সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও:
চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে নারী শিশু সহ ৪ জনকে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদেরকে ঈদগঁার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার ইফতার আগ মুহুর্তে ইউনিয়নের পূর্বপাড়া ৬নং ওয়ার্ড দরগাহ পাড়া গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনায় আহতরা হলেন মৃত হাজী মোহাম্মদ হোছাইনে পুত্র মনিরুল ইসলামের ৭ মাসের অন্তসত্বা স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (২৮) তারই পুত্র মোবারক হোছাইন (১৩), কন্যা মিশকাতুল জান্নাত তাবাচ্ছুম (১০), মুনতাহা তাসরিন নূরী (৭)।
তাদের মধ্যে অন্তসত্তা স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
গুরুত্বর আহত মনোয়ারা বেগমের স্বামী মনিরুল ইসলাম জানায়, তার ছোট ভাই নুরুল আবছারসহ অপরাপর ভাইদের সাথে পারিবারিক ভিটে জমির বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে রবিবার সন্ধ্যায় ইফতারের আগে তার পুত্র মোবারক হোসেনকে গালিগালাজ করে মারধর করেন নুরুল আবছার। তার শোরচিৎকারে মা মনোয়ারা বেগম এগিয়ে আসলে নুরুল আবছারের ভাই নুরুল হুদা, নুরুল আজিম ও অবিবাহিত বোন তসলিমা লাঠি সোটা নিয়ে মনোয়ারা বেগমকে ব্যাপক মারধর করে। মার চিল্লাচিল্লিত কন্যা তাবাচ্ছুম, নূরী এগিয়ে আসলে তাদেরকেও মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে তারা মাঠিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা এসে তাদেরকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম ইফতারের পর বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী পুত্র কন্যাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে অন্তসত্তা স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ঈদগঁার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মনিরুল ইসলামের অভিযোগ, পারিবারিক বসত ভিটা নিয়ে অভিযোক্ত ভাইদের সাথে মাসাধিককাল ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি বর্তমানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট বিচারাধিন।
অপরদিকে চেয়ারম্যানের শালিসী বৈঠকে বিষয়টির কোন সুরাহা না হওয়ায় গত ৬ মে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ইউএনও নুরুদ্দীন মোহাম্মদ শিবলি নোমান বিষয়টি আমলে নিয়ে তাৎক্ষনিক চকরিয়া থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার এস.আই. মফিজুর রহমানের নিকট ঘটনাটি তদন্তাধিন রয়েছে।
মনিরুল ইসলাম আরো জানায়, অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তার পরিবারের উপর নেমে এসেছে নির্যাতন। ভাই নুরুল আবছার ইউনিয়ন আনসার কমন্ডার হওয়ায় আইনকে তোয়াক্কা করছে না। বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। তিনি ঘটনাটি তাৎক্ষনিক ওয়ার্ড মেম্বার ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •