প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
১৭ মে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকাস্থ গণপূর্ত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষ পরিণত হয়েছিল ঢাকাস্থ রামু-কক্সবাজারবাসীদের হৃদয়গ্রাহী এক মিলনমেলা। ঢাকাতে অবস্থানরত রামুবাসীদের এই পুনর্মিলনীতে আলোকবর্তিকা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য গুণী, সফল ব্যক্তিবর্গ যাদের প্রাণবন্ত আলোচনায় উষ্ণ ঢাকাতে আক্ষরিক অর্থেই শীতল পরশ হয়ে উঠেছিল রামু সমিতির গুণীজন সংবর্ধনা, নতুন কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান ও ইফতার মাহফিল।
বক্তাগণ তাদের আলোচনায় অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, সংকীর্ণতার বেড়াজাল ভেঙ্গে রামু সমিতি যেন ঢাকাতে সম্প্রীতির কক্সবাজারকেই প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রায় সকল বক্তাই বলেন,ঢাকাতে শুধু রামুই নয়, পুরো  কক্সবাজার জেলার  প্রতিনিধিত্ব করছে দু’হাজার সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক অনুমোদিত এই সামাজিক সংগঠন।
গতকালের সফল এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব মোহাম্মদ আবুল কাসেম, সাবেক সচিব এম নাসির উদ্দিন, পরিবেশবিজ্ঞানী ডক্টর আনসারুল করিম, মনোবিজ্ঞানী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জাকিয়া আনাম, সাবেক সচিব এম নাসির উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক যুবাইর মোহাম্মদ আহছানুল হক, রামু উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান, সাবেক সচিব মাফরুহা সুলতানা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মোস্তফা কামাল, ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল মোমেন চৌধুরী প্রমুখ।
রামু সমিতি’র সভাপতি নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে কক্সবাজারের দুজন গুণীজনকে সম্মাননা জানানো হয়। ‘রামু সমিতি সম্মাননা’ প্রদান করা হয় কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির  মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবুল কাসেম ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য মনোবিজ্ঞানী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জাকিয়া আনামকে। কক্সবাজারের কৃতি সন্তান মোহাম্মদ আবুল কাসেমকে সম্মাননা প্রদান করেন রামু সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ ও সহ-সভাপতি সুজন শর্মা। রামুর কৃতি সন্তান জাকিয়া আনামকে সম্মাননা প্রদান করেন রামু সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাফরুহা সুলতানা ও সহযোগিতা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাবেয়া হক।
পবিত্র কোরআন হতে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক নিহত হওয়া রামু বিশিষ্টজন ও রামু সমিতি’র সদস্যদের স্বজনদের স্মরণে শোক প্রস্তাব আনা হয় ও তাঁদের স্মৃতিতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম। শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া। সুচনা বক্তব্যে রামু সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইমুল আলম চৌধুরী রামু সমিতি’র গতিশীল কর্মকান্ডে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক সচিব এম নাসির উদ্দিন বলেন, “রামু সমিতি ঢাকার বুকে পুরো কক্সবাজারেরই প্লাটফর্ম। কক্সবাজারের অর্জনের পাশাপাশি সমস্যাগুলিকে নিয়েও এই সমিতি’র সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত দেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিষফোঁড়া হয়ে উঠা ‘রোহিঙ্গা ইস্যু’ তে রামু সমিতি’র বলিষ্ঠতা কামনা করেন তিনি।
পরিবেশবিজ্ঞানী ডক্টর আনসারুল করিম অতীতে কক্সবাজার সমিতির ব্যর্থতা’র কথা উল্লেখ করে রামু সমিতি’কে পুরো কক্সবাজারকেই ঢাকাতে প্রতিনিধিত্ব করতে বলেন। তিনি রামু সমিতি’র কার্যক্রমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রামু সমিতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
নবনির্বাচিত রামু  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, ঢাকাতে রামু সমিতি যেভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কাজ করে যাচ্ছেন তা অনুকরণীয়, শিক্ষনীয় এবং তিনি তাতে গর্বিত। ভবিষ্যতে রামু সমিতি রামু উপজেলাতে ও তাদের কার্যক্রম চালাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন ও সার্বিক সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান বলেন, গত বছর স্থগিত হয়ে যাওয়া রামু উৎসবের পর রামু সমিতি’তে যে বাঁধা এসেছিল তা কেটে গেছে এবং বিভিন্ন অপশক্তির রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে রামু সমিতি বলিষ্ঠ, নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই সমিতির প্রতিটি সদস্য নিজ উপজেলা রামু’কে ঢাকাতে প্রকৃতভাবে তুলে ধরতে সচেষ্ট ও সফল এবং তিনি নতুন কমিটির উপর পুর্ণাংগ আস্থা ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধিত অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব জনাব মোহাম্মদ আবুল কাসেম তাঁকে সম্মাননা জানানোতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রামু সমিতি’র যে কোন প্রয়োজনে কাছে থাকার আশ্বাস দেন। অপর সংবর্ধিত অতিথি মনোবিজ্ঞানী জাকিয়া আনাম রামু সমিতি’কে কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় যে কোন প্রয়োজনে রামু সমিতি’কে সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
রামু সমিতি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক সচিব মাফরুহা সুলতানা উপস্থিত সবাইকে রামু সমিতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান ও সংবর্ধিত অতিথিদের সম্মাননা জানাতে পেরে নিজেরাও সম্মানিত বোধ করছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
রামু সমিতি’র নতুন কার্যকরী কমিটি (২০১৯-২০২০)র সদস্যদের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে সভাপতি নুর মোহাম্মদ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। মোনাজাতের পর সবাই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে থাকা রামু সমিতি’র সহ সভাপতি সুজন শর্মা বলেন, নতুন কমিটির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রামু সমিতি অতীতের মতই গতিশীল কার্যক্রম পরিচালিত করবে যাতে ঢাকাস্থ রামুবাসীদের আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটে।
অনবদ্য, প্রাণবন্ত এই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রামু সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •