cbn  

ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
‘আমরা কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা কোনো দল ভাঙ্গার মিশন নিয়ে আসিনি। কারো ঘরে আগুন দিতে এবং আগুন নিভাতেও আসিনি। এখন সময় এসেছে একটি কল্যাণমূলক দেশ গড়ার। নতুন দেশটি গড়তে দরকার একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ। সেই উদ্যোগটিই মাত্র আমরা নিয়েছি।’
সদ্য আত্মপ্রকাশ করা জামায়াতের সংস্কারপন্থী গ্রুপ ‘জন আকাঙ্খার বাংলাদেশ’ কক্সবাজার জেলার মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে অন্যতম মুখপাত্র মুজিবুর রহমান মঞ্জু কথাগুলো বলেছেন।
বুধবার (২২ মে) কক্সবাজার সাগর পাড়ের একটি বিলাস বহুল হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, মতবাদ বা মতাদর্শের রাজনীতির কারণেই বাংলাদেশের নেতৃত্বে অনৈক্য রয়ে গেছে।
দেশকে এগিয়ে নিতে মতবাদের রাজনীতির বাইরে গিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করতে হবে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জু বলেন, দুর্নীতির কারণে দেশ জর্জরিত। দেশকে এগিয়ে নিতে দুর্নীতিমুক্ত ও সঠিক নেতৃত্ব দরকার।
তিনি বলেন, আমরা তথ্য বা কোনো মতবাদের রাজনীতি করব না। আমরা রাজনীতি করব মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য।
তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলেও সুখে নাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭টি বছর অতিবাহিত হলেও লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি।
সমন্বয়ক মুজিবুর রহমান মঞ্জু আরো বলেন, আমরা সেক্যুলার নই-আমরা আবার ইসলামী দলও করব না। ইসলামের অনুপ্রেরণা ধারণ করে কেবল ইসলামের কথা বলব।
অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছি। সেই উদ্যোগের সাথে সবাইকে চাই।
দেশের বর্তমান অবস্থায় দুঃখ প্রকাশ করে সাবেক ছাত্রনেতা মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন আর দেশে ভোট আছে বলে বিশ্বাস করে না। এখন রাষ্ট্রটি চালাচ্ছে যেন পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা-যা হাস্যকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মনে ক্ষোভ আছে কিন্তু তারা তবুও রাস্তায় নামছে না।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের বিশিষ্ট শিল্পপতি সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর কাশেম।
বক্তব্য রাখেন- জন আকাঙ্খা নামক ওই প্ল্যাটফর্মের আরেক উদ্যোক্তা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের নিয়োজিত আইনজীবী তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, চলমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ আমাদের নেই। তরুণ প্রজন্মের কাছে বুক ফুলিয়ে পরিচয় দেয়ার জন্য আমরা নতুন প্লাটফর্ম তৈরি করেছি।
তাজুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের স্লোগান নিয়ে মাঠে নেমেছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। সর্বস্তরের জনগণের সমর্থন নিয়ে তারা সফলও হয়েছে। আমরা মহৎ লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সমর্থনে আমরা সফল হব।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাবেক সেনা কর্মকর্তা প্রফেসর মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব মিনার, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সিদ্দিকী, জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার, সাবেক জামায়াত নেতা জেবর মুলক, কক্সবাজারের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শফিকুল হক, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাবেক জেলা সভাপতি মাওলানা আবদুল আউয়াল, অ্যাডভোকেট এনামুল হক সিকদার, সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কক্সবাজার জেলা শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শামসুল হক শারেক ও সাবেক শিবির নেতা অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম।
মতবিনিময় সভায় আইনজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষকসহ শতাধিক জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •