পেকুয়া প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় দোকানে ঢুকে মোহাম্মদ তোকাজ্জীবান (২১) নামের এক ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তদের বাধা দিতে গিয়ে আহতের ভাই উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সালাহউদ্দিন রানা আহত হয়েছেন।

সোমবার (৩জুন) রাত ১১টার দিকে পেকুয়া বাজারের এস.ডি সিটি সেন্টার মার্কেটের নাঈমা কালেকশন নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এতে আতংক ছড়িয়ে পড়লে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন আত্মরক্ষার্থে ছুটাছুটি শুরু করে। পরে এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো বাজারে আতংক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পেকুয়া বাজারে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আহত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ তোকাজ্জীবান রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

আহত ব্যবসায়ী জানান, চাঁদার দাবীতে তার উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। বারবাকিয়া ইউনিয়নের বুধামঝির ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ সিরাজের ছেলে মোহাম্মদ হালিমের নেতৃত্বে ৪-৫জন দুর্বৃত্ত এ হামলায় অংশ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে বাজারে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মানুষজন। হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটলে পুরো বাজারে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে চাঁদবাজি ও ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে পেকুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মফিজুর রহমান, ইমরান ও হালিমের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ফের হামলা চালায়। এতে রাজাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরুল হাসান ইমরু আহত হয়। পরে সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে প্রতিহত করে আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো বাজার মূহুর্তেই অচল হয়ে পড়ে। প্রাণ রক্ষার্থে পালিয়ে যায় বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সহস্রাধিক মানুষ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ বাজারের কেনাকাটায় এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ব্যবসায়িক ভাবে তাদের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ব্যবসায়ী সমিতির নেতা শাহেদ ইকবালের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এসেছে। ব্যবসার স্বার্থে এমন নৈরাজ্যকর ঘটনা ব্যবসায়ীরা কামনা করেন না বলে জানান তারা। প্রতিবছর এই একটি পক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করে। তাদের অত্যাচারে পেকুয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট।

পেকুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে আমি ঘটনাস্থল যাই। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশংকায় খুব সল্প সময়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •