: মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

উনিশ’শ বাষট্টি সালের ৩০ জুন। তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সিকদার পাড়া গ্রামে সম্ভ্রান্ত মৌলভী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি শিশু। যে শিশুটির পিতা মৌলভী ছাঈদুল হক ও মাতা বেগম আয়েশা হক আদর করে নাম রেখেছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। এই শিশু সালাহ উদ্দিন আহমদের পিতামহ ছিলেন মৌলভী আবদুল আলী ও মাতামহ ছিলেন হাকিমন। যে সালাহ উদ্দিন আহমদ নিজে একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি দৃষ্ঠান্ত, অসংখ্য রেকর্ড সৃষ্টকারী, কক্সবাজার জেলাবাসীর গৌরবের একটি উৎস হিসাবে স্থান করে নিয়েছেন। এই ক্ষনজম্মা শিশুটি প্রাথমিক পর্যায়ের পড়ালেখা শেষ করে কিশোর সালাহ উদ্দিন আহমদ পেকুয়ার শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় হতে রেকর্ড সংখ্যক নম্বর পেয়ে ১৯৭৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর থেকে যুবক সালাহ উদ্দিন আহমদের আর পেছনে তাকানো নয়। শুধু সামনেই চলা আর চলা। চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ কলেজ চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে কৃতিত্বের সাথে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন ১৯৮০ সালে। আইন বিষয়ে লেখাপড়া করার উদ্দেশ্য ছিল গণমানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা। নির্যাতিত, নিপীড়িত, অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে আইনী সহায়তা দেয়া। বাংলার অজোপাড়া গাঁয়ে জম্ম নেয়া মেধাবী সালাহ উদ্দিন আহমদ এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে এগোতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএলবি (সম্মান) ও ১৯৮৬ সালে এলএলএম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় কৃতিত্বের সাথে। একই সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিয়ে এডভোকেটশীপ সনদ লাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি সহ সফলতার সাথে আরো বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপালন করেন। কিছুদিন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের দায়িত্বে থাকাকালে স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন অনেকবার। সরকারি চাকুরীর বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় ও বুনিয়াদী ক্যাডার হিসাবে পরিচিত ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় ১৯৮৫ সালে অংশ নিয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বিসিএস (প্রশাসন) চাকুরীতে যোগদান করেন। বগুড়া জেলা প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসাবে দায়িত্বপালনকালে ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসাবে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এপিএস হিসাবে দায়িত্বপালনকালে দেশপ্রেমী, উন্নয়নপাগল সালাহ উদ্দিন আহমদ কক্সবাজার জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পাদন করেন। সরকারী চাকুরীর সীমাবদ্ধতার কারণে সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রত্যাশিত জনসেবায় নিজেকে যুক্ত করতে না পেরে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে লোভনীয় এই সরকারি চাকুরী থেকে ইস্তফা দেন। দূরদর্শী, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও বিস্ময়কর প্রতিভাসম্পন্ন সালাহ উদ্দিন আহমদ তখন থেকে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে নেমে পড়েন। এরপর ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) থেকে বিজয়ের হেট্টিক করে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একটানা তিনবার কক্সবাজার-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেন। সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করেন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনের পর চারদলীয় জোট দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে সালাহ উদ্দিন আহমদ ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর মন্ত্রীপরিষদে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার ইনচার্জ মিনিস্টার হিসাবেও দায়িত্বপালন করেন তিনি। সালাহ উদ্দিন আহামদই একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হয়ে স্বাধীনতাত্তোর কক্সবাজার জেলা থেকে সর্বপ্রথম মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি ছাড়া আর কোন রাজনীতিবিদ এখনো পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা থেকে মন্ত্রী হতে পারেননি। সালাহ উদ্দিন আহমদ বৃহত্তর চকরিয়া থেকে কিছু অংশ আলাদা করে ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘পেকুয়া’ নামক একটি আলাদা উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেন। যেটি ছিল একটি নতুন ইতিহাস। এদেশের আইন অনুযায়ী কোন জেলায় ৮ টি উপজেলা থাকলে সে জেলাটি প্রশাসনিকভাবে ‘এ’ গ্রডের জেলা হয়। পেকুয়া উপজেলা হওয়ার আগে কক্সবাজার জেলায় উপজেলার সংখ্যা ছিল ৭ টি। পেকুয়া আলাদা একটি উপজেলা হওয়ার মাধ্যমে কক্সবাজার জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা হয় ৮ টি। ফলে কক্সবাজার জেলা ‘এ’ ক্যাটাগরীর জেলায় রূপান্তর হয় এবং কক্সবাজার জেলাবাসী প্রথম শ্রেণির জেলার নাগরিক হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এটাও ছিল সালাহ উদ্দিন আহমদের হাতে গড়া একটা রেকর্ড। সালাহ উদ্দিন আহমদ পেকুয়াকে শুধু উপজেলায় রূপান্তর করে থেমে থাকেননি। তিনি পেকুয়ায় প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো, আধুনিক স্থাপনা ও উন্নয়ন করেছেন পরবর্তী সাড়ে চার বছরে। যা এখন দৃশ্যমান ও সুফল ভোগ করছে সকলে। ওয়ান ইলাভেন সরকার গঠনের পর সরকার মেধাবী রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তার করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের ধারবাহিকতায় সালাহ উদ্দিন আহামদকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে, তিনি নিজেই ২০০৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তখন থেকে ২ বছর ২ মাস ওয়ান ইলাভেন সরকারের কারাগারে বন্দী থেকে ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ তিনি কারামুক্ত হন। সালাহ উদ্দিন আহমদ কারাগারে থাকাবস্থায় এরমধ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তাঁর সহধর্মিনী এডভোকেট হাসিনা আহমেদ কক্সবাজার-১ আসনে চারদলীয় জোটের মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নিজে একই আসন থেকে পরপর তিনবার বিজয়ী হয়ে, চতূর্থবার কারাগারে থেকে নিজের সহধর্মিনীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করা-সেটাও একটা ছিল ইতিহাস। সালাহ উদ্দিন আহামদ ১৯৯৬ সালে প্রথমে কক্সবাজার কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এবং পরে পর পর দু’বার কাউন্সিলের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি সভাপতি থাকাবস্থায় কক্সবাজার জেলা বিএনপি একটি আদর্শ ও আধুনিক সংগঠনে রূপ নেয়। কক্সবাজার পরিনত হয় সুসংগঠিত বিএনপি’র দুর্ভেদ্য একটি সাংগঠনিক জেলায়। পরে ২০১০ সালে বিএনপি’র জাতীয় কাউন্সিলে সালাহ উদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্মমহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ভারতের মেঘালয়ের সিলং শহরে নির্বাসিত থাকাবস্থায় বিএনপি’র সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। সালাহ উদ্দিন আহামদই প্রথম, যিনি বিএনপি’র মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কক্সবাজার জেলা থেকে প্রথমে যুগ্ম মহাসচিব ও পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। যে দু’টি পদে আসীন হয়ে সালাহ উদ্দিন আহামদ আরো দু’টি রেকর্ড গড়ছিলেন।এভাবে আরো অসংখ্য রেকর্ড সৃষ্টি করে সমৃদ্ধ করেছেন কক্সবাজার জেলার ইতিহাস।


২০১৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সময়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র মুখপাত্র হিসাবে সফলভাবে দায়িত্বপালনকালে ২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকাস্থ উত্তরার একটি বাড়ী থেকে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয়ে অচেনা মুখোশধারী অপহরনকারীরা সালাহউদ্দিন আহমদকে চোখ বেঁধে গুপ্ত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। তখন থেকে দীর্ঘ ৬২ দিন অজ্ঞাত স্থানে গুম অর্থাৎ নিখোঁজ থাকার পর একই বছরের ১১ মে মৃত্যুন্ঞ্জয়ী নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ’কে সর্বপ্রথম মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এর গলফ লিংক মাঠে পাওয়া যায়। সেখান থেকে তাঁকে প্রথমে শিলং মানসিক হাসপাতালে, পরে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে শিলং এর বিশেষায়িত হাসপাতাল নিমগ্রিসে ভর্তি করানো হয়। মেঘালয় রাজ্যের পুলিশ ২০১৫ সালের ৩ জুন ভারতে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগ এনে বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারায় সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরে শিলং জেলে পাঠানো হয়। শিলং শহর ছেড়ে না যাওয়ার শর্তে বিজ্ঞ আদালত পরে সালাহ উদ্দিন আহমদকে জামিন প্রদান করেন। তখন থেকে নির্বাসিত অবস্থায় দীর্ঘ ৪ বছরেরও বেশী সময় ধরে খাসিয়া খ্রীষ্টান অধ্যুষিত এলাকা শিলং শহরে বিন্ঞ্চপুর ‘সানরাইজ গেষ্ট হাউজ’ নামক একটি দোতলা ভাড়া বাড়ীতে তিনি বসবাস করে মামলা পরিচালনা করে আসছেন। মামলা দায়েরের পর মেঘালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ২২ জুলাই মামলার চার্জশীট দেয়া হয়। চার্জশীটে “সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা এড়াতে উদ্দ্যেশ্য প্রনোদিতভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়”। এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর সালাহউদ্দিন আহমেদকে বেকসুর খালাস প্রদান করে শিলং আদালতের প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ডিজি খার সিং রায় ঘোষনা করেন। প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের এই রায়ে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি’কে সালাহ উদ্দিন আহমদকে দ্রুততম সময়ে সমস্ত রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হস্তান্তর করার জন্য বিচারক নির্দেশ দেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ আদালতের রায় অনুযায়ী সে দেশের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনি গত ২৭ এপ্রিল সালাহউদ্দিন আহমেদ শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের একটি নোটিশ পান। যে নোটিশে সালাহ উদ্দিন আহমেদ নিম্ম আদালত থেকে বেকসুর খালাস পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপীল করেছে, উল্লেখ করে আপীল মামলায় জেলা ও দায়রা জজ তাঁকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। সালাহ উদ্দিন আহমদ গত ১ মে ও পরে শিলং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপীল মামলায় যথারীতি হাজিরা দিয়ে আসছেন। একটি সুত্র মতে, ম্যাজিস্ট্রেট আদলত থেকে এই মামালার নথি ও সব ডকুমেন্ট দায়রা জজ আদালতে তলব করা হয়েছে। এ আপীল মামলাকে সালাহ উদ্দিন আহমেদ তাঁর বিরুদ্ধে চলমান গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ আপীল মামলার কারণে সালাহউদ্দিন আহমেদের সহসায় আর দেশে ফেরা হচ্ছেনা। তবে কক্সবাজারের রাজনীতির বরপুত্র মৃত্যুন্ঞ্জয়ী লড়াকু সালাহউদ্দিন আহমেদ তাঁকে প্রদত্ত বেকসুর খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দায়েরকৃত আপীল মামলা আইনীভাবে মোকাবেলা করে স্বদেশে ফেরার ব্যাপারে সিবিএন-এর কাছে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


নিজ আসন কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) তে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার অধিকারী দুঃসাহসী সালাহ উদ্দিন আহমদ জীবনসঙ্গী হিসাবে বেচে নিয়েছেন ঢাকা শহরের বুনিয়াদী পরিবারের সিকান্দর আহমেদ ও সাবিহা আহমেদের কন্যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে বিষয়ে এলএলবি সম্মান ও এলএলএম করা হাসিনা আহমেদকে। ১৯৮৮ সালের ২০ অক্টোবর তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হাসিনা আহমেদ এলএলএম করার পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দিয়ে এডভোকেটশীপ সনদ লাভ করেন। হাসিনা আহমেদ এডভোকেটশীপ সনদ লাভের পরও সংরক্ষনবাদী মৌলভী পরিবারের গৃহবধূ হওয়ায় তিনি নিয়মিত আইন পেশা চালিয়ে যাননি। এডভোকেট হাসিনা আহমেদ নিজ পরিবারের সদস্যদের মতো আপন করে নিয়েছেন চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষকে। চকরিয়া-পেকুয়ার মাটি ও মানুষের সাথে মিশে গিয়ে একাত্ম হয়ে গেছেন এই অধম্য সাহসী জানবাজ হাসিনা আহমেদ। তিনি নিজেকে চকরিয়া-পেকুয়া এলাকার একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে পরিচয় দিতে খুবই গর্ববোধ করেন। এডভোকেট হাসিনা আহমদও বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পর পর দু’বারের সদস্য। সালাহ উদ্দিন আহমদ ও এডভোকেট হাসিনা আহমদ দম্পতি’র ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের গর্বিত জনক ও জননী। তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজে ম্যাকানিক্যাল ইন্ঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এমএসসি করছেন, প্রথম কন্যা ফারমিস আহমেদ ইকরা লন্ডনে স্নাতকোত্তর পড়ালেখা করছেন, দ্বিতীয় কন্যা ফারিবা আহমেদ রায়দা কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিষয়ে স্নাতকে অধ্যায়নরত ও কনিষ্ঠ পুত্র সৈয়দ ইউসুফ আহমেদ কানাডার মেগ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্সে অধ্যায়নরত। কক্সবাজারের উন্নয়নের ফেরিওয়ালা ও জনপ্রিয়তায় হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা নামে খ্যাতি পাওয়া কক্সবাজারবাসীর ভালবাসার মানসপুত্র মৃত্যুন্ঞ্জয়ী সালাহ উদ্দিন আহমদের ৫৭ তম জন্মবার্ষিকীতে জানাচ্ছি অফুরান শুভেচ্ছা। যেখানেই থাকুন, ভাল থাকুন সবসময় ‘দি প্রিন্স অব কক্সবাজার’।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •