বজ্রপাতে প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব

ডেস্ক নিউজ:

বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সরকারের পক্ষ থেকে নিরোধক হিসেবে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর সুফল পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকরা বলছেন, হাওর-বিল-গ্রামাঞ্চলে লম্বা খাম্বা দিয়ে আর্থিংয়ের ব্যবস্থা করলেই প্রতিবছর অন্তত শ’দুয়েক মানুষের প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব।

গত কয়েক বছর ধরে বজ্রপাতের হার বেড়েছে। ফলে বেড়েছে বজ্রাঘাতে মৃতের সংখ্যাও। প্রতিবছর মার্চ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের কোনও উপায় নেই। কিন্তু কিছু পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপদ থাকা যেতে পারে।

ডিজাস্টার ফোরামের তথ্য মতে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ মে পর্যন্ত বজ্রাঘাতে মোট ৭৩ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ শিশু, পাঁচ নারী ও ৫৪ জন পুরুষ। এর মধ্যে ২১ এপ্রিল থেকে ১৮ মে’র মধ্যে নিহত হন ১৮ জন। ২০১৮ সালে বজ্রাঘাতে নিহতের ঘটনা ঘটে ২৭৭টি। ওই বছর কেবল মে মাসে ১৫৮ জন নিহত হন। এদিকে এ বছর কালবৈশাখী ঝড়ে ১৪ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন। এর আগের বছর কালবৈশাখীতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২১ জন। এর মধ্যে ছিল ৫টি শিশু। ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক করে ছিল।

আবহাওয়াবিদ মো.আফতাব উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময় অনেক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এটাকে স্বাভাবিকই মনে হয়। কেননা, ভূমণ্ডল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জলীয়বাষ্প হাল্কা হয়ে উপরে উঠে ঝড় সৃষ্টি করে।’ বাতাসে কার্বন ও সিসার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও একটি বড় কারণ বলে তিনি মনে করেন।

এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘কার্বন ও লেডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অন্য আরও যেসব উপাদান মেঘ তৈরিতে সহায়ক, সেগুলো সক্রিয় থাকে এবং বজ্রপাত বেশি হয়।’

যদিও যারা সরাসরি ব্যবস্থাপনার কাজ করেন তাদের একজন মেহেরুন ঝুমুর বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন,‘বাতাসে যত কার্বন যাবে, বজ্রপাত তত বাড়বে। একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পর্কিত।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গাছ ও বনাঞ্চল ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। ফলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটবেই। কিন্তু প্রতিহত করার যতটুকু সম্ভাবনা মানুষের হাতের নাগালে আছে, তা প্রয়োগ করা জরুরি।’ শহরে ঘরবাড়ির সংখ্যা বেশি ও বজ্রনিরোধক থাকায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঘটনা কম হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গ্রামে বড় গাছ কমে গেছে বলে বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি ঘটছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষক ও দুর্যোগ ফোরামের সংগঠক গওহর নঈম ওয়ারা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের স্বাভাবিক বনাঞ্চল বলে কিছু নেই। কৃষকের জন্য যে রক্ষাকবচগুলো প্রাকৃতিকভাবেই ছিল সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে বজ্রপাত থেকে রক্ষার প্রাথমিক উপায় আমাদের সামনে নেই।’ তবে চাইলে দ্রুততম সময়ে এই মৃত্যুহার কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে আর্থিংটা খুব জরুরি। লম্বা খাম্বা দিয়ে হাওর-বিল এলাকায় যদি তার লাগিয়ে এই আয়োজনটা করা যায়, তাহলে রাতারাতি এই মৃত্যু থেমে যাবে।’

তালগাছ লাগানোর সুফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে মন্তব্য করে এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘কেবল তালগাছই নিরোধক হিসেবে কাজ করে না। অন্য লম্বা গাছ যেগুলো দ্রুত বড় হয় সেগুলোও আমরা লাগাতে পারি।’ নতুন করে না লাগিয়ে উল্টো পুরনো তালগাছ কাটার প্রবণতাও বন্ধ করতে হবে মত দেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ মিয়ানমার চীন

চকরিয়ায় তিনটি অভিজাত রেস্তোরাঁকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা

বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা না দেয়ার অভিযোগ উখিয়া স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে

চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর তালিকা নিয়ে অভিযোগ

চকরিয়ার এসিল্যান্ড তানভীর হোসেনের সাথে সনাকের মতবিনিময়

এমপি কমলের গণসংবর্ধনা ২০ সেপ্টেম্বর

তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল

ইসলামাবাদে ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রাস্তা সংস্কার

আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে জেলা আওয়ামী লীগের শোক

Two Rohingya detained along with 210 Myanmar SIM card

রামুতে ৪ হাজার ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করেছে মৈত্রী’০২

এমপি কমল লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন

লামার হায়দারনাশী উচ্চ বিদ্যালয়ের নব নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ষড়যন্ত্রের শিকার

আল্লামা শেখ সোলাইমানের জানাজায় শোকাহতদের ঢল

জাতীয় ওয়ায়েজীন পরিষদ বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

পিপি নির্বাচিত হওয়ায় এড. ফরিদুল আলমকে জেলা ছাত্রলীগের অভিনন্দন

চকরিয়া উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির প্রস্তুতি সভা

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টে কক্সবাজার পৌরসভা দলের জার্সি উন্মোচন

বুধবার জেলা আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভা

সেন্টমার্টিনে চেয়ারম্যান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন