cbn  

মোহাম্মদ ওসমান গনি
দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জিম্মি করে সীমানা প্রচীর নির্মাণ করছে কক্সবাজার জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। তাতে এলাকাবাসী জিম্মি হওয়ার পাশাপাশি সেখানকার ৩৮টির মতো দোকানদার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া সীমানা দেওয়ালের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ১৭টি পরিবারের ছাত্রছাত্রীর স্কুলে যাওয়া আসা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগিরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ব্যক্তি মালিকানাধীন ও দখলীয় জমিতে তারা দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছে। দোকানপাট করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের বসবাসকৃত জমিতে কারাগারের মালিকানাধীন কোন জমি নেই। কিন্তু কোন ধরণের নোটিশ বা জমি অধিগ্রহণ ছাড়া হঠাৎ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় দোকানীরা জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ কাজের কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দোকানের মালামাল।
দর্শনার্থীদের অনেকে জানিয়েছে, কারা ক্যান্টিনের মালামালের দাম বাইরের চেয়ে ৩-৪ গুন বেশি। বাইরের দোকানগুলো বন্ধ করা গেলে একচেটিয়া পকেট ভারি করতে পারবে কারাগার কর্তৃপক্ষ। সেই চিন্তা থেকে বাইরের দোকানগুলো উচ্ছেদের কৌশল হিসেবে সীমানা দেওয়াল দেয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জেলা কারাগারের জায়গা দরকার হলে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিতে হতো। আলাপ-আলোচনায় সমাধানের পথ বের করা যেত। কিন্তু তা না করে, গায়ের জোরে সীমানা দেয়ালের কাজ শুরু করে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সীমানা দেওয়াল নির্মাণের কারণে এলাকাবাসীর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বাহির হওয়ার পথ না থাকায় এক সপ্তাহের অধিক বন্দি অবস্থায় আছে স্থানীয়রা। পবিত্র রমজান মাসে এমন অমানবিক কাজকে কোনভাবেই ‘সমর্থনযোগ্য নয়’ মনে করে সচেতনমহল।
আইনের লোক হয়ে কিভাবে বেইনি কাজ করেন? প্রশ্ন এলাকাবাসীর। এই জুলুম থেকে পরিত্রাণ চায় তারা।
স্থানীয় আলহাজ্ব এ এইচ এম আবছার বলেন, এই জায়গার বৈধ মালিক আমি। এরপরও জেলা কারা কর্তৃপক্ষ মামলা করে। ওই মামলায় উচ্চ আদালত আমার পক্ষে রায় দেয়। তাকে কারাগারের কোন মালিকানা নেই। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দেওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। আমি একজন জমির মালিক হিসেবে সুষ্টু তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ প্রসঙ্গে কারা সুপার মো. বজলুর রশীদ আখন্দের বক্তব্য জানতে গিয়ে সাড়া মেলেনি। মোবাইল করলে রিসিভ করেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •