মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু :
রামু উপজেলার কচ্ছপিয়ায় তুচ্ছ একটি ঘটনায় সংঘবদ্ধ একদল রোহিঙ্গা পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে এক বাংলাদেশী মাছ চাষিকে। তার নাম আবু তালেব ওরফে আবু। বয়স ৪৭। বাড়ি রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটার গ্রামের মুরারকাটার মো:ইসমাঈলের ঘোনা এলাকায়। এ ঘটনায় নিহতের এক ঝি জামাইকেও একই স্টাইলে ছুরিকাঘাতে আহত করেছে এ রোহিঙ্গারদল। ঘটনায় জড়িত থাকা ৩ জন পুরুষ ৩ জন নারী রোহিঙ্গা । রহস্যময় এ ঘটনাটি ঘটেছে গত পরশু শনিবার শবে কদরের দিন সন্ধ্যায় ইফতারের সময় আবু তালেবের বাড়ির পাশের মৎস্য খামারে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বর্তমানে। অপর ঘটনায় এ কচ্ছপিয়া ইউনয়নের দৌছড়ি দক্ষিণকূল লামার খামার গ্রামে কামাল হোসেন ( ৫০) নামের এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা করেছে পুলিশ। ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া এ লাশের ঘরটির বাইরে তালা লক থাকার অভিযোগ পাওয়ায় -অনেকেই এ ঘটনাকে রহস্যময় মনে করেন। কিন্তু পুলিশ বলছেন এটি আত্ম হত্যাই। প্রথমোক্ত ঘটনার বিষয়ে খুন হওয়া আবুর স্ত্রী খুশিদা বেগম জানান,শনিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে তার স্বামী আবু তালেব চোরের উপদ্রব ঠেকাতে মৎস্য খামারে (গোদাতে) জাগ দিতে যায়। জাগ মানে গাছের শাখার ঝোপ। এটি দেয়ার পর গোদার পাশে বসবাসরত রোহিঙ্গা গুরামিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও কন্যা ফাতেমা বেগম এতে বাধা দেয় এবং গালিগালাজ শুরু হয় পরস্পরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আবু ও গুরা মিয়ার পরিবারে বাকবিতন্ডা চলে ইফতার পর্যন্ত। এক পর্যায়ে আবু ইফতার করতে পাহাড়ের চুড়ার নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। খুরশিদা আরো জানান, তার ইফতারের সময়ের মসজিদের মাইকের ঘোষনার পর স্বামী আবু তালেব এক গ্লাস পানি নিয়ে ইফতার শুরু করে। সামনে আম-কাঠাল,পিঠা-পুলিসহ হরেক রকম নাস্তা সাজিয়ে ছিলো। ঠিক এ সময় রোহিঙ্গা গুরা মিয়ার ছেলে জমিরুদ্দিন-মইনউদ্দিন ওরফে গুরাপুতিয়ার নের্তৃত্বে রোহিঙ্গার দলটি আবু তালেবকে টেনে-হেঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে এনে ছুড়ে মারে প্রায় একশত হাতে নিচে গোদার পাড়ে। রোহিঙ্গার দল সেখানে গিয়ে রোজাদার ও মুমূর্ষ আবু তালেবকে টেনে বাড়ির পাশে নিয়ে গিয়ে প্রথমে লাঠি দিয়ে পরে উপুযপুরি ছুরিকাঘাত এবং বটি দিয়ে পোজ দেয় গলায়। এ ঘটনা থেকে বাচাঁতে এগিয়ে আসে তার ঝি জামাই জয়নাল আবেদীন। তাকেও র্দূবৃত্তরা একই কায়দায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আবুর মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনির দল আশ্রয় নেয় স্থানীয় পাড়া সিএনজি ড্রাইভার নবী হোসেন ও কচ্ছপিয়া ইউপি মেম্বার নুরুল আবছারের বাড়িতে। খুরশিদার অভিযোগ, তিনি তার স্বামীর হত্যাকারী ও হত্যাকারীদের ফাসিঁর দাবী জানান। খুনী পরিবারের কর্তা গুরা মিয়া নিজেকে রোহিঙ্গা দাবী করে তবে আবু খুনের বিষয়ে তিনি দূ:খ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এবং তার এক মেয়ে বিগত ৭ বছর আগে স্থানীয় কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষেদের মেম্বার আবু আইয়ুব আনছারীর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকায় ভোটার হয়ে বাংলাদেশী বনে গেছেন। ভোটার হয়েছেন। ভোটও দিয়েছেন। তবে বাড়ির অন্যরা ভোটার হতে পারে নি এখনও। তিনি নিজে ও তার আবু তালেবের খুনি তার ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীর কঠোর বিচার চায়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী, কচ্ছপিয়া-গর্জনিয়া এলাকায় ইদানিং খুন-রাহাজানী বেড়ে গেছে। গর্জনিয়া পুলিশ ফাড়ির নতুন ইনর্চাজ নুরুল আবছার যোগদানের পর এই ওয়ার্ডে মেম্বার নুরুল আবছার জানান খুনিরা সবাই রোহিঙ্গা তারা কিভাবে ভোটার হয়েছে আমার জানা নেই। ঘটনার দিন আমি ঘটনা শুনে নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে তাকে (আবু তালেব) দেখতে যায়। সে অবস্থায় মো: ইসমাঈল আমাকে ফোন করে বলেন, আমি আপনার বাড়ির পাশে আছি, ঘটনাটি সমাধান করতে বললে আমি বাড়িতে এসে দেখি তারা কেউ নেই। এ বিষয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল মনসুর জানান,আবু তালেব হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। আসামী আটক নেই। অপর ঘটনায় কামাল হোসেন মারা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আত্মহত্যা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •