শাহেদ মিজান, সিবিএন:

আগামী ১৩ জুন ঘোষিত হবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। জাতীয় বাজেট সুষ্ঠুভাবে প্রতিফলনের জন্য প্রস্তাবনা তুলে সহায়ক বাজেট ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। এই সহায়ক বাজেটের পরিমাণ হলো ১২ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আলোকে এই বাজেট প্রস্তাবনা।

এই বাজেট সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে আজ ২৫ মে দেশের ২৬টি জেলায় একযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলায়ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক মহেশখালী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জসীম উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন, রামু সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান আ.ম.ম জহির, আলমগীর ফরিদ টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে অধ্যক্ষ মোঃ মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার সিটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান তসলিমা রশীদ, একই কলেজের অর্থনীতির বিভাগের প্রভাষক নাসরিন সুলতানা, সুরাইয়া সুলতান ও বিকাশ কান্তি দে প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন- অর্থনীতির বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে গত চার অর্থ বছরে দেশের জাতীয় বাজেটের জন্য কার্যকর ভিত্তিক সহায়ক বাজেট ঘোষণা করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। এর ধারবাহিতকায় আগামী ১৩জুন ঘোষিতব্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের জন্য সহায়ক বাজেট ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। ইতিমধ্যে সহায়ক বাজেটটি সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওই প্রস্তাবনায় রয়েছে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে ১২ লাখ ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করতে হবে। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য রাজস্বখাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাজস্ব থেকে ১০ লাখ কোটি টাকা আয় করতে হবে। অর্থনীতি সমিতির এই প্রস্তবনা অনুসরণ করা গেলে কোনো বৈদেশিক সাহায্য ছাড়াই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সহায়ক বাজেটে ঢাকাসহ দেশের ২৬টি জেলাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলাকে তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। এসব জেলার উন্নয়ন কাঠামোসহ সামগ্রিক খাতকে গুরুত্ব দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিটেন্স) অগ্রাধিতার দিতে সুপারিশ করা হয়েছে। এই জন্য প্রবাসীদের সমস্যা লাঘবসহ সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা বাজেট ও দেশের অর্থনীতির জন্য চরম ক্ষতিকর উল্লেখ করে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার চরম ক্ষতি। প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা হলে বৈশি^ক অর্থনীতির প্রভাবে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব দেশের মূল অর্থনীতি ও বাজেটে। এতে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশ গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তব্যে কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সৃষ্টিশীল, জনবান্ধব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সেই সাথে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে চাই আমরা। তাহলে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে যেতে পারবে।’

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক অধ্যাপক জসীম উদ্দীন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করা বাংলাদেশ অর্থনীতির সমিতির লক্ষ্য। এই লক্ষ্যে এই অর্থবছরসহ পাঁচ অর্থবছরে সরকারকে সহায়ক বাজেট প্রস্তবান দিচ্ছে অর্থনীতি সমিতি। আমরা মনে করি আমাদের প্রস্তাবিত সহায়ক বাজেট যদি সরকার গুরুত্ব দেন তাহলে বাংলাদেশ উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে বেশি সময় লাগবে না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •