মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

নতুন মাদক আইনে মাদককারবারের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) এর বিচারক অর্থাৎ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে। ফলে নতুন ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’-এর কয়েকটি ধারার অপরাধের শাস্তি এখন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ দিতে পারবেন। এ জন্য আইনের যেসব অপরাধের কারাদন্ড সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত-এমন কয়েকটি ধারা ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এর তফসিলে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে পুরোনো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিবর্তে নতুন আইনের ৩৬ ধারার স্বরনীর ক্রমিক ১৬, ১৭, ২১, ২৫ ও ৩২ এবং উপ-ধারা (৫) ও (৬) অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে কারাদন্ডের সর্বোচ্চসীমা ২ বছর সেগুলোও যুক্ত করা হয়েছে।
তাছাড়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৯ ও ধারা ৪২ এর উপ-ধারা (১)ও মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ধারায় কোকেন, হেরোইন, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘ক’ তফসিলের মাদকদ্রব্য সেবন বা ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এবিষয়ে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন প্রথম দিকে আইনটি খসড়া থাকাবস্থায় মৃদু আপত্তি জানালেও বাস্তবতার নিরিখে পরে এসোসিয়েশন তাদের আপত্তি প্রত্যাহার করে নেন বলে বিশ্বস্থ সুত্র সিবিএন-কে জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, আইন অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২ বছরের বেশি সাজা দেওয়ার এখতিয়ার বিচারক অর্থাৎ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •