– শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন

বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী বেশ আলোচিত একটি বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা সংকট। এটি প্রকট আকার ধারণ করেছে ২০১৭ সাল থেকে। যখন মায়ানমার বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিরা নির্যাতিত হয়। বসত হারা হয়। অত্যাচার তীব্র হলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে ডুকে পড়ে। বাংলাদেশ তাদের কে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে মানবতার এক দৃষ্টান্ত মূলক ভূমিকা রেখেছে। সবকিছু ঠিক আছে! এবার একটু ভিন্নভাবে বিষয়টা দেখা যাক!

মানবতা! হ্যাঁ, মানবতা দেখিয়ে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কে স্থান দিয়েছে। তবে এখন দেখার বিষয়, তা আমাদের জন্য কতটা উপকার হলো? প্রথমত, আমিও রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলেছিলাম। লেখালেখিও করেছি কমবেশি। কিন্তু আজ কিছুটা অপরাধ বোধ করছি! কারণ, তাদের কারণে আমার মাতৃভূমির যে অবনতি, তা আজ আমার বিবেক কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে! আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের মধ্যে যদি কোন অকৃতজ্ঞ জাতি থেকে থাকে, তাহলে রোহিঙ্গারা হবে এক নাম্বার। যাদের কে আমরা স্থান দিয়েছি, তারাই এখন প্রতিনিয়ত হুমকি দেয় ক্যাম্পে কর্মকর্ত বাঙ্গালীদের! সবখানে চুরি-ডাকাতি, নৈরাজ্য জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এইসব অকৃতজ্ঞ রোহিঙ্গারা! ক্যাম্পে চাকুরীজীবীরা আজ নিরাপদ নয়, পুলিশ -প্রশাসন নিরাপদ নয়, বিদেশি নাগরিক বা সাংবাদিকরা নিরাপদ নয়, রোহিঙ্গা কর্তৃক যৌন হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে কর্মরত আমার দেশের নারীরা! তাহলে কিছুদিন পর যে আমরা নিরাপদে থাকতে পারবো, তার কতটা নিশ্চয়তা আছে??

বর্তমান জরিপ অনুসারে এখন অলরেডি এক লক্ষ’র চেয়ে বেশি বাচ্চা জন্মগ্রহণ করেছে। আরো প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার মতো নারী প্রেগন্যান্ট। এমনিতে আমাদের দেশ আয়তনে ক্ষুদ্র। তার মধ্যে জনবহুল হিসেবে বেশ সমালোচিত। এবার একটু ভেবে দেখেন, এভাবে যদি রোহিঙ্গা জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে কেমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হবে আমাদের?? শুধু তাই নয়! কয়দিন পর যখন দেশি/ বিদেশি সংস্থা (এন.জি.ও) গুলো লেলিয়ে দিয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে, তখন কে বহণ করবে এদের দায়ভার? বাংলাদেশের সামর্থ্য আছে বহন করার? যেখানে আমার দেশের নারী শ্রমিক এর দিনমজুরি ২৩৫ টাকা! যেখানে আমার দেশের নাগরিক অর্থসংকট এর কারণে বা দারিদ্র্যতা দূর করতে সাগরপথে প্রাণ হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত! নেই কোন লাশ এর খবর! চলছে পরিবার এর আহাজারি! তাহলে কি মনে করেন, তাদের (রোহিঙ্গা) দায়ভার বহন করা বাংলাদেশ এর পক্ষে সম্ভব?? অবশ্যই না! মনে রাখতে হবে, বিশ্ব কখনো আজীবন তাদের খরচ বহন করবেনা! একদিন একদিন ঠিকই ছেড়ে দিবো!
তখন বাংলাদেশ না পারবে তাদের কে দেশে ফিরিয়ে দিতে, না খাওয়াতে! ফলে, ক্ষুধার্ত পেট তো আর আইন মানেনা! সুতরাং যা করার (চুরি, ডাকাতি, খুন-রাহাজানি, পকেটমার ইত্যাদি) তাই করবে! তখন কি অবস্থা হবে দেশের?
কিছুদিন আগে যখন প্রত্যাবর্তন এর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যেদিন কার্যকর করবে, ওইদিন তারা আন্দোলনে নেমেছে তাদের দেশে ফিরে যাবেনা! তাহলে কি সামনে কখনো তারা ফিরে যাবে বলে আশা করা যায়? মনে হচ্ছে না…! শুধু তাই নয়! রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন অস্ত্র প্রশিক্ষণ চলে প্রতিনিয়ত এবং তারাই একটা সময় দেশ কে লুটে খাবে। দেশে কর্তৃত্ব করার জন্য তৎপর হয়ে উঠবে! এটাই বাস্তবতা! কারো অস্বীকার করার সামর্থ্য নাই। কারণ, অতীত ইতিহাস এটাই বলে! ইংরেজরা ব্যবসার কাজে এসে প্রায় দু’শ বছর ভারতবর্ষ শাসন করেছে! সুতরাং, এই বিষয়গুলো আমাদের মনে রাখতে হবে!
তাছাড়া, সর্বপ্রথম এবং সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, হচ্ছে এবং সামনে আরো হবে চট্টগ্রাম বিভাগের মানুষ! পক্ষান্তরে, অর্জন করা স্বীকৃতি “মানবতার মা” সবার কাছে হয়ে যাবে “মানবতাহীন মা”! কারণ, তাদের বর্বরতা দেখে মানুষের মুখে মুখে সমালোচনা হবে।
অতএব, মেনে নিতে হবে ওই স্বীকৃতি আমাদের দেশ কে এগিয়ে নেয়নি বরং অবনতির দিকে ধাবিত করেছে! যেটা সময় তার গতীতে প্রমাণ করে দিবে!
অনেকে হয়তো বলতে পারেন, রোহিঙ্গা আসার কারণে বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে। সেটা ঠিক! তবে মনে রাখতে হবে, “ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহৎ স্বার্থ ত্যাগ করতে নেয়!”

পরিশেষে, রোহিঙ্গাদের যতদ্রুত সম্ভব মায়ানমারে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অন্যথায় দেশ কিংবা রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা হারিয়ে যাবে অতল গহ্বরে।


শাহরিয়ার মোহাম্মদ ইয়ামিন। এইচএসসি ২য় বর্ষ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •