ইস্পাহান

মোবাইলে মেসেজের রিংটোনের শব্দ হলো।মনে মনে ধরেই নিয়েছিলাম শিখা মেসেজ করেছে।যা ভেবেছি তাই হলো।তার অফিস থেকে আসতে একটু দেরি হবে।আমি যেন বাইরে থেকে নাস্তা করে বাসায় ফিরি।

দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্কের পর আমরা বিয়ে করেছি।অবশ্য আট বছরই আমরা প্রেম করিনি।মাঝখানে দুই বছর আমি শিখার বন্ধু হিসেবে ছিলাম।সহজ ভাষায় আমাদের ব্রেকআপ ছিলো।যখন তখন ফোন করতে পারতাম না।দুই মাস কিংবা তিন মাসে একবার ফোন করার পার্মিসান ছিলো।ফেসবুকে দুজনে এড ছিলাম।কিন্তু কোন পোষ্টে লাইক-কমেন্ট করার অধিকার ছিলোনা।করলেই ব্লক খাওয়ার হুমকি ছিলো।

আমার শিখাকে ছাড়া একদিন কাটাতেও অনেক কষ্ট হতো।কিন্তু মেয়েটা প্রচন্ড জেদি।একটু গড়মিল হলেই তুমি থেকে তুইয়ে চলে আসত।সেই সময়গুলোতে তার সাথে কথা বলতে খুব ভয় পেতাম।যদি আবার রেগে গিয়ে বন্ধুত্বটা ও নষ্ট করে ফেলে।

একদিন শিখা আমাকে খুব রেগে গিয়ে বলল,তুই এতো ছ্যাছড়া ক্যান?কবে ছাড়বি এসব?উত্তরে বললাম,হুম আমি ছ্যাছড়া।ছ্যাছড়ামি করেছি বলেই তোমাকে পেয়েছি।সারাজীবন ছ্যাছড়ামি করে যাবো তোমার জন্য।তবু এক মুহূর্তের জন্যও তোমার পিছু ছাড়বোনা।তোমার নীল শাড়ির আঁচল হয়ে সারাক্ষণ তোমার স্পর্শে থাকবো।

বাসায় এসে আমি অবাক হলাম।দরজা লক করা নেই।ভাবলাম,চোর ডুকলো কিনা!তাড়াতাড়ি দরজা খুলে আমাদের বেডরুমে গেলাম।রুমে শিখা বসে আছে।মনে হচ্ছে খুবই রেগে আছে।শিখা রাগ করলে আমার নিজেকে প্রচন্ড অসহায় মনে হয়।মনে হয় সব দোষ আমার।কিছু একটা ভুল নিশ্চয়ই করেছি তাই সে রেগে আছে।আমি শিখার পাশে গিয়ে বসলাম।চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে আছি।একটু পর খেয়াল করলাম,শিখা কাঁদছে।আমার অস্থিরতা বেঁড়ে গেলো।খুবই টেনশান হচ্ছিলো।কি হলো!
ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করলাম,কী হয়েছে শিখা?কোন কথা না বলে শিখা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।কাঁদতে কাঁদতে বললো,আমরা বাবা-মা হতে যাচ্ছি।কথাটা শোনেই আমার সব ভয় কেটে গেলো।বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিলো।শিখাকে বললাম,চলো বৃষ্টিতে ভিঁজবো।শিখা বললো,আমি হাঁটতে পারবোনা।বেবির সমস্যা হবে।আমার আর বুঝতে বাকী রইলোনা ম্যাডাম কী চান!

রামু, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •