cbn  

এম এ সাত্তার
কক্সবাবাজার সদর উপজেলায় অসচ্ছল ও গরীব নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচীর সহায়তায় সরকারের ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারভোগীরা তাদের সঞ্চয়ের অর্থ সঠিকভাবে ফেরত পাচ্ছেন না। এবিষয়ে সরকারের নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। অসচ্ছল ও গরীব এসব নারীরা তাদের জমানো অর্থ ফেরত পেতে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিয়েও কোন ফল পাচ্ছেন না। ফলে সরকারের মহৎ এই কর্মসূচীর ওপর সাধারণ মানুষের নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ১শত ৭৪ জন ভিজিডি কার্ডধারী গত দু’বছর প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল সরকারী সাহায্য পেয়েছে। এ সকল ভিজিডি কার্ডধারীদের থেকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরকার কতৃক মনোনীত একটি এনজিও প্রতিজন কার্ডধারী থেকে প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় জমা নিয়ে স্থানীয় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার হিসাব নম্বরে ব্যাংকে জমা রাখার বিধান রয়েছে। ২ বছর সুবিধাভোগের পর সঞ্চয়ের যাবতীয় টাকা জমাকারীকে ফেরত দেয়ার কথা। গত ডিসেম্বর মাসে কার্ডধারীদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন তাদের সঞ্চিত টাকা ফেরত দেয়ার পালা। প্রত্যেক কার্ডধারী ৫ হাজার ৪শত টাকা জমা করেছেন। যা তাদের মেয়াদ শেষের পর পরই ব্যাংক মুনাফাসহ ফেরত দেয়া হয়।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস সুত্রে জানা গেছে জেলার কোটা ভিত্তিক প্রত্যেক ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের বাছাইককৃত নামের তালিকা অনুসারে অসচ্ছল ও গরীব নারীকে ভিজিডি কর্মসূচীর আওতায় আনা হয়। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী তারা প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে সঞ্চয় রাখেন। যে অর্থ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার যৌথ হিসাবে ব্যাংকে রাখা হয়। এই অর্থ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাগ কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে উপকারভোগীর মাষ্টাররুলে স্বাক্ষর নিয়ে ভিজিবি কার্ডধারীদেরকে ফেরত দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের একটি সুত্র জানায়, গত ২০১৭-১৮ চক্রের ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারভোগীদের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য গত বছরের (২০১৮) অক্টোবর মাসে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা আসে। সেখানে এবছরের জানুয়ারী মাসের ১৫ তারিখের ভিতর ওই অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। সরেজমিনে সদরের পিএমখালী ইউনিয়নসহ আরো কয়েকটি ইউপির ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে তারা এখনো তাদের জমাকৃত কোন টাকা ফেরত পায়নি। অথচ ২০১৯ সালের অর্ধবছর চলেগেলেও তৎসংশ্লিষ্টরা কোমায় (নিরব) রয়েছে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে গোলার পাড়ার দিনমজুর নুরুল আলমের স্ত্রী, মনছুরের স্ত্রী বলেন, তারা গত দু’বছর প্রত্যেক বার চাল নেয়ার সময় একজন মহিলার কাছে সঞ্চয় এর টাকা জমা দিয়ে চাউল নিতেন। আর মাঝে মধ্যে ওই মহিলা না আসলে বোর্ডে দায়িত্বরত চকিদারদেরকে সঞ্চয় জমা দিয়ে চাউল নিয়ে আসতেন। কিন্তু তাদের জমাকৃত সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত পাননি। আর কিভাবে বা কার কাছে গেলে পাবেন তাও তারা জানেন না।
অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করা নয়াপাড়া গ্রামের ইয়াছমিন আক্তার, বিধবা রাশেদা বেগম বলেন, জমানো টাকা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন লোকের কাছে গিয়েও কোন ফল পাননি।
একই অভিযোগ করেন, জুমছড়ি এলাকার ফটো শর্মা, পাতলীকুল গ্রামের সাবেক ভিজিডি সদস্য রানু শর্মাসহ অনেকে। তারা টাকা পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর সমাজসেবক কেফায়েত উল্লাহ জানান, অসহায় নারীরা ভিজিডি কর্মসূচীর জমানো টাকা দীর্ঘদিন পরও ফেরত পান না বলে তার কাছে অনেক নারী অভিযোগ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি সমাধান করা। দুস্থ, অসহায় বিধবা ও গরীব মহিলাদের জমানো টাকা আসছে ঈদের ভিতর হলেও পরিশোধ করার ব্যবস্থা গ্রহন করিতে প্রশাসনের প্রতি জোরদাবীও জানান তিনি।

পিএমখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শিহাব উদ্দিন জানান, তিনি এ ইউনিয়নে যোগদান করে কিছুদিন অতিবাহিত হয়েছে। এ বিষয়ে আগে জানতেন না। এ নিয়ে তাকেও প্রতিদিন কেউ না কেউ বিরক্ত করেছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, এ সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মী অসুস্থ থাকার কারণে টাকা ফেরত দিতে একটু সময় ব্যয় হচ্ছে। তবে আগামী ফাতেহা (শবে কদর) র আগেই সবার টাকা ফেরত দেয়া হবে।

এনজিওকর্মী সফিনা আজিমের ব্যাপারে ভিজিডি কার্ডধারী অধিকাংশ মহিলার অভিযোগ, সে যে কারও সাথে সবসময় খারাপ আচারণ করে থাকে। পরিষদে গেলেই যে কোন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে অসহায় মহিলাদেরকে নাজেহার করে থাকে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সফিনা আজিমের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বলেন, টাকা ফেরত দেয়া না দেয়া সবকিছুর ব্যাপারে উপরের অফিসারেরা জানেন। এসব বিষয়ে আমার কাছে কেন জানতে চান? আমি রোজা রেখেছি। এসব আমি কিছু জানিনা, বুঝিনা। ইউনিয়নের সচিব চেয়ারম্যান আছে, এরা বলবে কখন টাকা দিবে না দিবে। আপনি এদের কাছে জেনে নেন।

এ সর্ম্পকে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস জানান, সরকারী নির্দেশনা থাকার পরও ভিজিডি কর্মসূচীর উপকারভোগীদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়নি। ঈদের ভিতর পরিশোধ করা হবে।

আরো অধিকতর জানার জন্য সদর ইউএনও এ এইচ এম মাহফুজুর রহমানকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্যে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •