শহিদুল করিম শহিদঃ

কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা চাঁন্দেরপাড়া রাবারড্যাম পয়েন্টের বাঁকখালী নদীতে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধ বালু উত্তোলন চলছে।
নদি ড্রেজিংএর নামে উত্তোলিত বালু বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, শাহাজাহান, সরওয়ার সিন্ডিকেট বিগত ৫ মাস ধরে বাঁকখালী নদীর বালি উত্তোন করে চলেছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে হরদম বালু উত্তোলনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা পরির্দশনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিলংজা রাবারড্যাম থেকে রামু চাকমারকুল এলাকা পর্যন্ত বাঁকখালীর ড্রেজিংএর শত কোটি টাকার বালু বিক্রি করেছে শাহাজাহান সিন্ডিকেট।
স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ড্রেজিং পরিচালনার জি,এম মোহাম্মদ শাহজাহান ও সরওয়ার সেন্ডিকেট বাকঁখালী ড্রেজিং এর নামে ঝিলংজা চাঁন্দরপাড়া রাবারড্যাম নদীর উপরিচর থেকে রামু চাকমারকুল পর্যন্ত বালি উত্তোলন করে।
উত্তোলনকৃত বালু স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে প্রতি সেপ্টি ৩ টাকা দরে বিক্রি করে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় শাহজাহান সেন্ডিকেট।
বাঁকখালী নদী থেকে উত্তোলিত বালুর ডাইক ১৭ টি। প্রতি ডাইকে ৫ থেকে ৬ কোটি সেপ্টি বালি গড়ে প্রায় ৯০ কোটি সেপ্টি বালি উত্তেলিত হয়েছে। কিন্তু সরকারের শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বালু খেকোরা।
রেল লাইনের কাজে নিয়োজিত সৌরভ কোম্পানী, মেক্স কোম্পানী, চাইনা কোম্পানীকে ৭ টাকা দরে বালু বিক্রি করে শত কোটি টাকার মালিক চিহ্নিত সিন্ডিকেট।
রাবারড্যাম এলাকার জুলফিকার আলী ভুট্টো জানান, শাহজাহান সিন্ডিকেট বেপরোয়াভাবে নদী থেকে বালু তুলছে। উত্তোলিত বালুগুলো ডাবল দামে সরবরাহ হচ্ছে রেললাইন প্রকল্পের কাজে।
তিনি জানচন, রাবারড্যামের খুব নিকট থেকে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই রাবার ড্যাম।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
সেই সাথে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি ও পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ইউএনও।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •