শাহেদ মিজান, সিবিএন:

উচ্চ আদালতের রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে গেজেটভুক্ত এড. ফরিদুল ইসলামের শপথ আটকে গেছে। মঙ্গলবার (১১ জুন) তার শপথ গ্রহণের দিন ধার্য্য ছিলো। কিন্তু উচ্চ আদালতে স্থিতিত রুল নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি অবগত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান এড. ফরিদুল ইসলামকে শপথ করাননি। শপথ না করিয়ে রুল নিষ্পত্তিসহ সমূহ আইনী সমস্যা সমাধান করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার। এড. ফরিদুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আজিজুল হক সাগর এই তথ্য জানান। তিনি নির্বাচন কমিশন ইস্যু চিঠিটি এই প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বিভাগীয় কমিশনার লিখেছেন, কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত প্রার্থীর (এড. ফরিদুল ইসলাম) গেজেট গত ২৭ মে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্ণিত কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জনৈক আজিজুল হক সাগরের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে তার কর্তৃক দাখিলকৃত রীট পিটিশন মামলা- ২৮৮৯/২০১৯ এর ১১.০২.২০১৯ ইংরেজি তারিখের আদেশে তার (আজিজুল হক সাগর) মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন থেকে আদেশ প্রদান করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে জনাব ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক দাখিলকৃত লিভ টু আপীল নং- ৮৬৮/২০১৯ মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের অ্যাপীলেট বিভাগে ফুল বেঞ্চের উপস্থিতিতে ১১/০৪/২০১৯ ইংরেজি তারিখে আদেশের রীট পিটিশন ২৮৮৯/২০১৯ এর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২৮৮৯/২০১৯ এর রীটের স্থগিতাদেশের উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, রীট পিটিশন নং- ২৮৮৯/২০১৯ এর ৩০/০৪/২০১৯ ইংরেজি তারিখের আদেশে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত ঘোষণা কেন আইনগত এখতিয়া বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না সে মর্মে প্রতিপক্ষগণের উপর সাপ্লিমেন্টরি রুল ইস্যু করেন। বর্ণিত অবস্থায় মাননীয় হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ রীট পিটিশন মামলা নং ২৮৮৯/২০১৯ এ ১১/০৩/২০১৯ ইংরেজি তারিখে ইস্যুকৃত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শপথ গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা আইনগত বৈধ হবে কিনা সে বিষয়ে সদয় সিদ্ধান্ত প্রদানের অনুরোধ করা হলো।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী আজিুল হক সাগর বলেন, হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি না করে নির্বাচন কমিশন এড. ফরিদুল ইসলাম চেয়াম্যান হিসেবে গেজেট ভুক্ত করেন। সে মোতাবেক মঙ্গলবার (১১জুন) শপথ গ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়। তার আগে রুল নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়টি অবগত করে তার শপথ গ্রহণ স্থগিত করার জন্য আমি বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করি। আবেদনটি আমলে তিনি শপথ স্থগিত করেছেন এবং রুল নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি ইস্যু করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •