মহেশখালী প্রতিনিধি:

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নে চলছে ইয়াবার অবাধ বাণিজ্য। ইউনিয়নে বিভিন্ন র্স্পটে গড়ে উঠা এসব মরণনেশা ইয়াবার আখড়ায় যাতায়াত করে এলাকার যুব সমাজ বিপদগামী হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনে দিনে নৈতিক অবক্ষয়ের সূত্র ধরে যুব সমাজ আজ ধবংসের মুখোমুখি।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ কালারমারছড়া ইউনিয়ন যেন নেশার ইউনিয়ন পরিণত হচ্ছে দিন দিন। হাত বাড়ালে মিলছে ইয়াবাসহ সকল প্রকারের মাদক দ্রব্য। হাতের নাগালে পেয়ে যুব সমাজ ধাবিত হচ্ছে ধবংসের ধারপান্তে। ইতোমধ্যে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ খুচরা ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার হলেও মুল হোতারা রয়েছে অধরাই। ইউনিয়য়ের কালারমারছড়া বাজারের পুলিশ ফাঁড়ীর আশে-পাশে, আঁধার ঘোনা গ্রামে, ইউনুছখালী,উত্তরনলবিলা, চালিয়তলী গ্রামে খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী থাকলেও এ ব্যাপারে খোদ কালারমারছড়া পুলিশের কাছে কোন তথ্য নাই।

অপরদিকে মাদকের আকার ছোট হওয়ায় সু-কৌশলে জনসম্মুখে বিক্রি করলেও আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসছে না। ভয়ংকর মাদক ইয়াবা এখন দেশের আনাচে কানাচে ব্যাপক আকার বিস্ততি লাভ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্য টিকতে না পেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে বাঘা বাঘা ১০২ জন ইয়াবা কারবারী আত্মসর্মপণের পর কোন মতে বন্ধ করা যাচ্ছেনা ইয়াবা ব্যবসা। নিত্য নতুন কৌশল পাল্টিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কারবারিা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরধারী থাকার পরও তারা সড়ক পথ ছাড়াও নৌ-চ্যানেল দিয়ে ইয়াবার বড়-বড় চালান মহেশখালী উপকূলে খালাস হচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা পাচারের নতুন রুট সাগর তীরবর্তী মহেশখালী উপকূলকে বেঁচে নিয়েছে অনেকে। কয়েক বছর আগেও যারা মজুরী করে ও সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের জীবন যাপনে হঠাৎ এসেছে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। অল্প সময়ে অনেকে হয়েছেন কোটি-কোটি টাকার মালিক। মাছ ধরা পেশার আড়ালে অধিকাংশ জেলে জড়িয়ে পড়েছেন ইয়াবা ব্যবসায়। তৈরী করছেন একাধিক মাছ ধরার ট্রলার। যে সব ইয়াবা মহেশখালী উপকূলে খালাস হচ্ছে পরবর্তীতে এসব ইয়াবা ছড়িয়ে পড়ছে চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানিয়রা জানিয়েছেন, মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গড়ে উঠেছে ইয়াবা,গাজা ও বাংলা মদের মহাল। তবে আধুনিকায়ন যুগে এখন উঠতি বয়সের যুবকরা দাবিত হচ্ছে ইয়াবার দিকে।

পুলিশ বলছে, কালারমারছড়া মাদকের স্পর্ট গুলোতে পুলিশের পক্ষে থেকে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। গুটি কয়েক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিভিন্ন সময়। এরপরও বন্ধ হচ্ছেনা ইয়াবা ব্যবসা। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র ও স্থানিয়রা জানিয়েছেন, ছন্দ বেশি বিভিন্ন ব্যবসার পেশার আড়ালে আঁধার ঘোনা এলাকার মৌলভী রকি উদ্দিনের পুত্র সালা উল্লাহ, ছিদ্দিক মিয়া, লোকমান, মিজ্জির পাড়া এলাকার জকির, দেলোয়ার ও আরিফ, কালারমারছড়া বাজারের মো. শাহ ঘোনা এলাকার মুল ইয়াবার হোতা জয়নাল আবেদীন, নেজাম মাধ্যমে ইউনিয়নে ইয়াবার অবাধ বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আখড়ায় প্রায় প্রতিদিন মাদকসেবী লোকজনের আনা-গোনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানিয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্ধিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ লোকজন অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসাযীদের ব্যাপারে অভিযোগের পাহাড় জমলেও অর্দৃশ্য হস্থেক্ষেপে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার সচেতন মহল, অবিলম্বে মাদক ব্যবসা বন্ধে এসব এলাকায় অভিযান জোরদার করতে প্রশাসনের তড়িৎ হস্থেক্ষেপ চায়।

কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই লিটন সিংহ বলেন, যারা ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত তাদেরকে নজরদারী করা হচ্ছে। অতি শিগিরই অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন ছাড় নাই, অভিযোগ পাওয়া গেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •