ছানাউল করিম:
দখলবাজরা ফন্দি এঁটেছেন। টানা কয়দিন ঈদের ছুটি। এ কয়দিন সরকারের বড় কর্তারা ঈদের আমেজে থাকবেন। এ সুযোগে তারা সাগরপাড় দখলে নেবেন।

বাহ! কী চমৎকার। পরিকল্পনায় ঠিকঠাক এগিয়েছেন। সুগন্ধা পয়েন্টের সাগর পাড়ে রাতারাতি নির্মাণ হল দোকানঘর ।

সরকারের দায়িত্বশীল কেউই দেখল না। নাকি দেখেও চুপ থেকেছেন, তাও জানিনা। দেখল একটা সামাজিক সংগঠনের কিছু নেতা। ক্ষুদে বার্তায় লেখালখি করে রীতিমত সাড়া ফেললেন, তারপর সংবাদ মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন আসল।

ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিও শেষ। সংবাদ পেয়ে সরকারের বড় কর্তারাও নড়ে উঠলেন। পৌর মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা আরও অনেককে সঙে নিয়ে জেলা প্রশাসক পরিদর্শনে গেলেন। দু দফা উচ্ছেদ অভিযান চালালেন। কিন্তু কেউ গ্রেপ্তার হল না। এমনকি, কারা এ দখল কাজে জড়িত তাও জানা গেল না।

আমার কাছে একটা বিষয় কোনভাবেই খোলাসা হয় না, সেটা হল, সরকারের বড় কর্তারা ঈদের ছুটিতে ছিলেন, বেশ ভাল কথা।

কিন্তু সরকারেরর ছোট কর্তা বীচ কর্মী, ট্যুরিষ্ট পুলিশ এরা তো ঈদের ছুটিতেও সাগর পাড়ের নিরাপত্তায় ছিলেন, তারা কেন দেখতে পেল না এত বড় অপকর্ম? কেন পত্রিকায় খবর হবার আগেই তারা দখলবাজদের বাধা দিল না? তাহলে সাগর পাড়ে তাদের দায়িত্বটি কী ছিল? এরকম নানা প্রশ্ন জড়ো হয় ।

পত্রিকায় খবর হবে, সারা দুনিয়া জানবে, তারপর ডিসি সাহেব, মেয়র সাহেব সিনেমার নায়ক হবেন। ঘটনাস্থলে যাবেন, কিছু একটা করে দেখাবেন, তারপর জনগণ হাততালী দেব, খুশিতে আহামরি হব, এরকম ঘটনা আমরা দেখতে চাই না।

এরকম ঘটনায় সবার মনে প্রশ্ন জাগায়, এটা তো চোর পুলিশ খেলা। সেই পুরনো প্রবাদ- চোরকে বল চুরি কর, পুলিশকে বল ধর ধর। কিংবা ফাইনালের আগে টেস্ট খেলা।

প্রথম টেস্টে দখলবাজরা হয়তো পারেনি। তাই বলে তারা থামেনি। বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং এ দায়িত্বে থাকা বড় আমলাদের সাথে এদের গভীর সখ্যতা। প্রথম টেস্টে হেরে গেলেও দ্বিতীয়-তৃতীয়তে তারা হারবে না এটা একরকম বলা-ই যায়।

খবর পেলাম, সরকারের চাকুরে একজন এডিসি ও একজন ম্যাজিষ্ট্রেট এ অপকান্ডে ইন্ধন যুগিয়েছেন। একজন সরকারের চাকুরে হয়ে কিভাবে এ অপকান্ড চালাতে সাহস পায়, সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না। কক্সবাজারে কি নেতা নেই? তারা চুপ কেন?

এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে তাদের সাথে নিশ্চয় একটা মোটা অংকের উৎকোচ বিনিময় হয়েছে।

এখন প্রশ্ন, কারা এ উৎকোচ বাণিজ্যটা করেছেন। তথ্যমতে, সাগরপাড় দখলে নিতে বাহারছড়ায় একটা বড় গ্রুপ আছে, তারা বাপদাদার সম্পত্তির মত পুরো সাগর দখলে নিতে মরিয়া।

মাঝে মধ্যে বড় আমলা ও নেতাদের সামনে ন্যাকা কান্নাও করেন- এ ব্যবসা ছাড়া তাদের কাছে আর কোন পেশা নাই, এটা না হলে তারা না খেয়ে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবতা হল সাগর পাড়ের এ ব্যবসাতেই তারা এখন অনেক বড় লোক। তাই তো তারা, মোটা অংকে আমলাদের-নেতাদের ম্যানেজ করেন, তারপর বছর বছর সাগর পাড় দখল নেন।

কর্তৃপক্ষকে বলি, এ অপতৎপরতা থামান। সাগর পাড়ের সব ঝুপড়ি দোকান তুলে দিন। পর্যটককে খোলা আকাশের নিচে সাগরের ঢেউ খেলা দেখতে দিন। কক্সবাজারের নেতারা একটু বিবেকবান হউন। কক্সবাজারকে বাঁচান।

ছানাউল করিম
গণমাধ্যম কর্মী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •