পেটের দায়ে রিকশা চালাচ্ছে রুমানা!

এস এম শামীম:
রাত তখন সারে ৯টা। পত্রিকার কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলাম। রাজধানীর ফার্মগেট থেকে বসার দিকে মোর নিতেই চোখ পড়লো একটি রিকশার দিকে। প্রথমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও পরে তা সত্যিই হলো। হ্যা পাঠক, বলছিলাম রুমানা আক্তার নামের ১৮ বছর বয়সী জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী এক তরুণী রিকশা চালকের কথা।

ঘটনাটি মঙ্গলবার (১১ জুন) রাতের। প্রথমে দেখলাম রিকশার চালকের সিটে এক তরুণী ও যাত্রীর আসেন দুইজন পুরুষ, তারা রাজধানীর তেজকুনিপাড়া থেকে ফার্মগেট এসেছে এবং ভাড়াও দিয়েছে ২০ টাকা।

এদিকে আমি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতেই আবারও দেখলাম দুইজন মহিলা উঠলেন ঐ রিকশায়। এবার রিকশাটি আমার বাসার পথ ধরেই চলছে, আমিও চলছি রিকশার পেছনে। ১০ মি. পর রিকশাটি থামলো বিজয় স্বরণী ফ্লাইওভারের নিচে (তেজকুনিপাড়া)। যাত্রী নামিয়ে ভাড়া নিয়ে দাঁড়াতেই কথা হয় তার সাথে।

নাম রুমানা আক্তার, পিতা নুরু মিয়া। গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে হলেও ছোটবেলা থেকেই রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে বস্তিতে বসবাস করে রুমানা। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়।

একজন মেয়ে হয়েও কেনো রিকশা চালায় জানতে চাইলে রুমানা বলে- লেখাপড়া করি নাই বলে কোথাও চাকরি করতে পারি না। আর তাই অন্য কোনো উপায় না থাকায় রিকশা চালাচ্ছি।

বাবা পরিবারের খরচ দেয় কি না জানতে চাইলে এই তরুণী জানায়- আব্বা গাজীপুর থাকে। ২-১ মাস পর পর এখানে আসে এবং ১ হাজার করে টাকা দিয়ে চলে যায়। আর মা’র কথা জানার চেষ্টা করলে রুমানা জানায়- আম্মা পাগল হয়ে গেছে। সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।

এদিকে রিকশা চালিয়ে দৈনিক কতো টাকা রোজগার হয় জানতে চাইলে রুমানা বলে- আজকেই প্রথম রিকশা চালিয়েছি। বিকাল ৩টা থেকে এপর্যন্ত ৩শ’ টাকা হয়েছে। কাল কতো হবে জানি না। এখন বাসায় চলে যাবো। তাছাড়া আরো কিছু টাকা হতো, মেয়ে বলে অনেকে রিকশায় উঠতে চায় না। আজ যা কামাই হয়েছে, এখান থেকে রিকশার জমা দিয়ে যে টাকা থাকবে তা দিয়ে বাসার বাজার করবো।

এখন যাইগা,,, বলে চলে যায় রুমানা।

এদিকে রুমানা ও তার পরিবারের বিষয়ে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন- মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই আমাদের সামনে অনেক কষ্টে বড় হয়েছে। যখন যে কাজ পেয়েছে, তাই করে নিজের ও পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে।

সত্যিই জীবন বড় অদ্ভুত। পেটের দায়ে জীবিকার তাগিদে নিজেকে অন্যায় পথে না নিয়ে রিকশা চালিয়ে কষ্ট করে টাকা উপার্জন করছে রুমানা নামের মেয়েটি।

আমাদের দেশ ও সমাজে অনেক স্ব সহৃদয়বান ও বিত্তশালী মানুষ আছেন, আমরা কি পারি না রুমানাদের একটু সাহায্য করতে? খুব বেশি না, একটি রিকশা বা একটি চা’এর দোকান দেয়ার মতো পুঁজি হলেই মেয়েটিকে আর রিকশা চালাতে হতো না।

সর্বশেষ সংবাদ

এ্যাম্বুলেন্সে করে ইয়াবা পাচার, লোহাগাড়ায় গ্রেপ্তার ৪

চীনের রাষ্ট্রদূত ঝিমিং এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন

সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ১৬ রোহিঙ্গা আটক

প্রবারণা পূর্ণিমায় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ায় দিপংকর বড়ুয়া পিন্টুর কৃতজ্ঞতা

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের ৮০ শতাংশই খানাখন্দ

মাসে বন্ধ ৪৬ গার্মেন্টস, বেকার হয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার শ্রমিক

চকরিয়ায় দেয়াল চাপা পড়ে আহত হওয়া যুবকের মৃত্যু

৮৭টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে মীরাক্কেলের ‘মীর’র আত্মহত্যার চেষ্টা!

ফিলিস্তিন রক্ষায় কাবা শরিফের ইমাম সুদাইসির ঐক্যের ডাক

নিলামে কেনা বাইক রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

একসঙ্গে আট বাচ্চা প্রসব ছাগলের

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে

কে এই লেখক ভট্টাচার্য

কে এই জয়

অতিরিক্ত জিমে বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে পুরুষরা

ঈদগাঁওতে গাড়ীর ধাক্কায় কলেজ শিক্ষার্থী আহত

মার্কিন ডেলিগেট কক্সবাজার পৌঁছেছেন

লামায় ডেইরি এসোসিয়েশন’র কমিটি গঠন

টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক সন্দিগ্ধ বিদেশিকে হন্য হয়ে খোঁজা হচ্ছে