সংবাদদাতাঃ

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের বান্ডি সিকদারপাড়ায় পিতা মোঃ হুসাইনের দায়ের করা মামলায় আসামি হলো নিজের পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য আনছার ও পুত্রবধূসহ ৫ জন।
ডাকাতির অভিযোগে কক্সবাজার জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালতে গত ২৪ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- সিআর ৪৯/২০১৯।
মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে মহেশখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, মামলার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি, ডাকাতির অভিযোগে নিজের পুত্র, পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলাটি অনেকের জন্য হাসির খোরাক জুগিয়েছে।
আদালতে দায়ের করা এজাহারে বাদি দাবি করেন, গত বছরের ৭ মার্চ বিকাল ৫ টার দিকে নিজের পুত্র (সাবেক ইউপি সদস্য) আনছার ও পুত্রবধূসহ ৫ জন তার বাড়িতে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। এসময় ৩য় সন্তান আবছার উদ্দিন বাঁধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ টাকাসহ স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, ওয়ারিশী সম্পদ বেশিরভাগ ভোগ দখল করতেছে আনছারের ছোট ভাই আবছার। নিজের দখল স্বত্ব নিশ্চিত রাখতে পিতাকে মিথ্যা মামলায় বাদী হিসেবে ব্যবহার করেছে।
বাদীর ভাতিজা আবুল কাছিমের ছেলে জসিম উদ্দিন জানান, বাড়ীর মালামাল লুটপাট তো দুরের কথা, তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়নি। তবে, আনছারের সাথে পিতার মনিমালিন্য রয়েছে। সেটি কাজে লাগিয়েছে অপর ভাই আবছার। তিনি মামলা দখলবাজিতে খুব ফটো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে মাতারবাড়ীর ২ নং ওয়ার্ড বান্ডি সিকদার পাড়া গত ২ জুন (বুধবার) তদন্ত করেছেন মহেশখালী থানার পুলিশের একটি টিম। তবে তদন্তকালে পুলিশ টিমটি ঘটনার ব্যাপারে তেমন ইতিবাচক সত্যতা পায়নি বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম, সচেতন লোকজন এমন কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন।
স্থানিয় ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান তাদের এলাকায় ডাকাতি ও মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এজাহারের ডাকাতি হয়েছে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি তিনি অহেতুক বাড়াবাড়ি মন্তব্য করেন।
ভুক্তভোগী আনছারুল করিমের অভিযোগ, অসুস্থ পিতাকে সম্পদ লোভী ভাইয়েরা জোর করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন।
তিনি জোর দাবি করেন, এলাকার একজন নিরীহ মানুষ, সচেতন মহল ও জনপ্রনিধি যদি তার বিপক্ষে বলে- নিজে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবেন।
তিনি সুষ্ঠু দতন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মহেশখালী থানার ওসি (তদন্ত) সফিকুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •