এম.এ আজিজ রাসেল :

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের হোটেল মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টে যাওয়ার প্রধান সড়কের বেহালদশা সৃষ্টি হয়েছে। একইভাবে লাবণী পয়েন্ট থেকে সুগন্ধা পয়েন্টে আসার সীগাল সড়কটিও ভঙ্গুর হয়েছে পড়েছে। সড়ক দুটির কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত। দু’দিনের গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হওয়া গর্তে জমেছে পানি। যার জন্য সড়ক আর গর্ত বুঝা যাচ্ছে না। এছাড়া গর্ত এড়িয়ে যান চলাচল করছে ফুটপাত দিয়ে। ফলে ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। লক্কর ঝক্কর সড়ক নিয়ে পর্যটকেরা নেতিবাচক মন্তব্য করছে। এতে সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে কক্সবাজারের।

মঙ্গলবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুগন্ধা পয়েন্টে একটি টমটম কে সাইড দিয়ে গিয়ে পাশের একটি রিকসা উল্টে যায়। এতে রিকসা চালক ও যাত্রী আহত হয়।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার জন্য রয়েছে ৬টি পয়েন্ট। পয়েন্টগুলো হলো- লাবণী পয়েন্ট, ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট, শৈবাল পয়েন্ট, কবিতা চত্ত্বর পয়েন্ট, কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্ট। তবে বেশিরভাগ পর্যটক ও স্থানীয়রা সুগন্ধা এবং লাবণী পয়েন্টে যায়। কিন্তু সুগন্ধা ও সীগাল সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়ক দুটি দেখলেই মনে হবে কক্সবাজার এখনও অনুন্নত শহর। এতে পর্যটন শহরের কোন ছিন্ন যেন নেই। যা পর্যটন শিল্প বিকাশে অন্যতম বাঁধা বলে মনে করছেন সুধী মহল। এ জন্য বিশেষজ্ঞরা দুষছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। পর্যটন মৌসুমের শুরুতে সড়কের এমন করুণ দশায় ব্যবসায়ীদের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা। তাছাড়া এবার ঈদ উপলক্ষে এখানে বিপুল পর্যটকের আগমণ হয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে চলাচলে পর্যটকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হবে। ঘটবে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা ঢাকার পর্যটক দম্পতি তাহসিন সিদ্দিক ও জাকিয়া সিদ্দিক বলেন, প্রতি বছর ছুটি কাটাতে তারা কক্সবাজারে ছুটে আসেন। কিন্তু এখানকার সড়ক দেখলে মন খারাপ হয়ে যায় তাদের। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান। তাদের মতো এখানে ঘুরতে আসা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জেবিন, রূপা ও মারুফ হায়দার বলেন, কক্সবাজারের সুনাম দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু এখানকার সড়ক ভাল না হলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারের গুরুত্ব কমে যাবে। ক্ষুন্ন হবে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতের সুনাম।

স্থানীয় ব্যবসায়ী জয়নাল ও হেলাল বলেন, অনেকদিন পর্যটক খরা ছিল। কিন্তু এখন পর্যটক আসছে। এই অবস্থায় সুগন্ধ্যা সড়ক সংস্কার না হলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখিন হবে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বদরুল হাসান মিল্কী, কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাসেল আহমেদ নোবেল বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে হোটেল মোটেল জোনের সকল সড়ক-উপসড়ক সংস্কার জরুরী। যাতে পর্যটকদের কোন কষ্ট না হয়। সড়ক ভাল না হলে পর্যটকরা কক্সবাজার বিমূখ হবে। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

হোটেল মোটেল গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজার পর্যটন শিল্প বিকাশের সব বাঁধা দুর করা প্রয়োজন। এ জন্য স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে কক্সবাজার সাজানোর। কারণ কক্সবাজার শুধু এখানকার নই, পুরো দেশের সম্পদ ও অহংকার।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, দ্রুত হোটেল মোটেল জোনের সড়কগুলো সংস্কার করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •