ধর্ষণ: বেশি শিকার শিশুরা

বাংলা ট্রিবিউন

নারীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্যতম সহিংসতার নাম ধর্ষণ। আর এই সহিংসতার মাত্রা চলতি বছরে ব্যাপকহারে বেড়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ১৫ মে, ২০১৯ পর্যন্ত চালানো গবেষণায় দেখা যায় যে, ২০১৮ সালের পুরো বছরে যে পরিমাণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, চলতি বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসেই প্রায় তার সমপরিমাণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা বিভাগ পরিচালিত এই গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করা হয়।

গবেষণায় জানা গেছে, গত বছর সারাদেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৯০ জন। যার মধ্যে শিশু রয়েছে ২৮৯ জন।  এ বছর ১৫ মে পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার ৪১৯ জনের মধ্যে ২৯৬ জনই শিশু।ধর্ষণ বেড়েছে
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জানুয়ারি  থেকে ১৫ মে পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হন ১৭৫ জন। সেই হিসেবে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে প্রথম সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।

প্রাপ্ত তথ্যকে ধর্ষণচেষ্টা, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পর্যালোচনা করা হয়।

গবেষণার ফলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সী শিশুরা। ২০১৯ সালে শিশু ধর্ষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, প্রথম সাড়ে চার মাসেই ২০১৮ সালের পুরো বছরের পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ছিল ২৮৯ এবং চলতি বছরের ১৫ মে পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ২৯৬ জন।

ফল পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ছেলে শিশুও। চলতি বছরের ১৫ মে পর্যন্ত ১০ জন পুরুষ শিশুও ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার ছেলে শিশুর সংখ্যা ১৩ জন।তুলনামূলক চিত্র (২০১৮-২০১৯ মে ১৫ পর্যন্ত)

ধর্ষণের শিকার বেশি হচ্ছে শিশুরা

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা দেখা যায়, ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে শিশুরা (গবেষণায় শিশুদের বয়স ধরা হয়েছে ০-১৬ বছর)।  ৩১১টি ধর্ষণের মধ্যে ২১২ জনই শিশু। বাকি ৯৯ জনই ১৬ বছরের বেশি বয়সী।  অন্যদিকে বয়স ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন, এমন ৬৭ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।  ২০১৮ সালে ২৭ জন শিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়।

চলতি বছরের চিত্র ভয়াবহ আকারে বেড়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। ২০১৯ সালের মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৪ জন শিশু, ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২২০ জন শিশু এবং ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় ১৪ জন শিশুকে।

এছাড়াও বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, চলতি বছর ধর্ষণ চেষ্টা করা হয় ২৮ জন শিশুর সঙ্গে এবং ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ১৩ জন। সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে। ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়  ১৪ জন শিশুকে।

ধর্ষণ থেকে বাদ পড়ে না ছেলে শিশুরাও

২০১৮ সালের ৩ আগস্ট রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজারের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ১১ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা ১১ শিশুকে কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি যৌন নির্যাতন করতো এবং তাদের দিয়ে ইয়াবা ব্যবসাও করাতো। অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনকেও আটক করে র‌্যাব।

একই বছর সেপ্টম্বরে যাত্রাবাড়িতে এক মাদ্রাসা ছাত্র (১২) যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মাদ্রাসা থেকে বাসায় চলে আসে। বাসার সবাই মাদ্রাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য বললে এক পর্যয়ে পরিবারকে যৌন নিপীড়নের কথা জানায়। পরে শিশুটির পরিবার মামলাও করে।

রাঙ্গুনিয়ার ঘটনা ১১ জন শিশু সহ আর দু’জন ছেলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ আছে ২০১৮ সালেই। অন্যদিকে চলতি বছর ২০১৯ সালের মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১০ জন ছেলে শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে গবেষণা তথ্যে বেরিয়ে আসে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসেই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একজন স্কুলপড়ুয়া ছেলের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ছেলেটিকে যৌন নিপীড়নের পর হত্যা করা হয়।

একইভাবে এপ্রিলে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে এক ছেলেশিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই মাসে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার এক এতিমখানার দুই ছেলে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় মামলাও হয়। এ ঘটনায় এতিমখানার প্রধানকে আটক করে পুলিশ।

এপ্রিলে রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক মাদ্রাসার ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক শিক্ষক আটক হয়। শেরপুরের শ্রীবরদী মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত ১০ জন ছেলে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

শহরাঞ্চলেই ধর্ষণ হয় বেশি

গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলের তুলনামূলক চিত্র

গ্রামাঞ্চলের চাইতে শহরে ধর্ষণের খবর বেশি পাওয়া যায় পত্রিকার পাতায়। দেখা যায়, শহরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে শহরাঞ্চলে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫৭ জন, ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে ২৫ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫০ জন এবং ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় ১৪ জনকে।গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলের তুলনামূলক চিত্র (২০১৯)

চলতি বছর মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, শহরাঞ্চলে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১২৩ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৩ জন, ধর্ষণের পর হত্যার করা হয়েছে ১১ জনকে।

ধর্ষণের শিকার বেশি হচ্ছে শিক্ষার্থীরাপেশাভিত্তিক চিত্র

বাংলা ট্রিবিউনের প্রাপ্ত গবেষণা থেকে দেখা যায়, ২০১৮ সালে ১৮১ জন শিক্ষার্থী যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১২১ জন, ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছে ২৩ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২২ জন। ধর্ষণ করে হত্যা করা হয় ১৪ জন শিক্ষার্থীকে।

গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, ৪৯০ জনের মধ্যে ১৬ জন গৃহবধূ ও ১৪ জন পোশাককর্মী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

২০১৯ সালের প্রাপ্ত তথ্য দেখা যায়, মে মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত আগের বছরের তুলনায় যৌন সহিংসতা অত্যাধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর ১৮৬ জন শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ১৯ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় এবং ৯ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একইভাবে এবছর ১৬ জন গৃহবধূ এবং ৬ জন পোশাককর্মী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মোট হিসেবে দেখা গেছে, এ বছর ৪১৯ জনের মধ্যে ৪২ গৃহবধূ, ১৭ জন পোশাককর্মী এবং ২৭ জন বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

তিনটি দৈনিক পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণা বিভাগের গবেষণায় দেখা যায়, গতবছরের তুলনায় এবছর ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

কোস্ট গার্ড কর্তৃক ৬ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ

রামুতে বন্য হাতির আক্রমণে এক বৃদ্ধা নিহত

কীর্তি মানের মৃত্যু নেই…

স্ত্রীর সাথে যৌন মিলনের ছবি ফেসবুকে দিলেন পুলিশ সদস্য

দেখুন আলিম দারের যে আউট নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়

বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী সিরাজ নির্বাচিত

প্রসূতি মায়ের অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

এড. আমজাদের তৃতীয় নামাজে জানাজায় শোকার্ত জনতার ঢল, দাফন সম্পন্ন,

টেকনাফে ৪টি অস্ত্র ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্রপাচারকারী আটক

আইনজীবী সমিতির পুরাতন ভবনের দেয়াল পড়ে এক শ্রমিক নিহত

কক্সবাজারের সাংবাদিকতার যতকথা (পর্ব-অষ্টম)

টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৩ মানবপাচারকারী নিহত

‘জঙ্গিরা নিজেদের স্বার্থে তরুণদের বেহেশতের স্বপ্ন দেখায়’

চট্টগ্রামে পুলিশের স্ত্রী নারী কনস্টেলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মালুমঘাট স্টেডিয়ামে আন্ত:স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদী

তামাক চাষ বন্ধে সরকারকে আহবান জানাচ্ছি

ভাইস চেয়ারম্যান ছুট্টোকে প্যানেল চেয়ারম্যান পদে ১৫ চেয়ারম্যানের সমর্থন

তীব্র ভাঙ্গনের মুখে বাঁকখালী নদী আতংকে হাজারো মানুষ

মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে ইয়াবাসহ মহিলা গ্রেপ্তার

উখিয়ায় দামী ব্রান্ডের ভেজাল পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান