গরম জ্বালা

প্রকাশ: ৩০ মে, ২০১৯ ০৪:১৯

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


– আবু হেনা মোস্তফা কামাল

গরম -গরম-গরম -গরম, করছে হরণ শরম,
রাত-বিরাতে লুঙ্গি খুলে বেইজ্জতি কিন্তু চরম।

বুড়ো- বুড়ি-যুবা- কিশোর-শিশু, বারান্দাতে সবে বসে,
জন্মদিনের পোষাকে কেউ, কেউ মহাত্মাগান্ধীর বেশে।

বাইরে গরম, ঘরেও গরম, রাস্তায় গরম, হাটে,
চুলোর পাশে মা-বোন গরম,গরম খেলার মাঠে।

গরীব-মধ্যবিত্তের কর্তা গরম, গরম ভাদ্র মাসের কুকুর,
দুপুরে টাংকির পানি গরম, গরম জ্যৈষ্ঠের পুকুর।

কৃষক ক্ষেতের অসহ্য গরম, গরম মরুভূমির বালি,
মূর্খ লোক তর্কে গরম, গরম যে কলসিটা খালি।

দুবাই-সৌদি-কুয়েত শ্রমিকের গরমে নাক ফেটে রক্ত,
ক্ষিধের জ্বালায় পেটের গরম, জানেন যারা অভুক্ত।

অংকের শিক্ষক গরম হয়ে ছুড়তে পারেন ডাস্টার,
অভিভাবক গরম হবেন যখন গরহাজির টিউশন মাস্টার।

পাতি নেতা বেশি গরম, খাঁটি নেতার চেয়ে,
ভণ্ডদের প্রচণ্ড উত্তাপে সাধুরা আছেন চুপ হয়ে।

তপ্ত হবে হৃদয় যবে, হারালে বন্ধুর প্রতি শুভ্র-বিশ্বাস,
অধিক তপ্ত ঘরপালানো মেয়ের,মা-বাবা-ভাইয়ের নিঃশ্বাস।

রোজাদারদের এই গরমে যায় যেন ফেটে বুকটা,
সত্তর গুণ বেশি গরম ভয়ে তারা বন্ধ রেখেছেন মুখটা।

ইটের ভাটা, কলকারখানা, গরম পিচ ঢালাইয়ের কাজ
আরো গরম তিক্তভাষায় বাঙলা-ল্যান্ডা-গালিগালাজ।

পাবলিক বাসে সেকি গরম, গরম পরীক্ষার হল,
আরো গরম চাকরিবিহীন বেকারের চোখের জল।

গরম, গরম, তিক্ত গরম, পরীক্ষা ফেলের জ্বালা,
অধিক গরম অসৎ সঙ্গীর গলায় পরালে মালা।

সন্তান হারানো পিতামাতার বুকফাটা তপ্ত হা-হুতাশ,
আরো তপ্ত সে বুক যাদের বৃদ্ধাশ্রম হয়েছে আবাস।

যাদের শরীর তপ্ততৃপ্ত অন্যায়, ধর্মদ্রোহী যত কামে,
শ্রেষ্ঠ তপ্ত অপেক্ষা করছে এদের চিরস্থায়ী জাহান্নামে।

সূর্যের গরম, মাইনষ্যের গরম, গরমে প্রাণ যায় যায়,
মন-ধন-বিষ-রিষ-ক্ষমতা-শ্রম-পাপ আরো কত গরম চাই?

(সংক্ষেপিত)

#গরম_জ্বালা
#লেখস্বত্ব_আবু_হেনা_মোস্তফা_কামাল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •