এম. নুরুল কাদেরঃ
“সততা” শব্দটি আমাদের সবার পরিচিত একটি শব্দ যা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ দিক বা গুণ। কিন্তু এটিকে মানব চরিত্রের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রাখা কি যে কঠিন সেটা আমাদের নিকট সর্বক্ষেত্রে দৃশ্যমান! কি ব্যক্তি জীবন, কি সামাজিক জীবন, কি রাষ্ট্রীয় জীবন! সবক্ষেত্রে এর দৈন্যতা আমরা হরহামেশাই লক্ষ্য করি! সততা, সত্যনিষ্ঠা কিংবা সত্যবাদিতা মানব চরিত্র থেকে আজ কাল অনেকটা উধাও হয়ে গেছে! অথচ এটিকে নিজের চরিত্রের একটি মোক্ষম অংশ হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট! কিন্তু বাস্তবতা কি? সেটি সহজেই অনুমেয়! সততা ষ্টোর দিয়ে যেমন সততা প্রতিষ্ঠা করা যায়না, তেমনি কোটিপতি হলেও নিজের মধ্যে এই গুনটি সহজে ধরে রাখা যায়না! যদি আপনি সৎ হওয়ার ইচ্ছা মনে প্রতিনিয়ত পোষন না করেন!
দেখা যায়, অভাব অনটন না থাকা সত্বেও একজন কোটিপতি সৎ হতে পারেনা। আবার দিন মজুর হয়েও অনেক মানুষ সততাকে অবলম্বন করেই জীবন যাপন করে।
তেমনি একজন রিক্সা শ্রমিকের সততায় আমি যারপরানই মুগ্ধ হয়েছি। আমার আপন চাচার মৃত্যুতে বাবা, আরেক চাচা ও এক ভাইসহ গত শনিবার (২২ জুন) চট্টগ্রাম যাই। জানাজা শেষে রাত যাপন করে পরদিন রবিবার এক চাচাতো বোনের কাতালগঞ্জ বাসা থেকে মহেশখালীতে ব্যাক করার জন্য নতুন ব্রিজের গাড়ির কাউন্টারে গিয়ে যথারিতী টিকিট নিই। পরক্ষণেই বাবা তার ব্যবহারের মোবাইলটি তালাশ করতে গিয়ে চেহারাটা ফ্যাকাশে করে ফেল্ল! বুঝতে বাকি রইলনা মোবাইলটি খোয়া গেছে!!
আমি আমার মোবাইল থেকে তৎক্ষনাৎ ফোন দিলাম। ঐ প্রান্ত থেকে একজন বল্ল, আমি মোবাইলটি পেয়েছি।
আমি বল্লাম আপনি কোথায়?
তিনি বল্লেন, বাদুরতলা নাছির শাহ্ মাঝারের সামনে একটি ঔষধের দোকানে আছি, আপনি আসলে পাবেন।
আমি তখন টিকিট বাতিল করে বাবাসহ রিক্সা নিয়ে গিয়ে দেখলাম, মোবাইলটি হাতে ভদ্রলোক একজন রিক্সাওয়ালা।
পরিচয় পর্বে জানলাম, তাঁর নাম আইয়ুব আলী। বাড়ি নুরপাড়া,বড়গ্রাম, রাজশাহী। আমি খুব অবাক হয়েছি। একজন রিক্সাওয়ালা, একজন কায়িক শ্রমের দিনমজুর। তাঁর সততা দেখে!
সাথে সাথে তাকে পাশের দোকানে চা-নাস্তা করালাম। তাকে কিছু টাকা দিতে চেয়েও দিতে পারলাম না।
আরো বলেকি, আপনি জোর করলেন, তাই চা খেলাম।
তিনি বল্লেন, এই সেট দিয়ে আমি অতিজোর পরিবার নিয়ে পনেরদিন চলতে পারবো। তাতে আমার কি লাভ হবে?
বরং মৃত্যুর পরে আমি কি জবাব দিবো! তাঁর এমন কথায় আমি হতবিহবল হয়ে গেলাম!
ভাবলাম, এমন সৎ লোক পৃথিবীতে আছে বলেই এই দুনিয়া টিকে আছে।
তিনি মোবাইলটি সাথে সাথে অফ করে দিতে পারতেন। অথবা সেটটি ফেরৎ না দিলেও পারতেন।
এমন একজন রিক্সাওয়ালার কাছ থেকে আমাদের উঁচু তলার লোকদের শিক্ষা নেওয়া উচিৎ, যারা এসি রুমে বসে রিভলভিং চেয়ার ঘুরিয়ে কলমের খোঁচায় রাষ্ট্রের শতকোটি টাকা গায়েব করেন নিমিষেই।
এমন লোক আজ দেশে বেশি বেশি প্রয়োজন!
স্যালুট, সততায়সিদ্ধ নির্লোভ রিক্সাওয়ালা ভাইটিকে।

 

-এম. নুরুল কাদের
সচিব, পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদ
সদর, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •