ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
টেকনাফে ইয়াবা কিনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোঃ রাসেল মাহমুদ (৩৬) নামে একজন নিহত হয়েছে।
সে নারায়নগঞ্জের উত্তর লক্ষণঘোনার ফয়েজ আহমদের ছেলে।
শুক্রবার (১৪ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার ইয়াবা, ৫ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ এবং ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি মেতে, টেকনাফের হোয়াইক্যং দৈংগাকাটার মৃত আবুল হোছনের ছেলে অস্ত্র ও মাদক মামলার আসামি আমির হামাজার বাড়িতে ইয়াবা কিনতে গেলে ঘটনাটি ঘটে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের চারজন সদস্য আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, টেকনাফ মডেল থানাধীন হোয়াইক্যং ইউপিস্থ দৈংগাকাটা সাকিনের আমির হামজার বাড়ীর সামনে উজাইঅং চাকমার পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্রধারী দৃষ্কৃতিকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে থাকে।
এতে ঘটনাস্থলে এসআই বেরাহান উদ্দিন ভূইয়া, হাবিব হোসেন, সজীব সরকার এবং তুহিন হাসান আহত হয়েছে।
তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক আমার নির্দেশে নিজেদের জীবন সরকারী সম্পত্তি রক্ষার্থে পুলিশ রাউন্ড গুলি করে।
গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যেতে থাকলে আমরা গুলি করা বন্ধ করি এবং ঘটনাস্থল হতে অস্ত্রধারী দৃষ্কৃতিকারীরা গুলি করতে করতে দ্রুত অন্ধকার পাহাড়ের জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনসাধারনের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে দৃষ্কৃতিকারীদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ রাসেল মাহমুদের ডান হাতে ১টি দেশীয় তৈরী এলজি এবং ১ টি শপিং ব্যাগসহ মাটিতে ঘোংরানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। দেহ তল্লাশিকালে তার পরিহিত শার্টের বুক পকেটে ছবি সম্বলিত একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে মোঃ রাসেল মাহমুদের বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ আরো বলেন, ব্যাগের ভিতরে ৫,০০০ ইয়াবা পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশী করে আসামীদের বিক্ষিপ্তভাবে ফেলে যাওয়া ৫ রাউন্ড শর্টগানের তাজা কার্তুজ এবং ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে মৃত ঘোষণা করে চিকিৎসক। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান ওসি প্রদীপ।

থানা রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোঃ রাসেল মাহমুদের বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ বন্দর থানার মামলা নং- ১৫, তারিখ- ০৭/০৭/২০১৭খ্রিঃ, ধারা- ১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর ৯ (খ)/২৫ এবং নারায়নগঞ্জ বন্দর থানার মামলা নং- ৩০, তারিখ- ১৬/০৬/২০১৬খ্রিঃ, ধারা- ১৯৯০ সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) এর ৯ (খ)/২৫ এর এজাহার নামীয় আসামী মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •