তোতা মিয়ার বয়ান

প্রকাশ: ২২ মে, ২০১৯ ০৩:১৫ , আপডেট: ২২ মে, ২০১৯ ০৪:১০

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


cbn  

ইমরুল শাহেদ

মে মাসের ১৫ তারিখ ৬ নং রোডস্থ কানাইয়া বাজার থেকে লইট্টা মাছ কিনলাম ১২০ টাকা কেজি। একই মাছ মে মাসের ২০ তারিখে কালুর দোকান বাজার থেকে কিনলাম ২০০ টাকা কেজি।

পাঁচ দিনের ব্যবধানে এত বেশি কেন নিচ্ছ, এই প্রশ্নের জবাবে মাছওয়ালা বলেন, আজিয়া দুইশত টিয়াদি পাইয়ন, হালিত্তুন দুই আজার টিয়া দিও ন পাই বান। (আজকে দুইশত টাকা দিয়ে হলেও পাচ্ছেন, আগামীকাল থেকে দুই হাজার টাকা দিয়েও পাবেন না)

ঘটনা হচ্ছে সরকারের নজিরবিহীন এক সিদ্ধান্ত। মাছের প্রজনন ও বংশ বৃদ্ধির জন্য একটানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা আশ্চর্যময় ও হতাশামন্ডিত খবর৷

আমার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে গেল। আমরা যারা উপকূলবাসী আছি, এই রোজা রমজানে কি খাব? এখনো ১৫টা রোজা সামনে। ডাক্তাররা বলেন, রেড মিট খাবেন না, চর্বি খাবার খাবেন না। যদি আমরা এই রমজানে মাছ খেতে না পাই তবে আমরা খাব কি?

আত্নকেন্দ্রীক বলয়ে নিজে ও নিজের পরিবারের স্বার্থপরতার কথার ভাবনার ফাঁকে ফাঁকে আচমকা একটা কথা মাথায় আসল।

আমরা না হয় মাছ খেতে পাব না দীর্ঘদিন, কিন্তু এই যে লক্ষ লক্ষ গরীব মাঝি-মাল্লা যারা ঈদের আগে আগে কয়েক ট্রিপ মাছ মেরে পরিবার স্বজনের জন্য হাসি কিনে বাড়ি ফেরার আশায় ছিল, তাদের কি হবে?

কি এমন হতো ৬৫ দিনের স্থলে পরিত্র রমজান এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়টাকে কনসিডার করে ৫০ দিন সাগরে মাছ মারা বন্ধ রাখলে? অন্তত মানবতার খাতিরেও ঈদের পূর্বের সময়টাকে ফ্রি টাইম রাখার দরকার ছিল।

এখনো সময় আছে। অন্তত স্পেশাল প্রজ্ঞাপন জারি করে ঈদের আগের ১২ দিনকে পুনরায় সাগরে বোট যাওয়ার সুযোগ করে দিন।

শুধু উপরতলার মানুষগুলোর পরিবারের জন্য ঈদ, কৃষক-জেলে-লবণ শ্রমিকদের জন ঈদ নয়, তেমন বৈষম্য আমরা চাই না।

ইমরুল শাহেদ,প্রকৌশলী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •