cbn  

ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
রামুর কাউারখোপ ইউনিয়নের এক মেম্বারসহ প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে ভয়াবহ পাহাড় কাটার মামলায় এজাহারভুক্ত সব আসামী বাদ দিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) প্রদান করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা। নতুনভাবে চার্জশীটভুক্ত করা হয়েছে ২ জনকে। যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটার অভিযোগ, তাদের ‘সাধু’ বানিয়ে নতুন ২ জনকে অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। নিজেদের দায়ের করা মামলার এজাহার ও চার্জশীটে এমন ফারাকে বিস্ময় প্রকাশ করছে স্থানীয়রা।
গত ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারী রামুর কাউয়ারখোপ উখিয়ারঘোনায় এস্কেভেটর দিয়ে ভয়াবহ পাহাড় কর্তনের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার অফিস। এ সময় ঘটনায় জড়িত স্থানীয় হাবীবুল্লাহ মেম্বারসহ সবাই পালিয়ে গেলেও এস্কেভেটরটি জব্দ করে অভিযানকারীরা। এ ঘটনায় সহকারী পরিচালক (তৎকালীন) সরদার শরীফুল ইসলাম বাদি হয়ে পরের দিন (২৫ জানুয়ারী) বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬খ ধারা লংঘন করায় এই আইনের ১৫ (১) টেবিল ক্রমিকের ৫ ধারার অপরাধে রামু থানায় মামলা করেন। যার থানা মামলা নং-২৪। জিআর-২৪/১৭। মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন- টিলাপাড়ার ছালেহ আহমদের ছেলে মো. হাবীবুল্লাহ মেম্বার (৩৫), তার ভাই সরওয়ার কামাল কাজল (২৮) ও মৃত নিরঞ্জন বড়ুয়ার ছেলে সুরেশ বড়ুয়া (৫০)।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের ইন্সপেক্টর (তৎকালীন) ও মামলার তদন্তকর্মকর্তা মো. মুমিনুল ইসলাম এজাহারভুক্ত ৩ আসামী বাদ দিয়ে নতুন ২ জনের নামে ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র (চার্জশীট) প্রদান করেন। যেটি রামুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে গত ৫ মার্চ গৃহিত হয়।
চার্জশীটে অন্তর্ভুক্ত করা দুইজন হলেন- উখিয়ারঘোনা টিলাপাড়ার মো. জাকারিয়ার ছেলে বায়তুর রহমান জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওমর আলী (৫০) ও মো. জাকির হোসেনের ছেলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন (৩৩)।
মামলার এজাহারে বাদি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, উখিয়ারঘোনার কর্তিত পাহাড়টি সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২০/৩০ ফুট উচু পাহাড়ের ৩/৪ শতক জায়গা কেটে সমতল করা হয়েছে। ফলে পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনায় জড়িতরা চিহ্নিত পাহাড়খেকো। মেম্বার হাবিবুল্লাহ নিজেই পাহাড় কাটার কাজে নেতৃত্ব দেন। হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে অনেকবার পাহাড়কাটার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ফৌজদারী কার্যবিধি-১৬১ ধারা মোতাবেক ৫ জনের জবানবন্দিতে স্থানীয় ইমরুল কাদের ও মিজানুর রহমান নামে দুই ব্যক্তি হাবিবুল্লাহ মেম্বারকে স্পষ্ট দোষারোপ করেছেন। তারা বলেছেন, হাবিবুল্লাহ মেম্বার ক্ষমতার দাপদ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে। তার নেতৃত্বে ভয়ংকর পাহাড় কাটা ও পাহাড় কেটে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করা হয়। হাবিবুল্লাহ মেম্বারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ অনেক মামলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক কামরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ঘটনার সময় সাক্ষিরা যে রকম সাক্ষ দিয়েছিল, তদন্তকালে হয়তো ভিন্নতা পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাই সে বিষয়ে ভালো জানবেন। চার্জশীট আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। তবে, আদালত চাইলে পূণঃতদন্তের আদেশও দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন পরিবেশের এই কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •