আমার ছেলেকে পুরস্কৃত করা উচিত, ওসি মোয়াজ্জেমের মা

ডেস্ক নিউজ:
আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে লুকোচুরির পর এখন পুলিশ বলছে ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন পালিয়ে গেছেন।

নুসরাতের ‘ভিডিও ভাইরাল করার’ অভিযোগের মামলার আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এখন নিরুদ্দেশ। পৈতৃক বাড়ি যশোরেও নেই ওসি মোয়াজ্জেমের কোনো খবর।

এ অবস্থায় ওসি মোয়াজ্জেমের মা তার অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার ভাইয়েরা আছেন দুশ্চিন্তায়। আবার নানাজনের নানা কথায় তারা বিব্রত। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে পরিবারের সঙ্গে নেই ওসি মোয়াজ্জেমের যোগাযোগ।

ওসি মোয়াজ্জেমের বাবার নাম খন্দকার আনসার আলী। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার এক ভাই সৌদি আরবে ও আরেক ভাই আমেরিকা প্রবাসী। তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে।

বাবার চাকরি সুবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে যশোর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ১৯৯৭ সালে উপ-পরিদর্শক পদে পুলিশে যোগদান করেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০১০ সালের দিকে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। প্রায় দেড় বছর সোনাগাজী থানায় ওসির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বাড়ি। পৈতৃক দোতলা বাড়িতে ছোট দুই ভাই ও একমাত্র বিবাহিত বোন ও মা থাকছেন। মোয়াজ্জেমের স্ত্রী-সন্তানদের কেউ এখানে থাকেন না।

মঙ্গলবার তার বাড়ি গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানিয়েছেন, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর থেকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই তার। কোথায় আছেন, কেমন আছেন, সেটিও তাদের জানা নেই।

ওসি মোয়াজ্জেমের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে জীবনে কোনো অন্যায় কাজ করেনি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার ছেলে নিরাপদে ফিরে আসুক, এটাই আমার দাবি। নুসরাত হত্যার বিচার হোক। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আমার ছেলেকে পুরস্কৃত করা উচিত, আমার ছেলের জন্যই নুসরাতের হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে।’

জানা যায়, নুসরাত যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন তখনো আসামিদের গ্রেফতার না করে মামলা দায়ের বিলম্বিত করেছেন ওসি মোয়াজ্জেম। ৮ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় কোনো আসামি ছাড় পাবে না ঘোষণা দিলে ওসি মোয়াজ্জেমের ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টি সামনে চলে আসে।

এরপর গত ১৫ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।

একপর্যায়ে ফেনীর সোনাগাজী থানা থেকে তাকে প্রত্যাহার করে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। রংপুর রেঞ্জে যোগ দিলেও ঈদের পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

গত ২৬ মে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামস জগলুল হোসেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ১৭ জুন পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওসি মোয়াজ্জেমের ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, ওয়ারেন্ট জারির (২৬ মে) পর আর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ভাই। আগে নিয়মিত কথা হতো। এখন কোথায় আছেন, কেমন আছেন জানি না।

তিনি বলেন, নুসরাত হত্যার মূল মামলা বাদ দিয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাইবার ক্রাইম মামলা নিয়ে বেশি তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নুসরাত হত্যার মূল আসামিদের অনেকে এখনো গ্রেফতার হয়নি।

ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, নুসরাতের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি আমার ভাই প্রকাশ করেননি। অন্য একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে। এই অপরাধে সাইবার ক্রাইমের মামলা দেয়া হয়েছে। অথচ ওই ভিডিওটি নুসরাতের দেয়া বড় ডকুমেন্ট। যার ভিত্তিতে ভাই অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করেছিল। যার জন্য ভাইকে পুরস্কৃত করা উচিত ছিল। সেটি না করে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের কাছে খোঁজ নেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। কর্মজীবনে কোনো অপরাধের তথ্য নেই তার। সাধারণ জীবনযাপন করেন। এ ঘটনার পর নানা রকম কথা শুনতে হচ্ছে আমাদের।

তবে ওসি মোয়াজ্জেমের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী উম্মে হানি দাবি করেন, নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের আটক করা সহজ ছিল না। ভাই সেটি করতে পেরেছিলেন নুসরাতের বক্তব্যের ভিত্তিতে। আমাদের ধারণা, তিনি সেফটি ডকুমেন্ট হিসেবে ভিডিওটি ধারণ করেছেন। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেননি। টেবিলের ওপর ফোন রেখে বাথরুমে গিয়েছিলেন। এ ফাঁকে তার মোবাইল থেকে ভিডিওটি হস্তান্তর হয়েছিল।

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এর আগে নুসরাতের মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ওই সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন। ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পিবিআই। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুদিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল ১১ জুন। এরই মধ্যে পালিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম।

সর্বশেষ সংবাদ

কোস্ট গার্ড কর্তৃক ৬ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে এক বৃদ্ধা নিহত

কীর্তি মানের মৃত্যু নেই…

স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের ছবি ফেসবুকে দিলেন পুলিশ সদস্য

দেখুন আলিম দারের যে আউট নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়

বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজ নির্বাচিত

প্রসূতি মায়ের অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

এড. আমজাদের তৃতীয় নামাজে জানাজায় শোকার্ত জনতার ঢল, দাফন সম্পন্ন,

টেকনাফে ৪টি অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্রপাচারকারী আটক

আইনজীবী সমিতির পুরাতন ভবনের দেয়াল পড়ে এক শ্রমিক নিহত

কক্সবাজারের সাংবাদিকতার যতকথা (পর্ব-অষ্টম)

টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩ মানবপাচারকারী নিহত

‘জঙ্গিরা নিজেদের স্বার্থে তরুণদের বেহেশতের স্বপ্ন দেখায়’

চট্টগ্রামে পুলিশের স্ত্রী নারী কনস্টেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মালুমঘাট স্টেডিয়ামে আন্ত:স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী

তামাক চাষ বন্ধে সরকারকে আহবান জানাচ্ছি

ভাইস চেয়ারম্যান ছুট্টোকে প্যানেল চেয়ারম্যান পদে ১৫ চেয়ারম্যানের সমর্থন

তীব্র ভাঙ্গনের মুখে বাঁকখালী নদী আতংকে হাজারো মানুষ

মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ইয়াবাসহ মহিলা গ্রেপ্তার

উখিয়ায় দামী ব্রান্ডের ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান