ঈদগাহ সংবাদদাতা :

বাদী পক্ষের লোকজনের যৌতুক দাবী, মারধর এবং সালিশের নামে ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আঃলীগ সভাপতি মনজুর আলমের কু- প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ইসলামপুর ইউনিয়নের বাঁশকাটা গ্রামের হতদরিদ্র কৃষকের কন্যা নববধু  বুলবুল আক্তারের (২০) সংসার ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম ঘটেছে। দাম্পত্য জীবন ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গৃহবধু বুলবুল আক্তার। ১৩ মে সোমবার সন্ধ্যায় ঈদগাঁও প্রেস ক্লাবে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী বুলবুল আক্তার।

লিখিত বক্তব্য তিনি দাবী করেন, ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ইসলামী শরীয়া মোতাবেক ৩ লক্ষ টাকা দেনমোহর সাব্যস্ত পূর্বক ইসলামপুর ইউনিয়নের ধর্মের ছড়া গ্রামের মোহাম্মদ শফির ছেলে নুরুল আবছারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন উল্লেখিত বুলবুল আক্তার। বিয়ের মাস খানেকের মাথায় ২০ হাজার টাকা যৌতুক দাবী করে বসে স্বামী নুরুল আবছার। ভবিষ্যত সুখের আশায় গরীব পিতামাতার অপারগতা সত্বেও ধারকর্জ করে স্ত্রী বুলবুল স্বামীর হাতে তুলে দেয় নগদ ২০ হাজার। স্বামীর হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার মাস খানেক পর স্বামীরুপী পাষন্ড আবছার স্ত্রী বুলবুলকে তার বাপের বাড়ী থেকে আবারো ৩০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে বুলবুল অপারগতা প্রকাশ করে এবং শেষতক বেধড়ক মারধর পূর্বক স্ত্রী বুলবুলকে বাড়ী ছাড়া করে। যৌতুকের জন্য মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। অসহায় বুলবুল আক্তার সমাজের বিভিন্ন জনের কাছে ধর্ণা দিয়েছে ন্যায় বিচারের আশায়।

বুলবুল আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ন্যায় বিচারের আশায় তিনি বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মনজুর আলমকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। বিচার করে দেওয়ার কথা বলে বুলবুল আক্তারকে মনজুর চেয়ারম্যান তার বাসায় যেতে বলে। সরল বিশ্বাসে বুলবুল মনজুরের বাসায় গেলে তিনি ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলেন এবং প্রস্তাব দেন যে, প্রথমে তার সাথে কক্সবাজার বেড়াতে যেতে হবে। কুপ্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে বুলবুল মনজুর চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চলে আসে। পরদিন বুলবুল আক্তার বাদী হয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে দুই পক্ষকে নোটিশ জারি করেন ইনচার্জ।

ইতিমধ্যেই মনজুর চেয়ারম্যানের কাছে বিচার দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার স্বামী নুরুল আবছার এবং এধরনের লম্পট ব্যক্তির নিকট বিচার দেওয়ার কারণে তার স্বামী তাকে পুণরায় ঘরে তুলে আনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমতবস্থায়, দাম্পত্য জীবন পুনরায় ফিরে পেতে সহায়তা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •