এম.এ আজিজ রাসেল:
ব্যাপক নিরাপত্তা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জেলার ১২৯ বৌদ্ধ বিহারে পালিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। বিহারে জঙ্গী সংগঠন আইএস এর হামলার হুমকি থাকলেও কোন রকম অঘটন ঘটেনি। জঙ্গি হামলাসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শুক্রবার থেকে জেলার ১২৯টি বৌদ্ধ বিহারে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা জোরদার করে জেলা পুলিশ। বিহারগুলো ৬৫০জন পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতিটি বিহারে পুলিশ, আনসার, কমিউনিটি পুলিশ ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনের সমন্বয়ে নিরাপত্তা কমিটিও গঠন করা হয়। পুলিশের পাশাপাশি আনসার, র‌্যাব এবং সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন দায়িত্ব পালন করেন। শনিবার সকালে ধর্মীয় গুরুদের সোয়াং (খাবার) দেয়ার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জঙ্গী সংগঠনের হুমকী উপেক্ষা করে দুপুর ৩টায় শহরের ক্যাংপাড়া, মাছ বাজার রাখাইন পাড়া ও পাহাড়তলীস্থ বইল্যাপাড়া উ-কোসল্লা বৌদ্ধ বিহার থেকে পৃথক মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাগুলো প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে স্ব স্ব বৌদ্ধ বিহারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বৌদ্ধ ধর্ম প্রিয় মানুষ বুদ্ধ মূর্তিকে পবিত্র চন্দন পানি দিয়ে স্নান করান। এসময় গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধত্ব লাভের বটবৃক্ষে প্রার্থনা করেন আবাল বৃদ্ধাবণিতা। পরে ধর্মীয় গুরুরা গৌতম বুদ্ধের আলোকিত জীবন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন।

শহরের কেন্দ্রীয় অ¹মেধাস্থ মাহাসিংদোগ্রী মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শহরের বৌদ্ধ বিহারগুলো সেজেছে অপরূপভাবে। বিকাল গড়াতেই বিহারে মানুষের ঢল নামে। বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত অনুষ্ঠান মালার মধ্যে ছিল সকালে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ধর্মীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পঞ্চশীল প্রার্থনা, অষ্ঠশীল প্রার্থনা, বৌদ্ধ পূজা, পিন্ডদান, হাসপাতালে রোগীদের খাবার বিতরণ, বাংলাদেশের সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে প্রাথর্না, আলোচনা সভা, ভাবনা, সুত্রপাঠ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন।

কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহা বিহারের সহকারী পরিচালক প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিপংকর বড়–য়া ও চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইন্সক্ট্রাক্টর উ থুয়েন বলেন, বুদ্ধপূর্ণিমার দিনে জঙ্গি হামলার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটু ভয়-ভীতি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সতর্কবস্থার অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং নিরাপদ পরিবেশে বুদ্ধপূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। এতে কোন রকম অঘটন ঘটেনি। এই উৎসবে জঙ্গী সংগঠনের হুমকী আসায় জেলা পুলিশ আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করে। যেকোন বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় প্রস্তুত ছিল জেলা পুলিশ।

উল্লেখ্য-খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে জন্ম হয় মানবপুত্র সিদ্ধার্থের। সেদিন ছিল শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথি। ঊনত্রিশ বয়সে তিনি সংসার ত্যাগ করে গভীর সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন। অবশেষে দীর্ঘ ছয় বছর কঠোর সাধনার পর পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি সম্যক বুদ্ধত্ব ফল লাভ করেন। সেদিনও ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা। এরপর পয়তাল্লিশ বছর ধর্মপ্রচার করে পঁচাশি বছর বয়সে তিনি মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন। সেই দিনটাও ছিল বৈশাখী পূর্ণিমা। একই দিনে জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ লাভের ঘটনা সংঘটিত হওয়ায় বৈশাখী পূর্ণিমার অপর নাম বুদ্ধপূর্ণিমা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •