বার্তা পরিবেশকঃ

বিগত কয়েকদিন ধরে ককসবাজারের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাকমারকুল মাদ্রাসা নিয়ে প্রকাশিত নানা সংবাদ,বিবৃতি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশিত হওয়ায় আমার সম্বন্ধে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে। বিধায় সকলের অবগতির জন্য নিম্মবর্ণিত বিবৃতি পেশ করছি।
বিগত-২৭/০৪/২০১৯ইং তারিখে মাদ্রাসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য স্থানীয় ব্যক্তি জালাল আহমদের বাড়িতে এলাকার কিছু মানুষ মিলিত হন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে আহ্বান করলে আমি সেখানে উপস্থিত হই। উক্ত সভায় মাদ্রাসার মজলিসে শুরা, মজলিসে আমেলা, মজলিসে এলমী পূণ:গঠন এবং বিভিন্ন পদবী পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। যা মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন বিষয় হওয়া এবং উক্ত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আমাদের এখতিয়ার বহির্ভুত কাজ বিধায় বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ তথা মজুলসে শুরার নিকট পেশ করার জন্য মুহতামিম সাহেবের নিকট প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিগত ২৯/০৪/১৯ইং তারিখে মুহতামিম সাহেব বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত হয়ে ০১/০৫/১৯ইং তারিখে আমার নিকট পত্র প্রেরণ করেন। এতে মাদ্রাসা রমজান উপলক্ষে বন্ধ এবং কালেক্শনে ব্যস্ত থাকা জনিত কারণে ২০ রমজানের ভিতর মজলিসে শুরা আহ্বান করা অসম্ভব এবং রমজানের পর পরামর্শক্রমে শুরা অধিবেশন আহ্বান করে তথায় উক্ত পরামর্শসমূহ উপস্থাপন করবেন মর্মে আমাকে অবহিত করেন।
কিন্তু উক্ত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদে ব্যাপক পরিবর্তন ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম নিয়োগ এবং অফিস কক্ষে তালা ঝুলানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে অত্র মাদ্রাসায় সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। উক্ত সভায় এ ধরনের কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। আমি এ মিথ্যাও ভিত্তিহীন সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বস্তুতঃ অত্র মাদ্রাসার জমিদাতা আমার দাদা মরহুম মুহাম্মদ আলী সিকদার ওয়াক্ফ দলিলে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাও: ফয়েজুল্লাহ সাহেবকে মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত করে থাকলেও কমিটি কর্তৃক মাদ্রাসাটি পরিচালিত হবে মর্মে ঘোষণা দেন। এখানে তিনি তার ওয়ারিশদের মধ্যে কাউকে মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত করে যাননি। তখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি কমিটি কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে। এখানে স্থায়ী মুতাওয়াল্লী গ্রুপ বলতে কোন পক্ষ অতীতেও ছিল না এখনও নেই। মুতাওয়াল্লী দাবীদাররা শুধুমাত্র এজন্যই মুতাওয়াল্লী দাবী করে আসছেন যে, তাদের পূর্ব পুরুষ(বাপ-দাদা) জমিদান করেছেন মর্মে। অথচ,তিনি ওয়ারিশদের মধ্যে কাউকে আইনগত মুতাওয়াল্লী বানিয়ে যাননি। অত্র মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড তথা মজলিসে শুরাই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী যারা মুতাওয়াল্লী দাবী করে আসছেন তারা প্রকৃতপক্ষে পারিভাষিক বা আইনগত মুতাওয়াল্লী নন। সুতরাং মুতাওয়াল্লীর দোহাই নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে কোন ধরণের হস্তক্ষেপ অত্র প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ও শৃঙ্খলা বিরোধী কার্যকলাপ বলে বিবেচিত হবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরস্পর কাঁদা ছোড়াছুড়ি পরিহার করে মাদ্রাসার বর্তমান প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানের  উন্নতি ও অগ্রগতিতে অগ্রণি ভুমিকা পালন করার জন্য এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ করছি।

নুরুল ইসলাম সিকদার

চেয়ারম্যান
চাকমারকুল ইউনিয়ন পরিষদ, রামু, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •