এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া

চকরিয়ায় ঈদের কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরার পথে দূর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আনাস ইব্রাহিম (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র খুন হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা মৌলানা নেচার আহামদ বাদী হয়ে রবিবার দুপুরে চকরিয়া থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চকরিয়া পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাশেম মাষ্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেলকে প্রধান আসামী করে আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। এ মামলার এজহার নামীয় আসামী রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন পালাকাটা হাশেম মাষ্টারপাড়া এলাকার শামশুল হকের ছেলে।

এদিকে নিহত আনাস ইব্রাহিমের লাশ ময়না তদন্ত শেষে চকরিয়া থানা পুলিশ  রবিবার দুপুরে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এদিন বিকাল ৪টায় মগবাজার শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়াম (কমিউনিটি সেন্টার মাঠ) মাঠে নিহত স্কুলছাত্র আনাস ইব্রাহিমের নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন নিহতের পিতা মৌলানা নেচার আহামদ। জানাযায় এলাকার সর্বস্থরের কয়েক হাজার লোক অংশ নেয়। পরে তাকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাযা শেষে উপস্থিত হাজারো জনতা আনাস ইব্রাহিমকে হত্যার মুলহোতা রুবেলসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে মহাসড়কে দীর্ঘ মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করে।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহত স্কুলছাত্র আনাসের লাশ চকরিয়ায় এসে পৌঁছলে লাশ স্থাণীয় এলাকাবাসী,আনাসের সহপাটি ও দলীয় নেতাকর্মীরা চকরিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা স্কুলছাত্র আনাস ইব্রাহিমের হত্যার মূলহোতা রুবেলসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত দেড়মাস পূর্বে প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে আনাস ইব্রাহিম ও তার প্রতিপক্ষ পালাকাটা হাশেম মাষ্টারপাড়া এলাকার মো. রুবেলের মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। এর কয়েকদিন পর স্থাণীয় একটি ক্রিকেট খেলায় বিষয়টি নিয়ে আবারো বিরোধে জড়ায় দু’পক্ষ। এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে হাতহাতি ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার দীর্ঘ একমাস ধরে তাদের মধ্যে আর দেখা সাক্ষাত হয়নি। শনিবার রাত ১০টা দিকে চকরিয়া পৌর সদরের সুপার মার্কেটের সামনে আকষ্মিক দেখা হয় বিরোধীয় দুই পক্ষের। এ সময় কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরতে সুপার মার্কেটের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন আনাস ও তার বন্ধু মো. আবদুল্লাহ। এ সময় হঠাৎ হাশেম মাষ্টারপাড়া এলাকার মো. রুবেলের নেতৃত্বে ৭-৮জন দূর্বৃত্ত অতির্কিতে এসে আনাস ও তারবন্ধু আবদুল্লাহকে এলাপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতে আনাসের নাড়িভূড়ি বের হয়ে যায় এবং আবদুল্লাহ গুরুতর আহত হয় । গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আনাস ও আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। পরে চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে চুনতি পৌঁছার পর মৃত্যুকূলে ঢলে পড়েন আনাস। অপর ছুরিককাহত আবদুল্লাহকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত আনাসের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু ইয়াছির আরাফাত মুন্না। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এদিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর শনিবার রাতে চকরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চার যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও রবিবার দুপুরে এজহার নামীয় আসামী রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অন্যদের ছেড়ে দেয়।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শনিবার চকরিয়া পৌর সদরের সুপার মার্কেটের সামনে এক স্কুল ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় এজহার নামীয় আসামী রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ মামলার প্রধান আসামী রুবেলসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •