ফের অশান্ত কক্সবাজারের পাহাড়তলী

বিশেষ প্রতিবেদক:

এক সময় ভয়ংকর সন্ত্রাসের জনপদ ছিল কক্সবাজার শহরের ‘পাহাড়তলী’। পাহাড়ে ঘেরা এই এলাকায় প্রতিদিন খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, জমিদখলসহ কোন না কোন ঘটনা লেগেই থাকতো। তবে পুলিশের কঠোরতায় একের পর এক সন্ত্রাসী নিধনের ফলে ধীরে ধীরে ‘অপরাধ’ প্রবণতা কমতে থাকে। গত বছর দুয়েক সন্ত্রাসবিহীন পাহাড়তলীতে বেশ স্বস্তিতে আছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই স্বস্তি কেটে আবারও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা নতুন করে সংগঠিত হয়ে অশান্ত করে তোলার চেষ্টা করছে পাহাড়তলীকে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর কয়েকমাস আগে পাহাড়তলীতে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী আবুল বশর ওরফে ডাকাত বশর ওরফে বার্মাইয়া বশর। তাকে এলাকায় আসতে সহযোগিতা করে পাহাড়তলী এলাকার একজন রাজনৈতিক নেতা। ওই রাজনৈতিক নেতার আশ্রয়ে থেকে নতুন করে সন্ত্রাসীদের সংগঠিত করতে শুরু করে ডাকাত বশর। পুরনো ও নতুন সন্ত্রাসীদের নিয়ে পাহাড়তলীতে বাহিনী গড়ে তুলেন বশর। বশর বাহিনী গত তিন মাস ধরে প্রতিনিয়ত নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে আবারও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে নিরীহ সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসী বশর বাহিনীর অন্যতম সন্ত্রাসী হলেন দক্ষিণ পাহাড়তলী হালিমাপাড়া এলাকার মুজিব ওরফে বার্মাইয়া মুজিব, তার ভাই জোসাল ওরফে বার্মাইয়া জোসাল, জব্বার বাহিনীর প্রধান আব্দুল জব্বার, ইমরানসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী।

সন্ত্রাসী বার্মাইয়া মুজিব ও জোসাল পাহাড়তলীর শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান আরজু’র ভাই। ২০১৪ সালে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন সন্ত্রাসী আরজু। তাকে খুন করে পাহাড়তলীর সাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ে পুঁতে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১৮ মে মাটি খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে আবুল বশরের সাথে গ্রুপ করে বেপরোয়া হয়ে উঠে তার দুই ভাই মুজিব ও জোসাল। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারণে অন্যান্য সন্ত্রাসীদের মত প্রাণে বাঁচতে মুজিব এবং জোসালও এলাকা ছাড়ে। পরে সন্ত্রাসী বশরের মাধ্যমে এখন আবারও এলাকায় সন্ত্রাস কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বশরবাহিনী সন্ত্রাস কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে পাহাড়তলী হালিমাপাড়া ও সাত্তারঘোনা এলাকায়। এই দুই পাড়ার মানুষ বর্তমানে বশর বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হালিমাপাড়া এলাকার এক ব্যক্তি জানান, কয়েক বছর বেশ ভালই ছিল পাহাড়তলীর মানুষ। কিন্তু এখন সন্ত্রাসী বশর আবারও তার বাহিনী নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস কর্মকান্ড শুরু করেছে। প্রায় বাড়ির মালিককে জিম্মি করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে। বশর বাহিনীকে চাঁদা না দিয়ে এলাকায় নতুন বাড়ি তৈরী বা জমি বিক্রি করা যায় না। সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যেকোন একটি বাড়ি দখল করে নেয়। পরে লাখ টাকা আদায় করে বাড়ির দখল ছেড়ে দেয়। গেল রমজান মাসে সাত্তারঘোনা ও হালিমা পাড়া এলাকায় তিন জনের জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছিল। পরে লাখ টাকা চাঁদা দিয়ে জমি দখলমুক্ত করে। বর্তমানে এক ব্যক্তির বাড়ি দখল করে রেখেছে সন্ত্রাসীরা।

ওই ব্যক্তি আরও জানান, হালিমাপাড়া পানিরকুয়ার পাশে উৎপেতে থাকে বশর বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। ওই রাস্তা দিয়ে বা এলাকায় কেউ গেলেই ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে। বিশেষ করে নতুন কেউ গেলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় রাতের বেলায় চলাফেরা করতে এলাকার মানুষও আতঙ্কে ভুগছে। নিরবে অনেক অসহায় পরিবারের নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কিন্তু কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

সর্বশেষ গত ৫ দিন আগে সাত্তারঘোনা এলাকায় এক যুবককে ছিনতাই করে বশর বাহিনী। ওই যুবকের কাছ থেকে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়।

এদিকে বশর বাহিনীর বশর এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদেরকে দীর্ঘদিন ধরে হণ্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ। বশরের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতিসহ ডজনাধিক মামলা রয়েছে। বার বার অভিযান চালিয়েও তাদেরকে আটক করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায় প্রতিরাতে কোন না কোন বাড়িতে ডাকাতি করে বশরবাহিনী। ডাকাতির সময় বাড়ির নারীদেরকেও যৌন নির্যাতন করে সন্ত্রাসীরা। সারারাত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে দিনের বেলায় সাত্তারঘোনা ও হালিমাপাড়া এলাকার গোপন আস্তানায় আশ্রয় নেয়। তাদের অস্ত্রশস্ত্র জমা রাখে ফাতেমা নামে এক রোহিঙ্গা নারী। তার বাড়ি হালিমাপাড়া পাতকুয়ার পাশে। দিনরাত ওই নারী কয়েকজন সোর্স নিয়ে পাতকুয়ার পাশে অবস্থান করে। পাহাড়তলী এলাকায় পুলিশ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই নারী বশর বাহিনীকে দ্রুত খবর পৌছে দেয়। এরফলে বার বার অভিযান চালিয়েও পুলিশ তাদেরকে আটক করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসী বশর বাহিনীকে এলাকায় অবস্থান তৈরী করার পেছনে অর্থ ঢেলেছে দক্ষিণ পাহাড়তলী কাছিমেরঘোনা এলাকার শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী বাবুল। ইয়াবা ব্যবসা নির্বিঘœ করার জন্য বশর বাহিনীর উত্থানে লাখ লাখ টাকা খরচ জোগান দিচ্ছেন তিনি।

স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, সন্ত্রাসের অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন তারা বেশ স্বস্তিতে ছিল। কিন্তু এখন সন্ত্রাসীরা আবারও মাথাছাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। সাত্তারঘোনা ও হালিমাপাড়া এলাকায় প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে দ্রুত দমন করা না গেলে আবারও পুরো পাহাড়তলী সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। সাধারণ মানুষ বসবাসের পরিবেশ হারিয়ে ফেলবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামান বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘ডাকাত বশরকে পুলিশ খুঁজছে। কোন অবস্থাতে পাহাড়তলীতে আবারও সন্ত্রাসীদের মাথাছাড়া দিয়ে উঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান চলবে।’

জানা গেছে, এক সময় পুরো পাহাড়তলী কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে জিম্মি ছিল। গত ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ পাহাড়তলী ইসলামপুর এলাকায় নিজের হাতেগড়া বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির মোস্তফা। এরপর পাহাড়তলীতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী সিফাত ও আরফাত। গত ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর রামুর ঈদগড় সড়কের পাশে সিফাত ও আরফাতের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। এরপর সন্ত্রাসী বশর, দিলুসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের কড়াকড়িতে ব্যর্থ হয়। পরে একে একে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী কারাগারে চলে যায়। আর কেউ কেউ পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। এরপর ধীরে ধীরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে শান্তি ফিরে আসে। এই শান্তি ধরে রাখতে বশর বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান পাহাড়তলীর সর্বস্তরের মানুষ।

সর্বশেষ সংবাদ

এ্যাম্বুলেন্সে করে ইয়াবা পাচার, লোহাগাড়ায় গ্রেপ্তার ৪

চীনের রাষ্ট্রদূত ঝিমিং এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন

সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ১৬ রোহিঙ্গা আটক

প্রবারণা পূর্ণিমায় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ায় দিপংকর বড়ুয়া পিন্টুর কৃতজ্ঞতা

কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কের ৮০ শতাংশই খানাখন্দ

মাসে বন্ধ ৪৬ গার্মেন্টস, বেকার হয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার শ্রমিক

চকরিয়ায় দেয়াল চাপা পড়ে আহত হওয়া যুবকের মৃত্যু

৮৭টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে মীরাক্কেলের ‘মীর’র আত্মহত্যার চেষ্টা!

ফিলিস্তিন রক্ষায় কাবা শরিফের ইমাম সুদাইসির ঐক্যের ডাক

নিলামে কেনা বাইক রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে

একসঙ্গে আট বাচ্চা প্রসব ছাগলের

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে

কে এই লেখক ভট্টাচার্য

কে এই জয়

অতিরিক্ত জিমে বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে পুরুষরা

ঈদগাঁওতে গাড়ীর ধাক্কায় কলেজ শিক্ষার্থী আহত

মার্কিন ডেলিগেট কক্সবাজার পৌঁছেছেন

লামায় ডেইরি এসোসিয়েশন’র কমিটি গঠন

টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক সন্দিগ্ধ বিদেশিকে হন্য হয়ে খোঁজা হচ্ছে