এ কে এম ইকবাল ফারুক,চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের বিপণী বিতানের সামনে প্রকাশ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত স্কুলছাত্র আনাচ ইব্রাহিম হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও গন স্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। আনাচ ইব্রাহিমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া কেন্দ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে শনিবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন অংশ নেয়।

মানববন্ধন পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিহত আনাচের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চকরিয়া কেন্দ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহামুদুল হক, জেলা আ’লীগের সদস্য ও চকরিয়া বর্ণমালা একাডেমির চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ দুলাল, চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি নোমান জিহাদ, চকরিয়া কেন্দ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক দিদারুল আলম, খোরশেদ আলম, সেলিম উল্লাহ, পেশাজীবি আবু ছালাম, শিক্ষক আতিক উদ্দিন, কাউসার উদ্দিন, নরেশ রুদ্র ও নিহত আনচের ভাই আয়াচ ইব্রাহিম প্রমুখ। পরে আনাচ ইব্রাহিমের স্বরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবীতে গন স্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঈদের কেনাকাটা করে গত ২৫ মে রাতে বাড়ি ফেরার পথে চকরিয়া পৌর শহরের বিপণী বিতানের সামনে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে স্কুলছাত্র আনাচ ইব্রাহিমকে হত্যা করার প্রায় এক পক্ষকাল অতিবাহিত হতে চললেও পুলিশ এখনো এ খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। যা খুবই দু:খজনক। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আনাচ ইব্রাহিমের খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছেনা। মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে দ্রুতম সময়ের মধ্যে আনাচ ইব্রাহিমের খুনিদের গ্রেপ্তারেরও দাবী জানানো হয় ।

প্রসঙ্গত: ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার পথে গত ২৫ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের সুপার মার্কেটের সামনে দূবৃত্তরা প্রকাশ্যে স্কুলছাত্র আনাচ ইব্রাহীমকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় । পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে চুনতি এলাকায় মারা যায় আনাচ। এঘটনার একদিন পর নিহত আনাচের পিতা হাফেজ মৌলনা নেছার আহমদ বাদী হয়ে ৬জনের নাম উল্লেখ করে ১২জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে রিয়াজ উদ্দিন নামে এক যুবককে গ্রেফতার করলেও আসল খুনিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পুলিশের দাবী এ খুনের ঘটনায় জড়িদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •