বার্তা পরিবেশকঃ
বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকার আলী হোসেনের ছেলে ফরিদুল আহাম্মদ প্রকাশ ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অপরকে জিম্মি করে টাকা আদায়, টাকা আত্মসাৎসহ অভিযোগের কোন শেষ নাই। তার কারণে এলাকাবাসী অতীষ্ঠ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত আসামী ফরিদুল আলম সরকারী দলের পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে কোন না কোনভাবে হয়রানী করে থাকে। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দরবারে ঘুরঘুর করে। চালায় তদবির।
জানা গেছে, মহেশখালীর হেতালিয়া মৌজার ৯৩.৮০ একর জমির জাল পাট্টা সৃজন করে তা দখল করায় বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন ব্যুরো ঢাকার স্মারক নাম্বার ২৫৪-২০০১ কক্সবাজার ১২৬৩, তারিখ ০৯/০৭/২০০১ ইং।
তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো কক্সবাজারের পরিদর্শক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন তৎকালীন জেলা দুর্নীতি দমন অফিসারকে রাম মোহন নাথকে ২৫/০৭/২০০১ ইং তারিখ চিঠি দেন।
সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফকিরাঘোনা এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে মোঃফরিদসহ অপর ২ জন মিলে প্রতারণার মাধ্যমে জাল পাট্টা সৃজন করে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশে সরকারী ৯৩.৮০ একর জমির মূল্য ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ১৯৭৮ সাল হইতে উক্ত জমির সরকারী ইজারা মূল্য ৩৩ হাজার ৭৬ হাজার ৮০০ টাকাসহ মোট ১ কোটি ২৭  লাখ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাতের দায়ে দন্ডবিধি ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪০৬/১০৯ ধারা মতে মামলা রুজু করার মতামত দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএসবি পরিদর্শক মোঃ ইকবাল হোসেন।
এছাড়া উক্ত ফরিদুল আলম সে কোন সাধারণ মানুষের জমি দখল, ছোট কারণে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হামলা করে টাকা আদায়সহ সব সময় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকে। চিংড়ীঘের, অন্যের জমি দখল করে বিচারের নামে টাকা আদায় থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধে জড়িত। তাই ফরিদুল আলমসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে যার মধ্যে মহেশখালী থানার জিআর মামলা নাম্বার ১০/২০০১,৩৪/২০০৪,১২২/২০০৬,২৩০/২০১০,১৯/২০০৭,২২৫/২০১১,২১৬/২০০৬,৭৯/২০১৩,০২/২০১৮
এছাড়াও চলতি বছরে ফরিদসহ তার বাহিনির বিরুদ্ধে জিআর ১৪২/১৯, জিআর ৭৭২/১৯ সিআর ২৯/১৯ এবং দলিল জালিয়তী প্রতারণা মামলা ০৩/২০১৯ বিচারাধীন ও তদন্তাধীন আছে।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়, অভিযুক্ত ফরিদুল আলমের জালিয়াতির ইতিহাসও অনেক লম্বা। তিনি সে কোন সময় মানুষ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে হঠাৎ করেই তা অস্বীকার করেন। টাকা না দেওয়ার ফন্দি ফিকির করে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষ থেকে জমি  বেচার জন্য বায়না করে টাকা নিয়ে আর রেজিস্ট্রি দেয় না। পরে আবার সেই জমি অন্যকে রেজিস্ট্রি দিয়ে প্রতারণা করেন।
তার একটি জলন্ত প্রমান হচ্ছে ২২/১০/৭৫ সালের ৯৭৬৩ নাম্বার দলিলে মোট জমির পরিমান ছিল.৭৯ একর কিন্তু সেখানে ফরিদুল আলম জালিয়াতি করে সেই দলিলকে সম্পূর্ণভাবে নতুন জাল দলিল তৈরি করে সাব-রেজিষ্ট্রারসহ বিভিন্ন কর্মকতা সীল জাল করে ১.৭৯ শতক জমি দেখিয়ে আরো একটি দলিল সৃষ্টি করে। আবার সেই জাল দলিল দিয়ে ২৪/৪/২০১৩ সালে ৭ জনের কাছে জালিয়াতি করে ১.৬৯ শতক জমি বিক্রি করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদুল আলম ছোট মহেশখালী এলাকার হাজী ছৈয়দ কবিরের ছেলে প্রবাসী মাওঃমোহাম্মদ ইউনুচের সাথে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর বি,এস ২০৮,২১৩ নং খতিয়ানের বি,এস দাগ ১৪৩১,১৪৩০,১৪৩৪,১৪৩৩,১৪২৯ দাগাদির ১০ শতক ৩০ কড়া জমির বায়না করে সে অনুযায়ী স্বাক্ষীগণের সাক্ষাতে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। বাকী ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিলেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই জমি বার বার রেজিস্ট্রি দেওয়ার কথা বললেও হেঁটেছেন উল্টোপথে। দেননি দখল ও রেজিস্ট্রি।
চুক্তির বাইরে দাবীকৃত টাকা দিলে কাজের কাজ হয়নি।
এবিষয়ে মাওঃ মোহাম্মদ ইউনুচের শ্বশুর মৌঃ জিয়াউল হক মহেশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। যার নাম্বার সিআর ২৬/১৯।
বর্তমানে সে ৩/১৫১সহ একাধিক মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাপ্রাপ্ত আসামী হওয়ার সত্বেও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে প্রকাশ্যে বীর দর্পে ঘুরাফেরা করছে। তাকে গ্রেফতার না করায় জনগনের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক সমাজপতি জানিয়েছেন,  ফরিদুল আলমের অনিয়ম দূর্নীতি আর প্রতারনা পাল্লা এতই ভারী হয়ে গেছে তার আর কোন জায়গা নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের পেছনে থেকে নিজেকে বাচাঁনোর চেষ্টা করে। তাই প্রতারক, জালিয়াতি চক্রের মুলহুতা এবং দুর্নীতিবাজ সর্ম্পকে সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়েছে মহেশখালীর সর্বস্তরের জনগণ।
একই সাথে ফরিদুল আলমকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়ছে এলাকাবাসী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •