রেজাউল করিম রেজা :
পেকুয়া কিংস্টন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নুরুল আমিন পেশায় তিনি শিক্ষক  ও ব্যবসায়ী। তবে তার চিন্তা চেতনা  কিন্তু একেবারে ভিন্ন। সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক পোস্টে যা লিখেন সবই তোলপাড় সৃষ্টি করে। প্রতিবার লিখেন রাস্তাঘাট, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,দর্শনীয় স্থান ও এলাকার নানাবিধ সমস্যার কথা। চেতনা শীল এই অধ্যক্ষ নুরুল আমিন এবার লিখেছেন ইউপি নির্বাচন নিয়ে।

২০০১-এর পরে আমি ভোটার হয়েছি এবং প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়াও সংসদ নির্বাচনেও ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছিল। এই সময় থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছি। শিক্ষকতা পেশায় চট্টগ্রাম বসবাস করলেও আমি আমার নির্বাচনী এলেকায় ভোটার হয়েছি। আমি দেখেছি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক মাফকাঠি না থাকার কারণে স্বাক্ষর জ্ঞানহীন লোকেরও প্রার্থী হওয়ার নজির রয়েছে হাজার হাজার। সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয় পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর/মেম্বার / পদে নিরক্ষর বা পঞ্চম শ্রেণী, অষ্টম শ্রেণী পাস, মেয়র/চেয়ারম্যান পদে এসএসসি পাস প্রার্থী । একজন কাউন্সিলর বা মেম্বার যদি পঞ্চম শ্রেণী পাস বা নিরক্ষর হন এবং একজন মেয়র বা চেয়ারম্যান যদি হন এসএসসি পাস তাহলে তারা কীভাবে পরিচালনা করবেন একটি পৌরসভা বা ইউনিয়ন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে শত শত মেম্বার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, অথচ অনেকেই অশিক্ষিত। অনেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যন্ত যাননি, শুধু দস্তখত শিখেছেন। বরাদ্দকৃত কাগজপত্র তারা পড়তে পারেন না। আমি আমার নিজ ইউনিয়নের কথা বলি। আমার ইউনিয়নে পাঁচ/ছয় জন মেম্বার রয়েছেন, যারা শুধু দস্তখত শিখেছেন। এসব লোককে জনগণই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আবার অনেক চেয়ারম্যানও রয়েছেন, যারা অষ্টম শ্রেণী পর্যন্তও যাননি। ভোট প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। প্রতিটি ভোটার নাগরিকের অধিকারও রয়েছে মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থী হওয়ার। এটা সবার নাগরিক অধিকার।

আমার জানা মতে, দালাল, ভিক্ষা পেশার মানুষও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। পাঠক হয়তো মনে করবেন এরা কি মানুষ নয় অথবা এদের কি অধিকার নেই প্রার্থী হওয়ার? নিশ্চয়ই আছে, তা তাদের নাগরিক অধিকার। তারপরও বলতে হয়, একজন মেম্বার, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থী ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতার একটি মাপকাঠি থাকা দরকার। কারণ একজন জনপ্রতিনিধি শিক্ষিত না হলে তার দ্বারা ওই এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলে সে যেমন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না, তেমনি কী প্রকল্প তৈরি করতে হবে, কোন প্রকল্পে কত বরাদ্দ আনতে হবে তা কিছুই জানেন না। এজন্য উচিত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের একটি শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করা এবং এ ব্যাপারে একটি আইন পাস করা। ঠিক করা প্রয়োজন মেম্বার প্রার্থী, চেয়ারম্যান প্রার্থী , কাউন্সিলর ও মেয়র প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার পৃথক মাফকাঠি । তাহলে প্রার্থীর সংখ্যা কমবে জনগণও পাবে শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি।

যার দ্বারা উন্নয়ন ঘটবে এলাকার। অনেক সময় দেখা যায়, অশিক্ষিত লোক প্রার্থী হওয়ার কারণে কোনো শিক্ষিত লোক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। তাদের বক্তব্য, একজন অশিক্ষিত লোকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেয়ে প্রার্থী না হওয়াই ভালো। সরকার দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যে আইন প্রণয়ন করেছে, এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে করে প্রকৃত রাজনৈতিক দলের নেতারা যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করে তারাই শুধু প্রার্থী হতে পারবে। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থীও হতে পারবে। এর সঙ্গে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি যদি নির্ধারণ করা হয় তাহলে দেশের মানুষ যেমন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে, তেমনি হবে এলাকার উন্নয়ন।
আমরা মনে করি, সামনে যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসছে, এর আগে একটি সংশোধনী আনা প্রয়োজন।

যদি সব জনপ্রতিনিধি শিক্ষিত হন, শিক্ষিত জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। একজন দার্শনিকের ভাষায়: ‘আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেব’ এই স্লোগান দিয়ে আমরা শিক্ষার দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক এগিয়ে। শিক্ষিত জাতির কথা বলতে গেলে জনপ্রতিনিধিদেরও শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।
আশা করি, সরকার বিষয়টি সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে এবং গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •