সিবিএন ডেস্ক:

নির্বাচনে ভোটারদের আকর্ষণ বাড়াতে স্মার্ট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এগুলোকে মডেল ভোটকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করাতে চায় নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠেয় শেষ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এমন ছয়টি স্মার্ট কেন্দ্র স্থাপন করে সেখানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাড়া পেলে ভবিষ্যতে ভোটগ্রহণে ব্যাপকহারে এই ব্যবস্থা চালু হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, প্রতিবেশী ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে এ ধরনের কেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে ইসি বাংলাদেশে তা চালু করতে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ও শেষ ধাপে দেশের ১৬টি উপজেলায় আগামী ১৮ জুন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৬টি উপজেলায় একটি করে মোট ৬টি স্মার্ট ভোটকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- কুমিল্লার আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ, নোয়াখালী সদর, গাজীপুর সদর, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর। এসব উপজেলার সবগুলো কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করা হবে।

যেমন হবে মডেল ভোটকেন্দ্র
মডেল ভোটকেন্দ্রের বিশেষ কার্যক্রম বিষয়ে জানা গেছে, এসব ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের রোদ-বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে ভোটের মাঠের বড় অংশজুড়ে সামিয়ানা/ত্রিপল টানানো হবে। বয়স্ক ও গর্ভবতী ভোটার বসার জন্য চেয়ার বা সোফার ব্যবস্থা করা হবে। ভোটারদের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করবে ইসি। নতুন ভোটারদের সংবর্ধনা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। শুধু ভোটকেন্দ্রের বাইরে নয়, ভেতরেও পরিবর্তন আনা হবে। গোপন কক্ষে কাপড়ের পরিবর্তে বোর্ডের তৈরি অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশেষ ধরনের আচ্ছাদন ব্যবহার করা হবে। এটি ভাঁজ করা যাবে। পরবর্তীতে অন্য নির্বাচনেও ব্যবহার করা যাবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২১মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় মডেল ভোটকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ‘৫ম পর্যায়ের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহৃত হবে এই রকম ৬টি উপজেলার প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। আগামী সভায় এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সমন্বয় সভায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ভারতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি সেখানে যেসব সুবিধা ভোটারদের জন্য দেওয়া হয় তা বাংলাদেশের স্মার্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের জন্য চালুর কথা বলেন।

ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতে তিন হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ টাকায় কেন্দ্রে বাঁশে সুতলি বেঁধে ভোটারদের লাইনে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। ভোটকক্ষের ভেতরে সাদা/কালো কাপড় দিয়ে গোপন কক্ষ তৈরি করাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালানো হয়। তবে মডেল ভোটকেন্দ্রের সরঞ্জামাদি উন্নত ও দামি হওয়ায় এজন্য ব্যয়ও বাড়বে। তাই মডেল কেন্দ্রপ্রতি ব্যয় তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যে কারণে মডেল ভোটকেন্দ্রনির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি ভাবছি। আগামী ১৮ জুন যে উপজেলা নির্বাচন হবে তার কয়েকটিতে আমরা পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেল কেন্দ্র করবো। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশে অনেক দেশে আমরা এই ধরনের কেন্দ্র দেখেছি। এতে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আমরা সেটা বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছি।

ইভিএম ব্যবহার হবে ব্যাপক পরিসরে
স্মার্ট ভোটকেন্দ্র স্থাপন ছাড়াও নির্বাচনি ব্যবস্থায় ডিজিটাল করতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পরিসরে ইভিএম ব্যবহার। জানা গেছে, গত জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কমিশন  ইভিএম ব্যবহারের হার ক্রমান্নয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেক আসনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে এখনই কাজ শুরু করেছে তারা। ইভিএমের পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাঠাতে ট্যাব ব্যবহার করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। প্রাথমিকভাবে উপজেলা নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে এর ব্যবহার করা হয়েছে। এর ভুলত্রুটি সংশোধন করে ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল পাঠাতে ট্যাব ব্যবহার হবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

ভোটগ্রহণেও আসবে পরিবর্তন, বদলে যাবে ভোটগ্রহণের সময়এছাড়া ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। রাতের বেলা ‘কেন্দ্র দখল‘ করে ব্যালট বাক্স ভরার অভিযোগ এড়াতে রাতে নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কেন্দ্রে পাঠানোর পরিবর্তে ভোরে কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে তারা। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে এই ব্যবস্থা চালু হবে। এ সময় ভোটগ্রহণের সময়ও আনা হচ্ছে কিছুটা পরিবর্তন। বিদ্যমান সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের পরিবর্তে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। এদিকে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে ইসিতে অনলাইনে ফলাফল পাঠানো, এসএমএসের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের তথ্য পাঠানোর পদ্ধতি ইসি ইতোমধ্যে চালু করেছে। ভবিষ্যতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটে ফল, অনলাইনে নির্বাচনি অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির চিন্তাভবনাও ইসির রয়েছে।

 

সিবিএন/ইমাম খাইর

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •