চকরিয়া সংবাদদাতাঃ
চকরিয়ায় রাতের আঁধারে আবদুল হামিদ (২৮) নামের এক যুবককে বেদড়ক পিঠিয়ে গুরুতর জখম করে ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঈদের প্রথম দিন রাতেই ঘটনাটি ঘটেছে। আহত যুবককে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই যুবককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ছিনতাইয়ের শিকার আবদুল হামিদ উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডস্থ দিগরপানখালী এলাকার মৃত ফয়েজ আহমদের ছেলে। এ ঘটনায় আক্রান্ত যুবক বাদী হয়ে ৮জনকে অভিযুক্ত করে আরো ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ঈদের চাঁদ রাতে চিরিংগা থেকে ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দিগরপানখালী এলাকার মৃত ফয়েজ আহমদের ছেলে আবদুল হামিদ। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডস্থ রাজারবিল ডেইলপাড়া নতুন মসজিদের সামনে চলাচল রাস্তায় পৌছলে পূর্বথেকে উৎপেতে থাকা স্বশস্ত্র একদল দূর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে আক্রমণ করে আবদুল হামিদকে বেদড়ক পিঠিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তার কাছে থাকা নগদ ৬৫হাজার টাকা, মোবাইলসহ বিভিন্ন মালামাল ছিনিয়ে নেয়। এসময় ছিনতাইকারীর সাথে প্রতিবাদ করলে তাকে দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাতে ও মাথার পেছনের গদ্দানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই সময় ছিনতাইয়ের কবল থেকে বাঁচতে যুবক আবদুল হামিদ শৌর চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার সাথে সাথে ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় আহত যুবককে স্থানীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। ছিনতাইয়ের এ ঘটনা নিয়ে আক্রান্ত যুবক বাদী হয়ে ৬জনকে অভিযুক্ত করে আরো ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। থানায় দায়েরকৃত অভিযুক্ত আসামীরা হলেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুনিয়া এলাকার মৃত শের আলীর ছেলে মো: হামিদুল হক, একই এলাকার মৃত আমির হামজার ছেলে মকছুদ আহমদ , মৃত লাল মিয়ার ছেলে আহমদ হোসেন প্রকাশ পুরা টইন্যা, মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে বাহাদুর আলম, মো.আলমের ছেলে কাজল, মৃত মোহাম্মদ সওদাগরের ছেলে মো.মিসকাত, মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে এরশাদ, আবদুল করিমের ছেলে নুরুল কাদেরসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। তবে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করতে থানার এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যটা পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •