জাহাঙ্গীর আলম কাজলঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাকা সিঁড়ি না থাকায় পথ চলতে কষ্ট পাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
নতুন জামা পড়ে স্কুলে এসে প্রধান ফটকে কাদা মাটিতে পিছলিয়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে জামা কাপড়, বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষা উপকরণ। ইতোমধ্যে কাদা মাটির পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে উঠতে গিয়ে অনেক শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রবীন শিক্ষক চিংচালা চাক অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানান, এখনো বর্ষাকাল শুরু হয়নি। এতে ছাত্র ছাত্রীরা যাতায়াতের যে কঠিন সমস্যা পড়েছে- আগামী দিনগুলো কি করে বিদ্যালয়ে আসবে? তা নিয়ে তিনি নিজেও শংকিত।
সরজমিনে দেখা যায়, রাবার শিল্প নগরী বাইশারীর বাজারের পাশেই বিদ্যালয়টির অবস্থান। পড়া লেখায় এগিয়ে থাকলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে রয়েছে স্কুলটি।
ছয়শতাধিক ছাত্র ছাত্রীর যাতায়াতের জন্য যে পথ রয়েছে তা কাদামাটিতে একাকার। হাটা চলা যায় না।
বিদ্যালয়টির উত্তর পার্শ্বে পাকা সিঁড়িও থাকলেও বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণের ফলে সেই পথটি বন্ধ রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আলহাজ কামাল হোছাইন জানান, বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথ মাত্র একটি এবং পাহাড়ের উচুতে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এই করুণ দশায় চিন্তিত। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।
সরজমিনে আরো দেখা যায় বিদ্যালয়টি ম্যানেজিং কমিটির দক্ষ পরিচালনায় প্রাথমিক সমাপনী পরিক্ষায় শতভাগ পাশ সহ ভাল ফলাফল অর্জন, খেলাধুলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ উপজেলায় অনেক সুনাম রয়েছে। কিন্ত সিঁড়ি না থাকায় পড়ালেখার মানও ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলম কোম্পানি ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে উঠতে করুন দশার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আগামী উপজেলা সমন্বয় সভা উপস্থাপন করা হবে এবং আরো একটি প্রবেশ পথের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কামাল হোছাইন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •