cbn  

ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
ঈদ আনন্দের ফাঁকে কক্সবাজার সদরের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারুয়াখালী দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলিত হয়েছে। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো প্রথম বারের মতো পুনর্মিলনী উৎসব।
৮ জুন ‘এসো সবে প্রাণের টানে, মিলবো হেসে ঐকতানে’ শ্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আলিয়া (মাস্টার্স) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হক।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল বশর।
অনুষ্ঠানে ৮ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রাক্তন ছাত্র ও কক্সবাজার সিটি কলেজের শিক্ষক জহিরুল হক।
প্রথমবারের মতো পুনর্মিলনীতে তিন শতাধিক প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
প্রাক্তনদের সম্মিলনের এই দিনটির স্মৃতিকে জাগরিত করতে আলোচনা সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তৃতা করেন প্রাক্তনরা। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও কথা বলেন বর্তমান শিক্ষকরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল- পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও উৎসব র‌্যালি। আয়োজন ছিল মধ্যাহ্নভোজের।
সর্বশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রাক্তনদের আয়োজনকে মাতিয়ে তোলে। বিশেষ করে মাওলানা আবুল বশরদের মতো প্রবীণ ও গুণী মানুষগুলোর আন্তরিক উপস্থিতি এই আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

ভারুয়াখালী দারুল উলুমের মতো ক্ষুদ্র একটি পাঠশালা থেকে বের হওয়া অনেকে আজ দেশের নামকরা শিক্ষাবিদ। নিয়োজিত রয়েছে আইন পেশা, সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, জনপ্রতিনিধিসহ অনেক মূল্যবান পদে। ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আলোকিত মুখগুলো ছাত্রের মতো মিলিত হয়েছিল পুরনো ক্যাম্পাসে। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে অজ পাড়াগাঁয়ের এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। প্রাণ পেয়েছে বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রস্ফুটিত গোলাপগুলো একই কাননে মিলিত হতে দেখে আনন্দিত-উদ্বেলিত হয়েছে এলাকাবাসীও।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ নেজামুল হক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সবার আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো পুনর্মিলনী উৎসব সম্পন্ন হলো। সবদিক বিবেচনায় এই আয়োজনকে সফল বলা যায়।
তিনি বলেন, সারাদিন সম্মানিত শিক্ষকদের সান্নিধ্যে থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হলো।
যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক হলো তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। প্রতিবছর এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •