শ্রীধর দত্ত

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পুরুষের যতগুলো সাফল্য নারীর অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় সাফল্য লাভ করেছে। নারী এবং পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। আমরা যা কিছু নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা নিজ পরিবার থেকেই আমাদের সূত্রপাত হয়। পরিবারের কথা আসলে প্রথমে আসে মা। মার কাছ থেকে আমরা ভাষা শিখি, চলতে শিখি ও হাটতে শিখি। প্রতিটি গর্ভধারিনী মা একজন নারী। ছেলে যখন বড় হয়ে বিবাহ উপযুক্ত হয়, তখন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সেও এক নারী। আমি এখানে গর্ভধারিনী মা এবং প্রিয়তমা স্ত্রীর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব। মা-বাবার নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষায় একটি সন্তান সু সন্তান হতে পারে। আবার প্রিয়তমা স্ত্রীর সান্নিধ্যে স্বামীও সুন্দর জীবন পরিচালিত করতে পারে। আজ বেশীরভাগ অপরাধ নারী ঘটিত কারণে হয়ে থাকে। অসুস্থ প্রতিযোগিতায় আমাদেরকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একজন নারী চাইলে তার স্বামীকে অসৎ কিংবা দুর্নীতি থেকে সরিয়ে নিয়ে আসতে পারে। আজ আমাদের দেশে ঘুষ দুর্নীতি মাকড়সার জালের মত বিস্তার লাভ করেছে। ঘুষ-দুর্নীতি কেন হচ্ছে, কি জন্য হচ্ছে তা সবারই জানা। বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে অনেক গুণীজন অনেক কিছু লিখেছেন, আমি আর এই নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাই না। একটা মধ্যবিত্ত পরিবার অল্প বেতনে চাকরি করে কতো সুন্দর করেই না চলছে। হয়তো তাদের অভাব আছে, অপূরণ আছে তবু তারা সুখী। একদিন তো পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন এরকম দুর্নীতি করে অবৈধ রোজগারের আয় নিজে খাচ্ছেন ও পরিবারকে খাওয়াচ্ছেন; মৃত্যুর পর আল্লাহকে কি জবাব দিবেন? রামায়ণের বাল্মিকী মুনির কথা মনে পড়ে গেল – রত্নাকর দস্যু ডাকাতি করে মা, বাবা স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ পোষণ করতো। একদিন এক মুনিঋষি বললো তুমি যে এই পাপের কাজ করছো এই পাপের ভাগ কেউ কি নিবে? তুমি তোমার পরিবার পরিজনকে জিজ্ঞেস করো? মুনির কথা মতো পরিবারের সকল সদস্যকে বললো কিন্তু কেউ তার পাপের ভাগ নিতে আগ্রহী নয়। রত্নাকর দস্যু তার অসৎ কৃতকর্ম বুঝতে পারলো এবং তিনি পরবর্তীতে সাধনার বলে বাল্মিকী মুনিতে রূপান্তরিত হয়। একটি পরিবার থাকা- খাওয়া, বাচ্চার লেখাপড়া নিয়ে পরিবারে কতই বা খরচ হয়। সরকারি চাকরিজীবী যে পরিমাণ বেতন স্কেল তাতে কম হবার কথা নয়। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা হয়তো নিজ পরিবার দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছে নিশ্চয়ই। প্রিয়তমা স্ত্রীর চাহিদা ভালো দামি দামি শাড়ি লাগবে, ফ্লাটে থাকতে হবে, বনানী মতিঝিলে বাড়ি করতে হবে, আমার বাপের বাড়ির লোকজনকে এটা সেটা দিতে হবে, না হলে তোমার মান সম্মান থাকবে না। বাচ্চাদের সরকারি স্কুলে পড়াতে হবে তার জন্য শহরে থাকতে হবে এ ধরনের নানা চাহিদা। পাশের বাসার ভাবিটার চেয়ে আরো দামী শাড়ি কিনতে হবে,আমার ওই গয়নাটা লাগবে অর্থাৎ চাহিদার কোন শেষ নাই ! নারীর চাহিদা পূরণের জন্য হয়তো ভুক্তভোগী পুরুষটি অর্থলোভী ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ পুরুষে রুপান্তরিত হচ্ছে। আমরা আসলে অল্পে সন্তুষ্ট নয়, আমার আছে আরো চাই, আরো লাগবে, এই মন মানসিকতা। পরিবারের মা যদি বলতো না বাবা আমি তোর অসৎ পয়সার ইনকাম খাব না, প্রিয়তমা স্ত্রী যদি বলতো তোমার অসৎ রোজগার আমার দরকার নেই, সন্তান যদি বলতো বাবা তুমি অসৎ পথে ইনকাম করো না, যা আছে তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। কথায় আছে, ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন, যদিও পৃথক হয় নারীর কারণ। আপনি যদি একটি পরিবারের কথা চিন্তা করেন তাহলে সমাজ ও দেশের চিন্তা হয়ে যায়। পরিবার থেকে আপনার সন্তানকে যথোপযুক্ত শিক্ষা দিন। অসত্য অসৎ পথে থেকে দূরে রাখুন। ছেলে এবং মেয়েকে এমন শিক্ষা দিন যাতে অসৎ পথে না চলে কিংবা অসতৎ ভর্তি টাকা উপার্জন না করে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হয়ে যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে সে শিক্ষার মূল্য কোথায়? আজ যারা আইনের রক্ষক তারা হচ্ছে ভক্ষক। আর যারা দুর্নীতি দমন করবে সেই দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিগ্রস্ত। এক কথায় যারা প্রশাসনের পাহারাদার বা চৌকিদার তারাই হচ্ছে চোর কিংবা ডাকাত। এটাই বাস্তব পরিস্থিতি। আপনারা মনে হয় হাজী মুহাম্মদ মহসিন এর নাম শুনেছেন তার সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি তা দেশের মানুষের কল্যাণের কাজে ব্যয় করেছেন। যে যার অবস্থান থেকে সমাজের জন্য কাজ করে পৃথিবীতে কল্যাণের ভাগীদার হন। মানুষ আপনাকে ঘৃণা করবে, আপনার পরিবারকে ঘৃণা করবে এমন কাজ করেন কেন। ভোগী নয়, ত্যাগী হউন। মৃত্যুর পরেও যেন আপনাকে সবাই সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। সমাজে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতি দমন করতে প্রতিটি নারীর গুরুত্ব অপরিসীম। নেতাজি বলেছেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদেরকে স্বাধীনতা দিবো, নেপোলিয়ন বলতেন আমাকে শিক্ষিত মা দাও আমি শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো, ঠিক তেমনি আমিও বলছি নারীদেরকে সুন্দর মন মানসিকতা দাও যাতে দুর্নীতিযুক্ত ঘুনে ধরা সমাজ পরিবর্তিত হয়। নারীদের সাহসিকতা এবং কঠোরতায একটি পুরুষের জীবন পাল্টে দিতে পারে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •