ড.শিরিন আক্তার চবি’র ভিসি হওয়ায় রামুতে খুশির বন্যা

কামাল হোসেন,রামুঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি (ভারপ্রাপ্ত) হলেন রামুর কৃতিসন্তান ড.শিরিন আক্তার।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তিঁনি প্রথম মহিলা ভিসি।তাঁর এই অর্জনে আজ পুরো রামুবাসি গর্বিত। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রামুর জনসাধারনের মাঝে বিরাজ করছে খুশির বন্যা।তাঁর এই অর্জন রামুকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।তিঁনি এখন রামুবাসির অভিনন্দনে ভাসছেন। রামুর বিভিন্ন পেশাজিবী সংগঠনের নেতা,ছাত্র ছাত্রী,রাজনিতীবিদ,শিক্ষাবিদ সহ শুভাখাংকিরা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে তাঁর বাস ভবনে ছুটে যান। গত ১৩ জুন ২০১৯ (বৃহস্পতিবার)
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের স্মারক নং-শিম/শা:১৮/
৯চ:বি:-১/২০০৬/১৭৫, এর আলোকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তারকে (বর্তমান মাননীয় উপ-উপাচার্য) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতার স্বার্থে ভাইস-চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভাইস-চ্যান্সেলরের রুটিন দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার তাঁকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করায় মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট শুকরিয়া আদায় করেন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মান্যবর চ্যান্সেলর জনাব মো. আবদুল হামিদ, বঙ্গবন্ধু তনয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি ও মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এম.পি.কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, নান্দনিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন জ্ঞান-গবেষণার তীর্থ কেন্দ্রে রূপান্তর করতে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন। তাঁর এ পবিত্র দায়িত্ব পালনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার ১৯৯১ সনে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি. ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৮১ সনে এম.এ. এবং ১৯৭৬ সনে বি.এ. অনার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। এ মেধাবী-গুণী শিক্ষক-গবেষক ১৯৭৫ সনে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭৩ সনে কক্সবাজার সরকারী মহিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার ১ জানুয়ারি ১৯৯৬ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি ২৫ জানুয়ারি ২০০৬ সনে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। এ কৃতি গবেষকের সাহিত্য বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান জার্ণালে প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে গল্প, উপন্যাস ও বিভিন্ন গবেষণা প্রবন্ধ উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৬ সনে নজরুল জয়ন্তী চট্টগ্রাম কর্তৃক নজরুল পদক সম্মাননাসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্মানসূচক পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তিনি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, সৌদিআরব, সিংগাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশ সফর করেন। উল্লেখ্য, এ গুণী শিক্ষক ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের অনুসন্ধান কমিটির (প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট নাম সুপারিশ প্রদানের জন্য) সদস্য ছিলেন। তিনি নির্বাচক মন্ডলীর সদস্য হিসেবে জয়ীতার (বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারী নির্বাচন) সাথে কাজ করেছেন। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম রজত জয়ন্তী, একুশে ফেব্রুয়ারি এবং মহান স্বাধীনতা দিবস ও মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা, ভারত, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব অব হীরণ লাইব্রেরি, কলকাতা, ভারত-এর সদস্য ছিলেন। তিনি ‘কুচবিহার অনাসৃষ্টি’ (বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা), পশ্চিমবঙ্গ-এর উপদেষ্টা, ‘লোক বাংলা’ (লোকসংস্কৃতি বিষয়ক সাময়িকী), ঢাকা, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ হেরিটেজ রিসার্চ সেন্টার (BHRC), ঢাকা, বাংলাদেশ-এর সদস্য। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের অধীনে প্রকাশিত বিভিন্ন জার্ণাল, পান্ডুলিপি (গবেষণা পত্রিকা), বাংলা বিভাগ এর সম্মানিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তা ছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার-সিম্পুজিয়ামে অংশগ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ তিনি সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ভারতের আচার্য দীনেশ চন্দ্র সেন গোল্ড মেডেল এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন।
প্রফেসর ড. শিরীণ আক্তার ১৯৫৬ সনে কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আফসার কামাল চৌধুরী এবং মা মরহুমা বেগম লুৎফুন্নাহার কামাল। তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবঃ) জনাব মো. লতিফুল আলম চৌধুরী। তিনি ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জননী।

সর্বশেষ সংবাদ

হোয়ানকে হোপ ফাউন্ডেশনের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সম্পন্ন

কলাতলী জোন এখন পরিচ্ছন্ন, সবার আরো সহযোগিতা দরকার

ঈদগাহ্ রিপোর্টার্স সোসাইটির শীতবস্ত্র বিতরণ

গর্জনিয়ায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দিলো বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ

ইট ভাটায় মাটি কাটতে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ

উকিল কমিশন যাওয়ার আগেই অর্ধশত বছরের ফোরকানিয়া মাদরাসা নিশ্চিহ্ন

মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক ত্রুীড়া সাহিত্য-সাংস্কৃতির পুরস্কার

ডা. অনুপম বড়ুয়াকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ

কক্সবাজার জেলা পিকআপ ও মিনি ট্রাক চালক সমিতির মিলনমেলা ও বনভোজন অনুষ্ঠিত

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা

টেকনাফে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালিত

ঘরকাটা ইঁদুরেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে -হাসানুল হক ইনু

কক্সবাজার সাহিত্য একাডেমির সভা

চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়

নতুন স্বপ্নযাত্রায় জয়ী হতে হবে -পুলিশ সুপার

হাটহাজারীতে ফুলকপি চাষে বাম্পার ফলন

স্থায়ী বাসিন্দার সনদ পাচ্ছে পাহাড়ীরা

কক্সবাজারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

মিয়ানমার থেকে টেকনাফে ফিরেছে ৩২ জেলে

ফুলছড়ি মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায়