ইউনিয়নের মুহুরীপাড়ার আবদুস শুক্কুরের পুত্র খোরশেদ আলম নামের দুই যুবক ধরা পড়ে। সেই ইয়াবাগুলো নাকী খোরশেদকে দিয়েছিল শহরের দক্ষিণ রুমালিরছড়ার সোহাগ নামের এক যুবক। আর সোহাগ নামের যুবকটিকে নাকী ইয়াবাগুলো দিয়েছিলাম আমি তৈয়ব ও আমার ভাই মুন্না। আর সোহাগ নামের যুবকটি নাকী জানত না- প্যাকেটের ভেতরে কি ছিল! নাটকীয়তার এখানেই শেষ নয়। প্রতিবেদক তার কল্পনাপ্রসূত ভাষায় আরো লিখেছেন যে, আমি তৈয়ব নাকী লোহাগাড়া পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ ধরাও পড়েছিলাম। তবে কত তারিখে কী পরিমাণ ইয়াবাসহ ধরা পড়েছিলাম, সেই কথা প্রতিবেদক উল্লেখ করেননি। আসলে খবরটি আগাগোড়া পড়লেই বোঝা যাবে, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজারের কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়ার (ঘটনা শুনেছি, তবে নিশ্চিত নই) ঘটনাকে পুঁজি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক আমাদের মতো কিছু নিরপরাধ ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানকে টার্গেট করেছে। প্রতিবেদক তার খবরের সূত্র হিসাবে কথিত বিশেষ সংস্থা ও সৌদি আরবে ধরা পড়া খোরশেদ আলমের পিতামাতার বরাত দিয়েছে। অথচ খোরশেদ আলম ও সোহাগ (তার পিতার নাম প্রতিবেদক উল্লেখ করেননি) নামের কারো সাথে আমাদের কখনও পরিচয় ছিল না। তবু সংবাদে কৌশলে জড়ানো হয়েছে আমাদের দুই ভাইকে।
জড়ানোর উদ্দেশ্য হল, আমাদের ব্লেকমেইলিং করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা এবং ইয়াবা অপবাদে আমাদেরকে সামাজিকভাবে হেয় করা। আসলে আল্লাহ আমাদেরকে যে সম্পদ দান করেছেন, তা দিয়ে ভালভাবেই আমরা জীবন যাপন করতে পারি। ইয়াবার মতো ধর্মবিরোধী, সমাজবিধ্বংসী ও ঘৃণ্যতম কোন কাজে জড়িত হয়ে সম্পদ অর্জনের কোন প্রয়োজন নেই আমাদের। আমাদের পিতা মাওলানা মনছুর আহমদ শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৮ সালে গোল্ড মেডেলসহ ফাযিল পাশ করেন। এরপর ওই বছরই তিনি বিয়ে করে ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে পাড়ি দেন। সেখানে তাঁর দোকানসহ কন্সট্রাকশন ব্যবসা ছিল। আর তাঁর ব্যবসায় অর্জিত সকল অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধ পথে দেশে পাঠান। ২০১৫ সালে তিনি চূড়ান্তভাবে দেশে ফিরে আসার আগে ৩৭-৩৮ বছর ধরে সৌদি আরব থেকে কত কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, সেই তথ্য ব্যাংকের কাছে যেমন সংরক্ষিত আছে, তেমনি আছে আমাদের কাছেও। সুতরাং আমরা মাত্র কয়েক বছরেই বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছি- একথা ঈর্ষান্বিত গোষ্ঠীর অপপ্রচার ও অপবাদ মাত্র।
এ উদ্দেশ্য প্রণোদিত খবরটি ছাপানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক আমাদের বাসায় গিয়ে একটি কার্ড দিয়ে এসেছিলেন। কার্ডের নম্বর ধরে ফোন করলে প্রতিবেদক আমাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইয়াবা অভিযোগ আছে বলে জানান। এ ঘটনা আমি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করলে তিনি আমাকে তার সাথে দেখা করতে বলেন। আমি প্রতিবেদকের সাথে দেখা করার অপ্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তাকে তদন্তসাপেক্ষে ও প্রমাণসাপেক্ষে খবর প্রকাশের অনুরোধ করি। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর খবরটি প্রকাশিত হলে প্রতিবেদক বিভিন্ন চ্যানেলে আমার বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি জানান। এরপর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের সাথে দেখা করলে তিনি আমার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেন। আমি কোন অন্যায় কাজে অর্থ দিতে অস্বীকার করি।
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক ও প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের প্রতি ব্যবস্থা গ্রহণের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

নিবেদক
তৈয়ব উল্লাহ
পিতা. মাওলানা আবুল মনছুর
সাং পিএমখালী মোহছেনিয়া পাড়া, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •