পাঠকের চিঠি :

তামাক চাষ বন্ধে সরকারকে আহবান জানাচ্ছি

কক্সবাজার ইয়ুথ জলবায়ু ফোরাম এর একজন সদস্য হিসেবে আমি কোস্ট ট্রাস্ট অধীনে তামাক চাষ বিষয়ক এক জরিপে কক্সবাজার এর তামাক চাষের অধ্যুষিত এলাকা চকরিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিদর্শনে গিয়েছিলাম যেমন: কৈয়ারবিল, বরইতলী,মানিকপুর, সুরাজপুর,হারবাং সহ বিভিন্ন ইউনিয়েনে গিয়েছি। তামাক চাষ সম্পর্কিত তথ্য জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার,সচিব, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক সহ এলাকার মান্যগণ্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাত হলো।
তাদের থেকে যা জানলাম সত্যি অবাক হলাম,প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় জমি তামাক চাষের জন্য বরাদ্দ যেমন :১৮ হেক্টর,১০ হেক্টর ২০ একর এরকম বিন্যস্ত জমির পরিমাণ।
কথা বলে এবং আলোচনা করে যা জানলাম,যে জমিতে তামাক চাষ হয় সেই জমিতে অন্যকিছু চাষ করা সম্ভব হয় না কারণ তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাই,তামাক গাছের শিকড় মাটির নিচে থেকে যাই এবং অতিরিক্ত বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় যার ফলে অন্য কোনো ফসলি গাছের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
তামাক চাষের উৎপাদিত পাতা গুলো পুড়ানোর জন্য এলাকা ভেদে অনেক চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে।
এক চুল্লিতে এক একর পাতা পুড়ানোর জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ মণ কাঠের জ্বালানি প্রয়োজন পড়ে। এই সব জ্বালানী সংগ্রহ করার জন্য কৃষকরা অবৈধ ভাবে উজাড় করছে সরকারি সামাজিক বনায়ন যার কারণে ব্যাপকভাবে মারাত্নক প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর।
তামাক পাতা পুড়ানোর চুল্লির আশে, পাশে যেসব গাছাপালা থাকে তা শুকিয়ে যাই।
এলাকার ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যালয়ে আসা,যাওয়া করতে তাদের অনেক সমস্য দেখা দেই এবং এলাকার মানুষের বিভিন্ন অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
তামাক চাষের ফলে অন্য ফসলি চাষ বন্ধ হওয়াই মানুষের মাঝে খাদ্যের যোগানে সমস্য দেখা দিচ্ছে এবং খাদ্য যোগান করতে অভাববোধ করছে গরীব, অসহায় কৃষকরা।
তামাক চাষ হয় বছরে ৬ মাস বাকি ৬ মাস জমি গুলো পরিত্যক্ত ভাবে পড়ে থাকে কারণ সেখানে অন্যকিছু চাষ করতে কৃষকরা অনীহা প্রকাশ করে।
মানুষ তামাক চাষের দিকে ধাবিত হওয়ার কারণটা খোঁজে পেলাম এটায়,বিভিন্ন কোম্পানি যেমন:জাপান টোবাকো, বিট্রিশ টোবাকো,আকিজ টোবাকো সহ কিছু কোম্পানি কৃষকদের টাকা লোভে ফেলে তামাক চাষের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে লোভ সৃষ্টি করে দেই যার ফলে কৃষকরা সে কাজের দিকে বেশি ঝুঁকছে কিন্তু শেষে গিয়ে যেটা দেখা যাই সেটা হচ্ছে কৃষকটা কোম্পানির কাছে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ে যার কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে সেই চাষেই নিজেকে নিয়োজিত রাখে।
এবং জমির মালিককে ধানি জমির লাগিয়ত বাবদ ৮০০০ টাকা পেলে সেখানে কোম্পানি গুলো ১২ থেকে ১৪ হাজার দিয়ে জমি গুলো নিয়ে নেই।
জরিপে আর একটি বিষয় যেটা পেলাম সেটা হচ্ছে, এই তামাক চাষ থেকে সরকারের তেমন ভালো আয় ও নেই কিছু ক্ষমতাবান ব্যাক্তি বা গোষ্টির মাধ্যমে এই চাষটা পরিচালিত হয় এবং আয়ের সিংহভাগ তাদের দখলে চলে যাই।
এখন কথা হচ্ছে, যে চাষের কারণে সামগ্রিক ভাবে সবদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে চাষ কেন বাংলাদেশে চলমান থাকবে।
যতটুকু মনে হয় তামাক চাষ বন্ধ করে দিলে সরকারের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বরং লাভবান হবে সরকার,জনগণ এবং বাঁচবে পরিবেশ।
তাই আমি সচেতন নাগরিকদের অনুরোধ করবো আপনারা তামাক চাষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হউন।
ধন্যবাদ সবাইকে।

রুহুল আমিন

শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

কক্সবাজার সিটি কলেজ

cbn কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন) এ প্রকাশিত কোন সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।-কক্সবাজার নিউজ ডটকম  

সর্বশেষ সংবাদ

ইয়্যুথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অভিজ্ঞতার আলোকে কমিউনিটি ইভেন্ট

গর্জনিয়ার কৃষকদের কাছ থেকে কচ্ছপিয়ায় চাঁদাবাজি : প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি

সুগন্ধা পয়েন্টে ৩০ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ৩ জনকে জরিমানা

টেকনাফে ছোট ভাইয়ের হামলায় বড় ভাই রক্তাক্ত

প্রাইমারির সব কমিটি মেয়াদ পর্যন্ত বহাল থাকবে, উদ্বিগ্ন হতে হবেনা

কক্সবাজার ডায়াবেটিক হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা বৃহস্পতিবার

আলো ছড়াচ্ছে মসজিদ ভিত্তিক শিশু-গনশিক্ষা কার্যক্রম

কচ্ছপিয়া কে.জি স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ এবং পিইসি পরীক্ষার্থীদের দোয়া

বেগম জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে -লুৎফুর রহমান কাজল

প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে হাজী জসিমের প্রতিবাদ

গর্জনিয়ার পোয়াংগেরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান

লামায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

লামায় নুনারঝিরি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়

চকরিয়া উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর ইয়াসমিন বিভাগীয় জয়িতা হলেন

বাহারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত কমপক্ষে ২২ ফিলিস্তিনি

বালতি বালকের জীবনবৃত্তান্ত!

গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা কর্তৃক দোকানদার নারীকে হেনস্থার অভিযোগ

সন্দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান : অতঃপর ঠেংগারচর সন্দ্বীপের অংশ