হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর
রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মল্লনের বিলে অবস্থিত প্রাচীনতম একটি কবরস্থান অযত্ন -অবহেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সিপাহী পাড়া টু লম্বরী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংযোগ সড়কের দক্ষিণ এবং এ.এ.সবি ব্রিক ফিল্ডের পশ্চিম পাশের এই কবরস্থানে বৃটিশ আমল থেকে দীর্ঘকাল যাবৎ অনেক লাশ দাফন করা হয়েছে মুরুব্বীদের অভিমত। এমনকি বৃটিশ যুদ্ধের সময় রামুতে অবস্থানরত যোদ্ধাদের মধ্যে শহীদ হওয়া অনেক মুসলিম যোদ্ধার কবর এই কবরস্থানে রয়েছে বলে জনশ্রুতি আছে। তবে গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানটিতে লাশ দাফনের রেওয়াজ নেই বললেই চলে। তথাপি কোন মহল্লার আওতাভুক্ত না হওয়ায় এ কবরস্থানের ব্যবস্থাপনায় কোন সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষও নেই। ফলে ক্রমান্বয়ে ঐতিহ্যবাহী কবরস্থানটির চিহ্নও হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়; দুনিয়ার ক্ষণকালীন জীবনের লাভ ও লোভের কবলে পড়ে প্রাচীনতম বৃহৎ এ কবরস্থানটি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। পার্থিব মোহে শেষ ঠিকানা কবরস্থানকে ছোট করে ফেলার হীন মানসিকতা খুবই বেদনাদায়ক। এ কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সতর্কতামূলক কোন সাইনবোর্ড ও নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় অজ্ঞাতসারে অনেক শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারীরা এর পবিত্রতা নষ্ট করছে। অনেকেই খালি জায়গা মনে করে বিশ্রাম, গল্পগুজবের জন্যও কবরস্থানটিকে বেছে নেয়। আবার কেউ কেউ এতে পায়খানা -প্রসাবের প্রয়োজন সারাতেও দ্বিধাবোধ করেনা। এভাবে কবরস্থানটির পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যা ধর্মপ্রাণ সকলের হৃদয়ানুভূতিকে চরমভাবেই আহত করে।
এমতাবস্থায় বহু সংখ্যক মুসলমানের দাফনভূমি কবরস্থানটির ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় সরকারীভাবে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহন করা নৈতিক কর্তব্য। এ কর্তব্যবোধ থেকে এগিয়ে আসার জন্য রামু উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়, ফতেখাঁরকুল ইউপি চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারসহ সচেতন, বিত্তশালী দ্বীন অনুরাগী ব্যক্তিবর্গের এ প্রতি আহবান জানিয়েছেন ধর্মপ্রাণ জনতা।

উল্লেখ্য, এ কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষার আহবান জানিয়ে আমি আজ থেকে ১০ বছর আগেও তথা ২০১০ সালের ১৮,১৯, ২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের বিভিন্ন পত্রিকায় এ নিউজটি “পাঠক অভিমত’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •