cbn  

সৈয়দ শাকিল :
জেলার বিপণিবিতানগুলোয় ‘ঈদ কালেকশন’ নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা। ঈদ মানেই চাই নতুন জামা কাপড় জুতো। বছরজুড়ে এটা সেটা কিনলেও রমজান এলেই ঈদকে সামনে রেখে শুরু হয় কেনা কাটার উৎসব।
কিন্তু ১৫ রমজান পেরিয়ে গেলেও জমেনি ঈদ বাজার। জেলা শহরের সব মার্কেটই বলতে গেলে ফাঁকা। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ক্রেতার অপেক্ষায় অলস সময় পার করছেন। বিপণি বিতানগুলোতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যের সমাহার ঘটানো হলেও ক্রেতারা এখন পর্যন্ত পুরোদমে কেনাকাটা শুরু করেননি।
একই চিত্র জেলার রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, উখিয়া ও টেকনাফে।
ঈদের আনন্দের বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে কেনাকাটা। ধনী গরীব নির্বিশেষে নিজ সামর্থের কেনা কাটার বড় অংশ থাকে পোশাক ও জুতো।
গত বছর ১৫ রোজা পর্যন্ত কেনাকাটার ধুম পড়লেও এবার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। ফলে আশানুরূপ বেচাকেনা না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীর মন ভালো নেই। তীর্থের কাক হয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে শপিং মহলের ব্যবসায়ীদের।দু-একজন ক্রেতার দেখা মিললেও তারা নতুন কালেকশন ও দরদাম শুনে চলে যাচ্ছেন বলে জানান বিক্রেতারা।
তবে ব্যবসায়িদের ধারণা, এখনো বেতন-বোনাস না হওয়ায় কেনাকাটা শুরু হয়নি। দু-চারদিনের মধ্যেই মানুষ শপিং করা শুরু করবে বলে তাদের আশা। ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশা করছেন, ২০ রমজানের পর থেকে ঈদ বাজার জমে উঠবে।
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর ১০ রমজান শেষ হওয়ার আগেই ক্রেতাদের ভিড়ে দোকান কর্মচারীদের নাভিশ্বাস উঠে যেত। এবার তার ছিঁটেফোঁটাও নেই। তবে অনেক ক্রেতা ফাঁকা মার্কেটে এসে জিনিস পছন্দ করে দরদাম জেনে যাচ্ছেন। আবার অনেকে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরে নতুন কালেকশন খুঁজে সময় পার করছেন। এর মধ্যে দু-একজন অবশ্য কিনছেনও।
ক্রেতাদের কথা ঈদের সময় কেনাকাটার মজাই আলাদা। সেই জন্মের পর থেকেই ঈদে কেনাকাটা চলছে। এ সময় সিয়াম সাধনার পাশাপাশি অন্যরকম আবহ বিরাজ করে। তবে, এখনো নতুন মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস না পাওয়ার কারণে তারা কেনাকাটাকরতে পারছেন না।
শহরের সমবায় সুপার মার্কেটে কথা হয় সাবিনা ইয়াসমিন নামে এক মহিলার সঙ্গে। তিনি জানান, গত দুদিন তিনি কয়েকটি মার্কেটে ঘুরে ঈদের নতুন কালেকশন দেখছেন। শাড়ি, জুতা ও থ্রিপিস পছন্দ করে দাম জেনে নিয়েছেন। বেতন-বোনাস হলেই তিনি এসব কিনে নিয়ে যাবেন। তবে হাতে এখনো অনেক সময় আছে বলে জানান তিনি।
মহেশখালীর নতুন বাজার এলাকা থেকে ছেলেকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন সাইফুল ইসলাম। ইসলাম বলেন, ঈদের কেনাকাটা করতেই এসেছি। এই সময়টাতে দোকানগুলো হালকা ফাঁকা থাকে। সময় নিয়ে ঘুরেফিরে পছন্দের জিনিসটা কেনা যায়। পছন্দ হলে আজকেই কিনে নিয়ে যাব। আর না হলে সময় নিয়ে আবার আসব।
শহরের বড় বাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মো. তৈহিদুল ইসলামের দাবি, ঈদের কেনাকাটা এখনও পুরোপুরি শুরু হয়নি। অন্যবার যাও কম-বেশি বেচাকেনা হয়, এবার সেটাও হচ্ছে না। গরম বেশি থাকার কারণেও সেটা হতে পারে। আশা করছি, সামনে ঈদের বেচাকেনা শুরু হবে।
শহরের লালদিঘী পাড়স্থ কেটস আই এর সেলস ম্যানেজার বলেন, ঈদ বাজারে কেনাকাটার প্রভাব পড়েছে হালকা। তবে পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা শুরু হবে ২০ রোজার পর থেকে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের বাজারে দেশি বিদেশি বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালে দেখা পোশাকের চাহিদা থাকে। এ লক্ষ্য নিয়েই পর্যাপ্ত আমদানি করেছেন তারা। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। ঈদ যত এগিয়ে আসবে তাদের বেচাকেনা জমজমাট হবে এমনটাই আশা ব্যবসায়ীদের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •