হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের সোনালী শৈশব বেড়েই চলেছে শিশুশ্রম

শাহীন মাহমুদ রাসেল

যে সময়ে শিশুদের বই খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই সময়ে কক্সবাজারের বহু শিশুরা শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। দরিদ্রতার কারণসহ অসচেতনতার জন্য দিন দিন শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে প্রজন্মের ভবিষ্যত। খাতা-কলমে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থাকলেও শিশুশ্রম বন্ধে এদের নেই কোনো কার্যক্রম।

শিশুরাই দেশ ও জাতীর কর্ণধার। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এজন্য শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলা অত্যান্ত আবশ্যক। পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোতে শিশুদের শাররিক, মানষিক ও মেধার বিকাশের জন্য নানা ধরনের পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে কিন্তু আমাদের দেশে শিশুর অশিক্ষা ও দারিদ্রের কারনে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে নানা ভাবে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

জানা যায়, কক্সবাজার জেলার ৭১ ইউনিয়নসহ পৌর শহরে দরিদ্রতার কারণসহ অসচেতনতার জন্য দিন দিন বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। বিভিন্ন গ্রামের নিম্ন আয়ের শিশুরা দু’ মুঠো অন্নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। এসব শিশু শ্রমিকের কেউ কেউ পিতৃহীন, কেউ এতিম, কেউবা অভাবের জন্য ঘর ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পা বাড়াচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারের চায়ের দোকানে, হোটেল-রেস্তোরাঁয়, বেকারি, ওয়েল্ডিং কারখানা, লেদ কারখানা, অনেকেই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপে, বাসের হেলপার, বিল্ডিং নির্মাণের রাজমিস্ত্রির যোগান, রিকশা-ভ্যান চালানো, তামাকের গোডাউনে, আগলামন, নসিমন, করিমন, অনেকেই রিকশা-ভ্যান চালায়, অনেকেই জুতা পালিশ করে, অনেকেই শুটকির ফ্যাক্টরিতে শিশুশ্রম দিচ্ছে। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও তারা ন্যায্য মজুরি পায় না। শুটকির ফ্যাক্টরিতে কাজ করে একদিকে শিশুরা যেমন রোগব্যাধিতে ভুগছে অপরদিকে হাড়ভাঙা পরিশ্রমের কারণে তারা অকালে ঝরে পড়ছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় অনেক শিশু নিয়োজিত। অনেকেই মোটর গ্যারেজে কাজ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে জীবন সংগ্রামে নেমেছে।

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী জন্ম থেকে শুরু করে ১৮ বছর পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের শিশু হিসেবে ধরলেও সংশ্লিষ্ট শ্রম অধিদফতর ১৪ বছরের সকল বয়সের ছেলেমেয়েদের শিশু হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদের কোনো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানে কাজ করার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কক্সবাজারে কম বয়সের এসব শিশুরা শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়েছে। যাদের এ সময়ে লেখাপড়া করার কথা। খেলাধুলা, আনন্দ ফূর্তি করার কথা সেই বয়সে তাদেরকে নামতে হচ্ছে কঠোর জীবন সংগ্রামে।

কক্সবাজার শ্রম অধিদপ্তরের অফিস নেই। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই কথাটা বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। তার বাইরে শিশু শ্রম নিয়ে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই। সংশিষ্ট কতৃপক্ষ জানেন না জেলার শিশু শ্রমিকের কোনো পরিসংখ্যান। শিশুশ্রমের কথা কর্মকর্তারা স্বীকার করলেও শিশুদের উন্নয়নে কোনো কার্যক্রম নেই। যার কারণে এ বিষয়ে জেলা শিশুশ্রম বিভাগের কর্মকর্তারা মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তারা এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি।

শিশুশ্রমের কারণে কক্সবাজারে অকালে ঝরে পড়ছে হাজারো শিশু। এ শিশুশ্রম বন্ধ না হলে এ জেলায় অশিক্ষিতের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সুশীল সমাজ। তাই শিশুশ্রম বন্ধকল্পে এ বিভাগকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। কক্সবাজারে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও কর্তৃপক্ষের নেই কোনো নজর। সংশ্লিষ্ট বিভাগটি শুধুমাত্র নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এ বিভাগের কোনো কার্যক্রম কক্সবাজারে না থাকায় জেলার সুশীল সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। জেলার সুশীল সমাজের দাবি অবিলম্বে শিশুশ্রম বন্ধ করতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

বৃহত্তর থিমছড়ি সামাজিক উন্নয়ন ফোরামের মেধা যাচাই ও বৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

যারা ইসলামের ৫ স্তম্ভ মানে তারা আস্তিক- আল্লামা শফী

রামুতে ‘প্রজন্ম’৯৫ বৃত্তি পরীক্ষা’ অনুষ্ঠিত, ফল প্রকাশ

খুরুশকুলে মাটি লুটে বাধা দেয়ায় হামলা

কক্সবাজারে প্রথম ৮ বল পুল টুর্নামেন্টের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

হ্নীলা ইউনিয়ন আ’লীগের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

ঈদগাঁওতে অভিভাবক প্রার্থী শফিউলের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

এবার ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা

টেকনাফ সদরের ১নং ওয়ার্ড যুবদলের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন 

উখিয়া ইউএনও কাপ ফুটবলে সোনারপাড়া ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন

‘একজন অফিসার ইচ্ছে করলে জেলা-উপজেলার চেহারা পাল্টে দিতে পারেন’

গ্যাস্ট্রিক দূর করতে…

ব্রিটিশ নির্বাচনের ‘চমকে দেওয়া’ ফলাফলের নেপথ্যে

ভারত সফর স্থগিত করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীও

রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততায় ভারত সফরে যাননি দুই মন্ত্রী : কাদের

স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর আয় বেশি হলে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে: গবেষণা

বিজয়ফুল বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কার নিলো কক্সবাজারের রহমান শ্রেষ্ঠ

বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম কক্সবাজার এসেছেন

ব্রিটিশ এমপি হলেন টিউলিপসহ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৪ নারী

কক্সবাজারে লাফিয়ে বাড়ছে বাড়ি ভাড়া, মালিকদের কাছে জিম্মি ভাড়াটিয়ারা