শাহীন মাহমুদ রাসেল:
কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। এই এলাকা ঘিরে অপরাধীদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের রহস্য জনক নিস্ক্রিয়তায় সাধারন মানুষ ও এলাকাবাসীরা অপরাধীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খরুলিয়া গরুর বাজারের পূর্বে মাদকসেবি ও বখাটের দখলে থাকে। রাতে হিন্দুপাড়া রাস্তার মাথা মাদক সেবীদের আড্ডা বসে। ফলে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা নিজের নিরাপত্তা ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। বখাটেরা মেয়ে যাত্রী দেখলেই অশালীন বাক্য বিনিময় করে থাকে। বিভিন্ন ক্রেতা-বিক্রেতার কাছে থাকা মোবাইল সেট, টাকা পয়সা, ব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগ ছিনিয়ে নেয়া ছিনতাইকারীদের নিত্যদিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছে। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ করলে থানায় যেতে বলেন। ছিনতাইকারীরা আটক কিংবা ছিনতাই হয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে বরাবরই নিরব থাকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় ওই এলাকায় বেপরোয়া হয়েছে ছিনতাইকারীরা। অভিযোগ রয়েছে, বটগাছ তলা পুকুর পাড়ে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পযর্ন্ত অবাধে চলছে জুয়ার আসর। এসব জুয়ার আসরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হয়। আর এসব জুয়ার আসর গুলোকে কেন্দ্রকরে খরুলিয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে ছিনতাইকারীদের সিন্ডিকেট।
হিন্দুপাড়া এলাকায় দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে গাজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, বাংলামদ সহ হরের রকম মাদকদ্রব্য ক্রয় ও সেবন চলছে। গাঁজার ধোয়ার গন্ধে সাধারণ মানুষদের চলাচল অসাধ্য হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাজারের পূর্ব পাশে ছিনতাইকারীরা, মাদকব্যবসায়ী, মাদকসেবি ও বখাটেদের দখলে চলে যায়। এদের অত্যাচারে বাজারে আসা লোকজন ও শিক্ষার্থীদের কষ্টসাধ্য এবং ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। ছিনতাইকারীরা ও মাদকব্যবসায়ীরা অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি অকথ্য ভাষায় গালা-গালি করে মোবাইল, টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। অনেক সময় অপরিচিত যাত্রী ও লোকজন দেখলে বাজারের উপর জনসম্মুখে টানা হেচড়া করে মাদকাশক্ত ও বখাটেরা। স্থানীয়রা নিরাপত্তার দায়িত্বের কথা বললেও বেশীরভাগ সময় দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলে যায়।
এসব অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক ঐতিহ্য বাহি খরুলিয়া বাজারের যাত্রী ও ক্রেতা-বিক্রেতার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিন্তের দাবী জানিয়ে এই এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকারের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, আমরা খরুলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ সকল অপরাধী কর্মকান্ড প্রতিহত করার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ইতি মধ্যে মাদকের গডফাদার লিয়াকতকে ধরেছি। এখান কার মানুষের সহযোগিতা পেলেই বাকি অপরাধগুলো খুব তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হবে।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •