cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাঁকখালী নদীর রামু উপজেলার দক্ষিণ চাকমারকুল নতুন চরপাড়ার (ফুঁয়ারচর) সরকারি ১০ একর জমি থেকে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে আবারও বালি এবং মাটি উত্তোলন করছে জিয়াবুল সওদাগরের নেতৃত্বে বালিদস্যু সিন্ডিকেটটি। গত বৃহস্পতিবার ৯ মে রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেয়ার এক দিনের ব্যবধানে আবারও পুরোদমে উত্তোলন শুরু করেছে চক্রটি। এতে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী নদীর পাড় থেকে এভাবে বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধের দাবী জানিয়েছেন। তবে রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই স্পট থেকে বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে আজ (শনিবার) আবারও বালি উত্তোলনের বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, রামু উপজেলার দক্ষিণ চাকমারকুল নতুন চরপাড়ায় (ফুঁয়ারচর) বাঁকখালী নদী তীরের প্রায় ১০ একরের সরকারি জমির বালি ও মাটি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন চাকমারকুলের মিয়াজীপাড়ার মৃত মোজাহেরুল হকের পুত্র জিয়াবুল সওদাগর। দিনে-রাতে প্রকাশ্যে এসব মাটি ও বালি স্কেভেটর দিয়ে কেটে নেয়া হচ্ছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২০/২৫টি পিকআপ ও ট্রাকে করে এসব মাটি ও বালি বিক্রি করা হয়। মাটি ও বালি উত্তোলনের ফলে এলাকার মসজিদ, বসতঘর, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের খুঁটি, বেড়িবাঁধ, সাঁকোসহ বিস্তীর্ণ কৃষি জমি ধ্বসে পড়ছে। এতে এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসী প্রশাসনকে অভিযোগ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়না। উল্টো এলাকাবাসীকে মারধর ও বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হয়। প্রতিবাদি এলাকাবাসীকে ঠেকাতে জিয়াবুল সওদাগরের পুত্র জোবায়েরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনীও গঠন করা হয়েছে। ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর পাহারায় এলাকাবাসীর বাধা উপেক্ষা করে সেখানে দিনে-রাতে বালি ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসী আরও জানান, এক সময় জিয়াবুল সওদাগরের সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না। কিন্তু গত ৫ বছরে সরকারি চরের মাটি ও বালি বিক্রি করে এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এমনকি ওই চর এলাকাতেই বিপুল পরিমান জমি কিনেছেন।

সূত্র জানায়, সরকারি জমির প্রায় ১০ একরের মতো চরে বালি ও মাটি উত্তোলন করে জিয়াবুল সওদাগরের সিন্ডিকেট। চরের ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত গভীর করে বালি ও মাটি কেটে নেয়া হয় স্কেভেটরের সাহায্যে। প্রতি বছর সেখান থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ ফুট বালি উত্তোলন করা হয়। তৈরী করা হয় পুকুরের মতো গর্ত। পরে বর্ষা মওসুমে তা আবারও ভরাট হয়ে যায়। এভাবে গত ৫ বছরে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ওই চর থেকে প্রায় ৩ কোটি ফুট বালি বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সিন্ডিকেটটি। সূত্রটির দাবী, ওই টাকার একটি বড় অংশ ভাগবাটোয়ারা হয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে। যার কারণে কোটি কোটি টাকার বিপরীতে সরকারি কোষাগারে জমা পড়েনি একটাকাও।

রামু ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাঁকখালী নদী তীরের ওই এলাকায় প্রায় ২৯টি সরকারি খাস দাগের আওতায় প্রায় ১৫ একর সরকারি জমি রয়েছে। আর সেখান থেকে প্রায় ১০ একরের মতো চর এলাকার বালি ও মাটি কাটা হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে ওই চরটি কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি। আর এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার ৯ মে রামু উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইলা চৌধুরী অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে বালি উত্তোলন বন্ধ করে দেন। কিন্তু তার নির্দেশ অমান্য করে গত শনিবার সকাল থেকে আবারও বালি এবং মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন জিয়াবুল সওদাগরের লোকজন।

জিয়াবুল সওদাগরের ম্যানেজার পরিচয়ে শফি বলেন, ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বালি ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব প্রশাসনের সাথে কথা বলেই বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আপনাদের সমস্যা কি।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •